জেড নিউজ, ঢাকা:
রান্না বা শরবত তৈরির পর বেশিরভাগ মানুষই লেবুর খোসা ফেলে দেন। অথচ এই ফেলনা জিনিসটিই হতে পারে ত্বকের যত্নে দারুণ কার্যকর একটি প্রাকৃতিক উপাদান। বিশেষ করে হাঁটু, কনুই কিংবা পায়ের কালচে দাগ, খসখসে ভাব এবং জমে থাকা মৃত ত্বক দূর করতে লেবুর খোসা দিয়ে তৈরি ঘরোয়া স্ক্রাব বেশ জনপ্রিয়।
তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি কোনো ম্যাজিক সমাধান নয়। নিয়মিত ব্যবহার, সঠিক পদ্ধতি এবং ত্বকের ধরন বুঝে প্রয়োগ করলে উপকার পাওয়া যেতে পারে। সংবেদনশীল ত্বকে ব্যবহার করার আগে অবশ্যই সতর্ক থাকা প্রয়োজন।
কেন কার্যকর হতে পারে লেবুর খোসা?
লেবুর খোসায় রয়েছে ভিটামিন সি, সাইট্রিক অ্যাসিড এবং বিভিন্ন ধরনের অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট। এগুলো ত্বকের ওপর জমে থাকা মৃত কোষ দূর করতে সাহায্য করতে পারে। পাশাপাশি ত্বককে কিছুটা উজ্জ্বল দেখাতেও ভূমিকা রাখতে পারে। বিশেষ করে হাঁটু, কনুই বা গোড়ালির মতো জায়গায় যেখানে নিয়মিত ঘর্ষণের কারণে ত্বক কালচে হয়ে যায়, সেখানে এটি প্রাকৃতিক এক্সফোলিয়েটর হিসেবে কাজ করতে পারে।
যেভাবে তৈরি করবেন ঘরোয়া স্ক্রাব
এই স্ক্রাব বানাতে খুব বেশি উপকরণের প্রয়োজন নেই। একটি লেবুর ব্যবহৃত খোসা নিন। এর ভেতরের অংশে ১ চা-চামচ চিনি এবং এক চিমটি বেকিং সোডা ছড়িয়ে দিন। এরপর হাঁটু, কনুই বা পায়ের কালচে অংশে লেবুর খোসাটি দিয়ে হালকা হাতে ১ থেকে ২ মিনিট ম্যাসাজ করুন। ম্যাসাজ শেষ হলে মিশ্রণটি ত্বকে প্রায় ৩০ মিনিট রেখে দিন। এরপর পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। সপ্তাহে ২ থেকে ৩ বার ব্যবহার করলে ধীরে ধীরে ত্বকের রুক্ষভাব কমতে পারে।
তিন উপাদান একসঙ্গে যেভাবে কাজ করে
লেবুর খোসা ও রসে থাকা সাইট্রিক অ্যাসিড মৃত কোষ দূর করতে সহায়তা করে এবং ত্বককে তুলনামূলক উজ্জ্বল দেখাতে পারে। চিনি প্রাকৃতিক স্ক্রাবার হিসেবে কাজ করে। এর দানাদার গঠন ত্বকের ওপর জমে থাকা ময়লা ও মৃত কোষ আলতোভাবে তুলে ফেলতে সাহায্য করে। অন্যদিকে, বেকিং সোডা কিছুটা পরিষ্কার করার কাজ করলেও এটি ক্ষারীয় হওয়ায় অতিরিক্ত ব্যবহার ত্বকের প্রাকৃতিক সুরক্ষাব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে। তাই খুব অল্প পরিমাণে এবং নিয়ম মেনে ব্যবহার করাই ভালো।
ব্যবহারের আগে যেসব বিষয় খেয়াল রাখবেন
সব ধরনের ত্বকে এই স্ক্রাব সমানভাবে মানানসই নাও হতে পারে। আপনার ত্বক যদি খুব সংবেদনশীল হয়, তাহলে প্রথমে হাতের ভেতরের অংশ বা ঘাড়ের পাশে সামান্য লাগিয়ে পরীক্ষা করে নিন। ত্বকে কাটা, ক্ষত, র্যাশ, জ্বালাভাব বা সংক্রমণ থাকলে এই স্ক্রাব ব্যবহার করবেন না। এতে জ্বালা আরও বাড়তে পারে। ম্যাসাজ করার সময় খুব বেশি চাপ দিয়ে ঘষবেন না। অতিরিক্ত ঘর্ষণে ত্বক লাল হয়ে যেতে পারে বা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ব্যবহারের পর যদি তীব্র জ্বালা, লালচে ভাব বা অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দেয়, সঙ্গে সঙ্গে পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন এবং প্রয়োজনে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
শুধু স্ক্রাব নয়, ময়েশ্চারাইজারও জরুরি
স্ক্রাব ব্যবহারের পর ত্বক কিছুটা শুষ্ক হয়ে যেতে পারে। তাই ধোয়ার পর অবশ্যই ভালো মানের ময়েশ্চারাইজার বা নারিকেল তেল ব্যবহার করুন। এতে ত্বক নরম থাকবে এবং শুষ্কতা কমবে। হাঁটু বা কনুইয়ের কালচে দাগ অনেক সময় শুধু ময়লার কারণে হয় না। হরমোনজনিত সমস্যা, অতিরিক্ত ঘর্ষণ, স্থূলতা বা কিছু স্বাস্থ্যগত কারণেও এমন হতে পারে। তাই দীর্ঘদিনেও পরিবর্তন না এলে বা সমস্যা বাড়লে অবশ্যই একজন চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।





