দেশের ব্যাংক খাতে বর্তমানে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জের নাম খেলাপি ঋণ। সর্বশেষ চলতি বছরের মার্চ শেষে দেশের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৪ লাখ ২০ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা। এর মধ্যে শীর্ষ ১০০ প্রতিষ্ঠানের কাছেই খেলাপি ১ লাখ ৮ হাজার ১৩২ কোটি টাকা। বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের বিশ্লেষণ বলছে- শীর্ষ ১০০ খেলাপির তালিকায় রয়েছেন এমন কিছু ব্যবসায়ী ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান, যারা বছরের পর বছর ঋণ নিচ্ছেন, কিন্তু পরিশোধ করছেন না। অনেক ক্ষেত্রে রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় থাকায় আইনেরও বাইরে থেকে গেছেন তারা।
শীর্ষ খেলাপির তালিকায় শিল্পগ্রুপ এস আলম এর ১০টি প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণ ৬১ হাজার ৬৫৩ কোটি টাকার মধ্যে খেলাপি ২৪ হাজার ১৪৩ কোটি টাকা।তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আরেক প্রভাবশালী ও বিতর্কিত শিল্পগ্রুপ বেক্সিমকো। গ্রুপের ২৪টি প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণ ২৬ হাজার ৬৩৯ কোটি টাকার মধ্যে খেলাপি ২৩ হাজার ৭০৭ কোটি টাকা।
তালিকায় আছে দেশের পুরোনো একটি আবাসন কোম্পানি। গ্রুপটির ১১ হাজার ১৬২ কোটি টাকা ঋণের ৬ হাজার ৩৫৪ কোটি টাকাই এখন খেলাপি।চতুর্থ অবস্থানে থাকা ক্রিসেন্ট গ্রুপের ৫টি প্রতিষ্ঠানের মোট ঋণ ৪ হাজার ৮৮৬ কোটি টাকার পুরোটাই খেলাপি। অ্যাননটেক্স গ্রুপের মোট খেলাপি ঋণের পরিমাণ ৪ হাজার ৩৩৯ কোটি টাকা।
ঋণ শীর্ষ খেলাপীর তালিকায় আছে কেয়া গ্রুপ, এফএমসি গ্রুপ, রতনপুর গ্রুপ, হাবিব হোটেল ইন্টারন্যাশনাল, সাদমুসা গ্রুপ, ডেলটা গ্রুপ, আব্দুল মোনেম লিমিটেড, ওয়েস্টার্ন মেরিন শিপইয়ার্ড, মাইশা প্রপার্টি, আরামিট গ্রুপ অ্যাপোলো গ্রুপ, নোমান গ্রুপ, আশিয়ান গ্রুপ ও অটবি।অর্থনীতিবিদরা জানান, ‘খেলাপি ঋণের ভয়াবহ পরিস্থিতির কারণে ব্যাংকগুলো তাদের মূলধনের ঘাটতিতে পড়ছে। ঋণ আদায় দ্রুত আদায় না হলে পুরো ব্যাংকিং ব্যবস্থা একটি মারাত্মক সংকটে পড়বে।
জেড নিউজ, ঢাকা।




