জেড নিউজ, ঢাকা
প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য এক নারীকে ইতালিতে পাঠানোর অভিযোগে সংঘবদ্ধ মানবপাচার ও ভিসা জালিয়াতি চক্রের সাত সদস্যকে গ্রেফতার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। এ ঘটনায় গুলশান থানায় মানবপাচার ও অভিবাসী চোরাচালান প্রতিরোধ ও দমন আইনে মামলা করা হয়েছে। সাতজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন- মো. বেলায়েত হোসেন, নাজমুল হাসান, মেহেদী হাসান, মো. সোলাইমান সুমন, ফজলে রাব্বী, মো. তৌহিদুর রহমান ও কাওসার হোসেন।
সিআইডি জানায়, সোমবার রাজধানীর গুলশান-১ এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে ৫৬টি পাসপোর্ট, বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের নামে ব্যবহৃত ১৫৩টি সিল, একটি এম্বোস সিল, তিনটি সিপিইউ, একটি ল্যাপটপ ও নগদ ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা জব্দ করা হয়।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) সিআইডির অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব এ তথ্য জানান। সিআইডির ওই কর্মকর্তা জানান, ভুক্তভোগী নারীর স্বামী দীর্ঘদিন ধরে ইতালিতে বসবাস করছেন। স্বামী ও চার সন্তানকে নিয়ে ইতালি যাওয়ার উদ্দেশ্যে তিনি ইতালির দূতাবাসে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও পাসপোর্ট জমা দেন। পরে পাসপোর্ট নবায়নের প্রয়োজন হলে দূতাবাসের বাইরে আসামি নাজমুল হাসানের সঙ্গে তার পরিচয় হয়।
নাজমুল তাকে দ্রুত পাসপোর্ট নবায়ন ও ইতালির ভিসা পাইয়ে দিতে সক্ষম বলে ওই নারীকে গুলশানের একটি ট্রাভেল এজেন্সিতে নিয়ে যান। সেখানে তাকে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান বেলায়েত হোসেনের সঙ্গে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হয়। অভিযুক্তরা ইতালির ভিসা করে দেওয়ার আশ্বাস দিয়ে ভুক্তভোগীর সঙ্গে আর্থিক চুক্তি করে। পরে বিভিন্ন সময়ে তার কাছ থেকে মোট ৪ লাখ ৪০ হাজার টাকা আদায় করে এবং কিছু সময়ের জন্য তার পাসপোর্ট নিজেদের কাছে রেখে দেয়।
পরবর্তীতে ভুক্তভোগীর স্বামী ইতালি যাওয়ার জন্য বিমান টিকিট কাটেন। কিন্তু সন্তানদের নিয়ে হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে ইমিগ্রেশন করতে গেলে কর্মকর্তারা জানান, তার পাসপোর্টে থাকা ইতালির ভিসা ব্যবহার করে এরই মধ্যে গত ২৪ এপ্রিল অন্য এক নারী ইতালি চলে গেছেন।
এ ঘটনায় হতবাক হয়ে ভুক্তভোগী সিআইডির মানবপাচার শাখায় অভিযোগ করেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়ার পর অভিযান চালিয়ে চক্রটির সদস্যদের গ্রেফতার করা হয়।
সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে জানা যায়, চক্রটি বিদেশে যাওয়ার আগ্রহীদের টার্গেট করে উন্নত জীবনের প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল পরিমাণ অর্থ আদায় করতো। পরে কৌশলে তাদের পাসপোর্ট নিজেদের হেফাজতে রেখে প্রকৃত পাসপোর্টধারীর পরিবর্তে অন্য ব্যক্তিকে বিদেশে পাঠানোর ব্যবস্থা করতো। জব্দ হওয়া ৫৬টি পাসপোর্ট ও ১৫৩টি বিভিন্ন সিল থেকে ধারণা করা হচ্ছে, চক্রটি দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে ভিসা জালিয়াতি ও মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত।
সিআইডির তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রের মূলহোতা বেলায়েত হোসেন ২০১৬ সাল থেকে একই কৌশলে প্রায় ৩০ জনকে ইতালি পাঠানোর সঙ্গে জড়িত ছিলেন। এ ছাড়া একই ধরনের অভিযোগে ২০২৪ সালে বিমানবন্দর থানায় দায়ের করা একটি মামলায় তিনি বর্তমানে জামিনে রয়েছেন এবং মামলাটি বিচারাধীন।
অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার আবু তালেব জানান, জব্দ করা পাসপোর্ট, সিল ও কম্পিউটারের ফরেনসিক পরীক্ষা চলছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের আর্থিক লেনদেন, দেশি-বিদেশি সহযোগী এবং সম্ভাব্য আরও ভুক্তভোগীদের শনাক্তে তদন্ত অব্যাহত রয়েছে।
সিআইডি বিদেশে কর্মসংস্থান বা অভিবাসনের ক্ষেত্রে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে পড়ে যাচাই-বাছাই ছাড়া অর্থ বা পাসপোর্ট হস্তান্তর না করার আহ্বান জানিয়েছে। একই সঙ্গে সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রক্রিয়ায় বিদেশ যাওয়ার এবং ভিসা জালিয়াতি বা মানবপাচারের সন্দেহ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে জানানোর অনুরোধ করেছে।





