spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

আখেরি চাহার শোম্বা কী? এই দিনে বিশেষ আমল নিয়ে যা জানা জরুরি

জেড নিউজ , ঢাকা :

 আখেরি চাহার শোম্বা কী? এই দিনে বিশেষ আমল নিয়ে যা জানা জরুরি

‘আখেরি চাহার শোম্বা’ আরবি ও ফারসি মিশ্রিত একটি শব্দগুচ্ছ। এরমধ্যে আরবি ‘আখেরি’ অর্থ শেষ আর ফারসি শব্দ ‘চাহার’ অর্থ চার এবং ‘শোম্বা’ অর্থ বুধবার।

অর্থাৎ, ‘আখেরি চাহার শোম্বা’ শব্দগুচ্ছের সম্মিলিত অর্থ দাঁড়ায়—শেষ বুধবার। মূলত, শব্দগুচ্ছটি দ্বারা হিজরি বর্ষের সফর মাসের শেষ বুধবারকে বোঝানো হয়।

বাংলাদেশসহ ভারতীয় উপমহাদেশ ও ইরানের ইসলাম ধর্মাবলম্বীরা দিনটিকে পবিত্র একটি দিবস হিসেবে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করে থাকেন। মূলত এর কারণ হলো রাসুল (সা.)-এর ওফাতের (ইন্তেকাল) আগে কিছুদিন তিনি অসুস্থ ছিলেন।

তবে সফর মাসের শেষদিকে এসে সেই অসুস্থতা থেকে একদিন নবীজি (সা.) কিছুটা আরোগ্য লাভ করেছিলেন। ওইদিন তিনি লোকেদের উদ্দেশে খুতবাও দিয়েছিলেন। তবে এরপর তিনি আবারও অসুস্থ হয়ে পড়েন এবং একপর্যায়ে নবীজির (সা.) ওফাত হয়।

সহিহ বুখারির একটি হাদিসে এ বিষয়ে বর্ণনা পাওয়া যায়।

রাসুল (সা.)-এর সহধর্মিণী আয়েশা (রা.) বলেন, যখন রাসুল (সা.) আমার ঘরে প্রবেশ করলেন এবং তার ব্যথা বেড়ে গেল, তখন তিনি বললেন, তোমরা এমন সাত মশক (চামড়ার তৈরি পানির পাত্র) যার মুখ এখনো খোলা হয়নি, তা থেকে আমার শরীরে পানি ঢেলে দাও। যেন আমি (সুস্থ হয়ে) লোকদের উপদেশ দিতে পারি। এরপর আমরা তাকে রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের আরেক সহধর্মিণী হাফসা (রা.)-এর একটি বড় গামলায় বসালাম। তারপর আমরা ওই মশক থেকে তার ওপর ততক্ষণ পর্যন্ত পানি ঢালা অব্যাহত রাখলাম, যতক্ষণ না তিনি তার হাত দ্বারা আমাদের ইশারা করে জানালেন যে, তোমরা তোমাদের কাজ সম্পন্ন করেছ। আয়েশা (রা.) আরো বলেন, নবীজি (সা.) আলাইহি ওয়াসাল্লাম লোকদের কাছে গিয়ে তাদের সঙ্গে জামাতে সালাত (নামাজ) আদায় করলেন এবং তাদের উদ্দেশে খুতবা দিলেন।

 

(সহিহ বুখারি, হাদিস : ২২৪৭)

এই হাদিসটি থেকে ওফাতের আগে সফর মাসে অসুস্থতা থেকে নবীজির (সা.) একদিন সুস্থ হওয়ার বিষয়টি প্রমাণিত হয়। তবে অনেকে দাবি করেন, রাসুল (সা.) যেদিন সুস্থ হয়েছিলেন, সেই দিনটি ছিল বুধবার। এ জন্য দিনটিকে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ দিন হিসেবে অনেকেই বিশেষ নামাজ পড়ার কথা বলে থাকেন। কেউ কেউ এই দিনে বেশি বেশি সদকা ও ভালো কাজ করার কথাও বলে থাকেন। কিন্তু এগুলোর ভিত্তি কতটুকু?

ইসলামিক স্কলার শায়খ আহমাদুল্লাহর মতে, প্রিয় নবী (সা.) সফর মাসের শেষের দিকে এসে সুস্থতা লাভ করেছেন। এটি সত্য হলেও সেই দিনটি কি বার ছিল, এমন কোনো সুনির্দিষ্ট বারের কথা নবীজি (সা.) বা সাহাবায়ে-কেরামদের থেকে বর্ণিত কোনো হাদিসে উল্লেখ নেই। অর্থাৎ বুধবারের এই দিনেই তিনি (নবীজি সা.) সুস্থতা লাভ করেছেন একথা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন, মনগড়া ও অপ্রমাণিত একটি বিষয়।

এ ক্ষেত্রে অনেকে দাবি করেন, সাহাবায়ে-কেরামরা নবীজির (সা.)-এর আরোগ্য লাভের দিনটিকে বিশেষভাবে উদ্‌যাপন করেছেন। তবে এটিরও কোনো ভিত্তি নেই বলে জানিয়েছেন শায়খ আহমাদুল্লাহ। জনপ্রিয় এই ইসলামিক স্কলারের ভাষ্য, নবীজির (সা.) আরোগ্য লাভের দিনটিকে সাহাবায়ে-কেরাম বিশেষভাবে উদ্‌যাপন করেছেন এটি সম্পূর্ণ অসত্য। এ বিষয়ে রাসুল (সা.) কিংবা হাদিসের বিভিন্ন গ্রন্থে কোনো ধরনের বিশুদ্ধ বর্ণনা নেই। এ ছাড়া দিনটি উপলক্ষে বিশেষ কোনো নামাজ বা আমলের কথা কুরআন-হাদিসে নেই। কাজেই ইসলামের নামে মনগড়া কোনোকিছু করলে তা বিদআতের অন্তর্ভুক্ত হবে।

মনে রাখতে হবে, রাসুল সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লাম বলেছেন, ‘কেউ আমাদের এই শরিয়াতে সংগত নয় এমন কিছুর অনুপ্রবেশ ঘটালে তা প্রত্যাখ্যান করা হবে (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৫১৭)।’

আরেকটি হাদিসে এসেছে, ‘যে ব্যক্তি (ধর্মীয় ব্যাপারে) বিদআত করবে বা বিদআতকারীকে আশ্রয় দেবে তার ওপর আল্লাহর ফেরেশতা এবং সকল মানুষের লানত (অভিশাপ)। কিয়ামতের দিন আল্লাহ তা’য়ালা তার কোনো ফরজ আমল এবং কোনো নফল কবুল করবেন না। (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৬২৯৯)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়