ভারতে আবারও মোদি সরকারের স্বৈরাচারী চরিত্র নগ্নভাবে প্রকাশ পেল। লাদাখে জেন- জি’র নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভে যখন হাজারো মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরছিলেন, তখনই কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে দমনপীড়ন চালায় পুলিশ। এতে সংঘর্ষে অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হন ৫০ জনের বেশি।
পরে আন্দোলন ঠেকাতে একের পর এক তরুণকে গ্রেফতার করা হয়েছে। যার মধ্যে রয়েছেন চলমান আন্দোলনের প্রধান মুখপাত্র, বিখ্যাত পরিবেশবাদী ও শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুকও। লাদাখে বর্তমান পরিস্থিতির জন্য ওয়াংচুককে দায়ি করে গ্রেফতার করে মোদি প্রশাসন। আর এতে মোদির উপর আরো বেশি ক্ষোভে ফুসে ওঠে লাদাখের জেন-জি প্রজন্ম ।
লাদাখের তরুণরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর মোদি সরকারের প্রতিশ্রুতির ভাঁওতাবাজি মেনে নেবে না। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর কেন্দ্র লাদাখকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বাস্তবে সেখানে স্থানীয়দের জমি দখল, পরিবেশ ধ্বংস, চাকরির সুযোগ হ্রাস আর বঞ্চনার পাহাড় গড়ে উঠেছে। তবুও মোদি সরকার এসব সমস্যার সমাধান না করে উল্টো দমননীতি বেছে নিয়েছে।
মোদির শাসনামলে এটা নতুন নয়। কারন কাশ্মীর থেকে মণিপুর, এবার লাদাখ- যেখানেই মানুষ নিজেদের অধিকার দাবি করছে, সেখানেই রক্ত ঝরছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনে গুলি, টিয়ারগ্যাস, লাঠিচার্জ, গ্রেফতার- এটাই এখন মোদি সরকারের একমাত্র জবাব।
মোদি সরকারের এই স্বৈরাচারী আচরণ শুধু ভারতের ভেতরে নয়, আন্তর্জাতিক মহলেও তীব্র সমালোচনার জন্ম দিয়েছে। স্পষ্ট হয়ে গেছে— মোদির “নতুন ভারত” আসলে প্রতিবাদের উপর নিষেধাজ্ঞা, আর গণতন্ত্রের নামে স্বৈরতন্ত্রেরই নামান্তর ।
জেড নিউজ , ঢাকা ।



