spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

জিয়াউর রহমানের দর্শনে বিএনপির উন্নয়নের অঙ্গীকার

কালাম আজাদ, সমন্বয়কারী, বিএনপি মিডিয়া সেল (রাজশাহী ও রংপুর বিভাগ)

ইতিহাস স্বাক্ষী দেয় আজকের এই দিনে প্রভাবশালী ব্রিটিশ অর্থনীতিবিদ এবং আধুনিক অর্থনৈতিক চিন্তার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তি উইলিয়াম স্ট্যানলি জেভন্সের জন্ম। তিনি অর্থনীতির ইতিহাসের উল্লেখযোগ্য বই থিওরি ওব পলিটিক্যাল ইকোনমি বইয়ের স্রষ্টা। এই বই ইতিহাসের বুদ্ধিবৃত্তিক অর্থনীতির প্রশ্নের দরজা অসাধারণভাবে প্রসারিত করে। ঠিক একই দিনে আধুনিক বাংলাদেশর অন্যতম চিন্তক, স্বাধীনতার ঘোষক শহীদ রাষ্টপ্রতি জিয়াউর রহমান বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) প্রতিষ্ঠা করেন; যেদি দেশের বহুদলীয় গণতন্ত্র, মানুষের ন্যায্য অধিকার কিংবা উন্নয়নের কথা বলে। বাস্তবে এর রূপরেখা নির্ধারণ করেই বিএনপি ৪৯ বছরে পা দিল। ১৯৭৮ সালের এই দিনে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। প্রতিষ্ঠার পর খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দলটি বাংলাদেশের রাজনীতিতে বড় শক্তি হিসেবে আত্মপ্রকাশ করে। ১৯৭৯ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ সাধারণ আসনের মধ্যে ২০৭টি আসনে জয়লাভ করে। প্রতিষ্ঠার মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে একটি রাজনৈতিক দলের এমন নির্বাচনী সাফল্য বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিরল ঘটনাই বটে।
বিএনপির রাজনীতির স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন, বহুদলীয় রাজনৈতিক ব্যবস্থার ধারণা এবং উৎপাদন ও আত্মনির্ভরতার অর্থনৈতিক দর্শন একটি বিশেষ ধারা বলা যেতে পারে। সেই ইতিহাসের সঙ্গে বগুড়ার সম্পর্ক অন্য জেলার চেয়ে আলাদা হওয়ারও যৌক্তির কারণ আছে। বগুড়ার বাগবাড়ীতে জন্ম নেওয়া জিয়াউর রহমানের হাতে গড়া দল বিএনপি। দীর্ঘদিন ধরে বগুড়ার রাজনীতিতে বিএনপির শক্তিশালী অবস্থানের পেছনে এটি একটি কারণ। তবে প্রধান কারণ দলটির জনসম্পৃক্ততা। এই অঞ্চলের মানুষ বিএনপি ধারণ করে। এই কারণে বিরাগভাজনেরও শিকার হতে হয়েছে আওয়ামী ফ্যাসিস্টের আমলে। নিচের ঘটনা তার একটি উদাহরণ হতে পারে।
২০০৪ সালে বগুড়ার শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে শহরের মোহাম্মদ আলী হাসপাতালের সাথে সংযোগের জন্য একটি প্রকল্প হাতে নেয় বিএনপি সরকার। প্রকল্পের নাম দেওয়া ‘শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সংযোগ সড়ক’।
সওজের তথ্য মতে, বগুড়ার রেলস্টেশন-সেউজগাড়ী-মোহাম্মদ আলী হাসপাতাল হয়ে শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজে সহজে যাতায়াতের সুবিধার্থে ওই সংযোগ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। তখন জমি অধিগ্রহণ, সড়কে মাটি কাটা, কার্পেটিংসহ মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ১৩ কোটি ৭০ লাখ ৬৮ হাজার টাকা। কিন্তু পরবর্তী সময়ে প্রকল্পটি ঝুলে যায়। পরে নাম প্রকাশ না করার শর্তে সওজের কর্মকর্তারা বলেন, প্রকল্প আটকে যায় ‘শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল সংযোগ সড়ক’ নামের কারণে। ২০২০ সালের পরে এই প্রকল্পের নাম পরিবর্তন করা হয়। নাম দেওয়া হয় ‘বগুড়া শহর থেকে মেডিকেল পর্যন্ত সংযোগ সড়ক’। অর্থা প্রকল্পের নাম থেকে ‘শহীদ জিয়াউর রহমান’ অংশ বাদ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কেটে যায় সময়। বেড়ে যায় খরচ। পরে ১৩ কোটি টাকার প্রকল্পে প্রায় ১৮০ কোটি টাকার উপরে খরচ হয়। এটি বৈষম্যের একটি ঘটনা মাত্র।
বলতে গেলে বগুড়ার যা কিছু উন্নয়ন তার অধিকাংশই বিএনপির হাতে। সঙ্গত কারণে মানুষের ভালোবাসাও রয়েছে দলটির প্রতি। এটি থাকারই কথা।
বগুড়ার বাহিরে দেশের প্রেক্ষাপটেই আসলে বিএনপির অবস্থান কেমন। সেই বিশ্লেষণও করা যেতে পারে। বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে বিএনপির জনভিত্তি বোঝার জন্য ১৯৯০-৯১ এবং ২০২৪-২৬ সময়কাল বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। ৯০ সালের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে স্বেরাশাসক এরশাদ সরকারের পতনের পর ১৯৯১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচনে বিএনপি ৩০০ সাধারণ আসনের মধ্যে ১৪০টি আসন পায়। বিএনপির ভোটের হার ছিল ৩০.৮১ শতাংশ, আর আওয়ামী লীগের ৩০.০৮ শতাংশ। ভোটের ব্যবধান ছিল মাত্র ০.৭৩ শতাংশ, কিন্তু আসনের হিসাবে বিএনপি সবচেয়ে বড় দল হয়ে সরকার গঠন করে। এই নির্বাচন বাংলাদেশের সংসদীয় গণতন্ত্রে প্রত্যাবর্তনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়। অর্থাৎ গণআন্দোলনের পর জনগণের সামনে যে রাজনৈতিক বিকল্পগুলো ছিল, তার মধ্যে বিএনপি নিজেদেরকে একটি গ্রহণযোগ্য বিকল্প হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে সক্ষম হয়।
২০০১ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপির ভোটের হার বেড়ে দাঁড়ায় ৪০.৯৭ শতাংশ এবং দলটি ১৯৩টি আসন পেয়ে একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করে। এই ফল বিএনপির নির্বাচনী জনভিত্তির একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ। প্রতিষ্ঠার মাত্র এক বছরের মধ্যে ১৯৭৯ সালের নির্বাচনে ২০৭টি আসন, ১৯৯১ সালে ১৪০টি, ২০০১ সালে ১৯৩টি এবং সর্বশেষ ২০২৬ সালের নির্বাচনে ২০৯টি আসন; এই ফলাফলগুলো দেখায়, বিভিন্ন রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপি বাংলাদেশের রাজনীতিতে দীর্ঘস্থায়ী একটি জাতীয় রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে টিকে থাকতে সক্ষম হয়েছে।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচন এই ধারাবাহিকতায় নতুন মাত্রা যোগ করেছে। নির্বাচন কমিশনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের নির্বাচনে বিএনপি ৪৯.৯৭ শতাংশ ভোট পেয়ে ২০৯টি আসনে জয়লাভ করে। ১৯৯০ এর গণআন্দোলনের পর ১৯৯১ সালে বিএনপি সবচেয়ে বড় দল হয়ে সরকার গঠন করেছিল; আবার ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালেও বিএনপি বড় জনসমর্থন নিয়ে সরকার গঠন করেছে। দুটি সময়ের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট অবশ্যই এক নয়। তবে দুটি ঘটনাই একটি বিষয় সামনে আনে; বড় রাজনৈতিক পরিবর্তনের পর জনগণ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়ার মতো একটি গ্রহণযোগ্য রাজনৈতিক শক্তি হিসেবে বিবেচনা করেছে।
প্রশ্ন হলো, আন্দোলনের পর জনগণ বিএনপিকে কেন বার বার চায়? এর উত্তর আসলে কী? একটি রাজনৈতিক দলের দীর্ঘস্থায়ী জনভিত্তি তৈরি হয় রাজনৈতিক পরিচয়, সংগঠন, নেতৃত্ব, জনগণের প্রত্যাশা এবং রাষ্ট্র পরিচালনার একটি গ্রহণযোগ্য ধারণার সমন্বয়ে। বিএনপির ক্ষেত্রে শহীদ জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক উত্তরাধিকার অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এর সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বাংলাদেশি জাতীয়তাবাদ, স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্ন, বহুদলীয় রাজনীতির ধারণা এবং উৎপাদন ও আত্মনির্ভরতার অর্থনৈতিক দর্শন।
জিয়ার ১৯ দফা কর্মসূচির দিকে তাকালে বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়। সেখানে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা, গ্রামীণ উন্নয়ন, বেসরকারি উদ্যোগকে উৎসাহ, প্রশাসনের বিকেন্দ্রীকরণ এবং যুব ও শ্রমজীবী মানুষের প্রয়োজন পূরণের মতো বিষয়গুলো গুরুত্ব পেয়েছিল। সময় বদলেছে, অর্থনীতির আকার বেড়েছে, প্রযুক্তি এসেছে, বৈশ্বিক বাজারের সঙ্গে বাংলাদেশের সম্পর্ক গভীর হয়েছে; কিন্তু মানুষের মৌলিক অর্থনৈতিক প্রত্যাশা বদলায়নি। মানুষ কর্মসংস্থান চায়, কৃষক উৎপাদিত পণ্যের ন্যায্য মূল্য চান, উদ্যোক্তা বিনিয়োগের নিরাপদ পরিবেশ চান, শিল্পের জন্য অবকাঠামো চান এবং তরুণরা দক্ষতা ও কাজের সুযোগ চান।
এই জায়গাতেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দল বিএনপির ৩১ দফার সঙ্গে জিয়ার অর্থনৈতিক দর্শনের একটি গুরুত্বপূর্ণ যোগসূত্র তৈরি করা যায়। ৩১ দফাকে রাজনৈতিক ক্ষমতা পরিবর্তনের কর্মসূচি হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। রাষ্ট্র সংস্কার, জবাবদিহি, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণ, অর্থনৈতিক পুনর্গঠন, কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি ও স্থানীয় সরকারের কার্যকারিতা; এসব বিষয়কে একটি সমন্বিত রাষ্ট্রচিন্তার মধ্যে দেখার সুযোগ রয়েছে। জাতীয় পর্যায়ে এই নীতিগুলো রাষ্ট্র পরিচালনার কাঠামোকে প্রভাবিত করতে পারে; আর স্থানীয় পর্যায়ে এগুলোর বাস্তব প্রয়োগ হতে পারে।
বগুড়ার অর্থনীতির দিকে তাকালে এই যোগসূত্র আরও স্পষ্ট হয়। বগুড়া উত্তরাঞ্চলের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কৃষি ও শিল্পভিত্তিক জেলা। জেলার খাদ্য, প্রকৌশল, কৃষিযন্ত্র, যন্ত্রাংশ এবং বিভিন্ন ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে স্থানীয় উদ্যোক্তাদের দীর্ঘদিনের অভিজ্ঞতা রয়েছে। জেলা প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, খাদ্য ও সংশ্লিষ্ট খাতে ১ হাজার ৪৭৫টি ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পে ২২ হাজার ১২৫ জন এবং প্রকৌশল ও সংশ্লিষ্ট খাতে ৯৭৮টি শিল্পে ৫৯ হাজার ২২০ জনের কর্মসংস্থানের তথ্য রয়েছে। এই পরিসংখ্যান প্রমাণ করে, বগুড়ার শিল্প অর্থনীতিতে এর অবদান কতোটুকু।
তবে এই শিল্পভিত্তির বড় সীমাবদ্ধতা হলো পরিকল্পিত সম্প্রসারণের সুযোগের অভাব। এই বাস্তবতায় বগুড়ায় প্রায় ৪০০ একর জমিতে নতুন শিল্পপার্ক স্থাপনের পরিকল্পনা বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। সরকারের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প উদ্যোক্তাদের বাড়তে থাকা চাহিদা পূরণের জন্য এই শিল্পপার্কের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। অর্থাৎ উদ্যোক্তা আছে, শিল্পের চাহিদা আছে, বিনিয়োগের সম্ভাবনা আছে; এখন প্রয়োজন পরিকল্পিত শিল্প অবকাঠামো। এই শিল্পপার্ক যদি শুধু জমি বরাদ্দের প্রকল্প না হয়ে বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানি, বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, সড়ক, রেল, অর্থায়ন, গবেষণা ও বাজার সুবিধাসহ পূর্ণাঙ্গ শিল্প ক্লাস্টারে পরিণত হয়, তাহলে বগুড়ার অর্থনীতিতে বড় পরিবর্তন আসতে পারে।
বগুড়াকে দেশের অন্যতম প্রধান লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং হাব এবং কৃষিভিত্তিক শিল্পাঞ্চল হিসেবে গড়ে তোলার যে পরিকল্পনার কথা বলা হয়েছে, সেটিও এই সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করে। বগুড়ার লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং খাত জাতীয় অর্থনীতিতেও বড় ভূমিকা রাখতে পারে।
এখানেই জিয়ার জন্মভূমি হিসেবে বগুড়ার বিশেষ তাৎপর্য তৈরি হয়। জিয়ার ১৯ দফায় কৃষি, উৎপাদন, আত্মনির্ভরতা, গ্রামীণ উন্নয়ন এবং বেসরকারি উদ্যোগকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। কয়েক দশক পর আজকের বগুড়ার অর্থনীতির প্রধান শক্তির জায়গাগুলোও অনেকাংশে একই-কৃষি, ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প, স্থানীয় উদ্যোক্তা, প্রকৌশল এবং উৎপাদন। তাই জিয়ার অর্থনৈতিক দর্শনের মূল ধারণাগুলোকে একবিংশ শতাব্দীর প্রযুক্তি, বাজার ও শিল্পনীতির সঙ্গে যুক্ত করার সুযোগ রয়েছে। জিয়ার সময়ের আত্মনির্ভরতা আজ হতে পারে স্থানীয় উৎপাদন ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বৃদ্ধি; কৃষি উন্নয়ন হতে পারে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্প; বেসরকারি উদ্যোগ হতে পারে এসএমই, স্টার্টআপ ও আধুনিক শিল্প; আর যুব উন্নয়ন হতে পারে দক্ষতা, প্রযুক্তি ও কর্মসংস্থানের সঙ্গে যুক্ত মানবসম্পদ তৈরি।
বগুড়ার কৃষিকে কৃষিশিল্পে রূপান্তর করার সুযোগও বিশাল। বিভিন্ন দুগ্ধজাত পণ্য, সবজি থেকে সংরক্ষিত ও প্রক্রিয়াজাত খাদ্য, ধরনের শিল্প গড়ে উঠলে কৃষক, উদ্যোক্তা এবং শ্রমিক তিন পক্ষই লাভবান হতে পারেন। কৃষিকে শিল্পের সঙ্গে যুক্ত করার মাধ্যমে গ্রামীণ অর্থনীতিতে নতুন কর্মসংস্থানও তৈরি হবে। এটি জিয়ার উৎপাদনমুখী অর্থনৈতিক দর্শনের আধুনিক প্রয়োগের একটি কার্যকর উদাহরণ হতে পারে।
বগুড়ার শিল্পায়নের সঙ্গে যোগাযোগ অবকাঠামোর বিষয়টিও সরাসরি যুক্ত। বিমানবন্দর, বিনিয়োগ, ব্যবসা, চিকিৎসা, পর্যটন ও দ্রুত যোগাযোগের অবকাঠামো এই বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বগুড়ায় নতুন শিল্পপার্ক ও বড় শিল্প ক্লাস্টার গড়ে উঠলে রেলভিত্তিক পণ্য পরিবহনের সুযোগ তৈরি করা গেলে উৎপাদন ব্যয় কমানো সম্ভব হবে। বগুড়ার সামগ্রিক অর্থনৈতিক করিডোরের অংশ হিসেবে বিমানবন্দর ও রেলযোগাযোগ দারুণ প্রভাব ফেলতে পারে। এটি শুধু সূচনা বিএনপির হাতেই হবে বলে আমাদের বিশ্বাস।
উন্নয়নের আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন হলো শিক্ষা ও স্বাস্থ্য। বগুড়াকে উত্তরাঞ্চলের একটি বড় অর্থনৈতিক কেন্দ্র করতে দক্ষ মানবসম্পদ তৈরি করতে হবে এবং উন্নত স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়, কারিগরি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, গবেষণাকেন্দ্র এবং শিল্পপ্রতিষ্ঠানের মধ্যে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। স্থানীয় শিল্পের যে দক্ষতা প্রয়োজন, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণ ব্যবস্থাকে সেই চাহিদার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে। একইভাবে বগুড়াকে একটি শক্তিশালী চিকিৎসাকেন্দ্র হিসেবে আরও উন্নত করা গেলে শুধু জেলার মানুষ নয়, আশপাশের অনেক জেলার মানুষও উপকৃত হবেন।
মনে রাখতে হবে ৯০ এর গণআন্দোলনের পর জনগণ বিএনপিকে চেয়েছিল রাজনৈতিক পরিবর্তনের প্রত্যাশা নিয়ে। ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের পর ২০২৬ সালে জনগণ বিএনপিকে আরও বড় ম্যান্ডেট দিয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়