খাগড়াছড়িতে গত ১০ দিনে নতুন করে অস্থিরতা তৈরির পেছনে পার্বত্য চট্টগ্রাম অঞ্চলকে অস্থিতিশীল করা এবং পাহাড়ি-বাঙালি দাঙ্গা বাঁধানোর বড় ধরনের ষড়যন্ত্র দেখছে সেনাবাহিনী। আর সেজন্য পাহাড়ি সংগঠন ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট, ইউপিডিএফকে দায়ী করা হচ্ছে।
আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর, আইএসপিআর-এর বিবৃতিতে বলা হয়েছে—বিগত কয়েক দিনের ঘটনা পর্যবেক্ষণে এটি স্পষ্ট যে, ইউপিডিএফ এবং তার অঙ্গসংগঠনগুলো পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করার লক্ষ্যে সুপরিকল্পিতভাবে এলাকার নারী এবং স্কুলগামী কোমলমতি শিশুদের বিভিন্ন পন্থায় তাদের নাশকতামূলক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণে বাধ্য করছে।
আইএসপিআর জানায়, ২০২৪ সালের ১৯ সেপ্টেম্বর খাগড়াছড়িতে মোটরসাইকেল চালক মামুন হত্যাকাণ্ডের জেরে ইউপিডিএফ এর সাথে নিরাপত্তা বাহিনীর সংঘর্সে তিনজন নিহত হয়। সেই ঘটনার বর্ষপূর্তিতে পার্বত্য চট্টগ্রামকে অস্থিতিশীল করতে নতুন করে ষড়যন্ত্র শুরু করে ইউপিডিএফ।
বিবৃতিতে বলা হয়, এরমধ্যেই গত ২৩ সেপ্টেম্বর রাতে খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালায় এক স্কুলছাত্রী ধর্ষণের অভিযোগে ইউপিডিএফ এর সন্দেহভাজন সদস্য শয়ন শীলকে গ্রেপ্তার করা হয়। কিন্তু ইউপিডিএফ-এর অঙ্গসংগঠন পিসিপি’র নেতা উখ্যানু মারমা ‘জুম্ম ছাত্র জনতা’ ব্যানারে সেদিনই বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধনের ডাক দেয়। পরদিন খাগড়াছড়িতে আধাবেলা হরতাল পালন করা হয়।
২৬ সেপ্টেম্বর অবরোধ চলাকালীন ইউপিডিএফ’র প্ররোচনায় সেনাবাহিনীর উপর ইটপাটকেল নিক্ষেপ করে অবরোধকারীরা। এতে তিন সেনা সদস্য আহত হয়। পরদিন শনিবার ইউপিডিএফ ও তার অঙ্গসংগঠন দাঙ্গা সৃষ্টি করে সাধারণ মানুষের উপর গুলি চালালে ১৪৪ ধারা জারি করে জেলা প্রশাসন।
রোববার সকালে রামসু বাজার এলাকায় ১৪৪ ধারা ভঙ্গ করে সাধারণ মানুষকে আবারো উসকে তোলে তারা। এক পর্যায়ে বাঙালি জনগোষ্ঠীর সাথে ইউপিডিএফ এর সংঘর্ষ বাধে। এ সময় ইউপিডিএফ সন্ত্রাসীরা প্রায় ১০০-১৫০ রাউন্ড গুলি ছোড়ে। এ ঘটনায় ৩ অফিসারসহ ১০ সেনা সদস্য আহত হয়। পরে সেনাবাহিনীর ধাওয়ায় ইউপিডিএফ সদস্যরা এলাকা ত্যাগ করলে বিকাল সাড়ে ৪ টার দিকে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসে।
জেড নিউজ, ঢাকা।



