পাহাড় অশান্ত করতে ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা- র’সহ দেশি-বিদেশি চক্রান্ত ব্যাপক তৎপর। তারা ধ্বংসাত্মক পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বিবদমান সংগঠন পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতি জেএসএস ও ইউনাইটেড পিপলস ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট ইউপিডিএফকে ঐক্যবদ্ধ করছে। পুরো বিষয়টি তত্ত্বাবধান করছে ভারত। দিল্লিতে বসবাসরত দিঘিনালার এক কথিত বৌদ্ধ ভিক্ষু বা ধর্মগুরু এর মধ্যস্থতায় করছেন। এর আঁচ পাওয়া যায় কয়েকদিন আগে ত্রিপুরার কথিত রাজা প্রদ্যোৎ মানিক্যর এক সাক্ষাতকারে।
চলতি বছরের ৩ থেকে ১০ মের মধ্যে দিল্লিতে-জেএসএস নেতা সন্তু লারমা আর ইউপিডিএফের দুই শীর্ষ নেতার মধ্যে দুই দফায় সমঝোতা বৈঠক হয়। সেখানে ‘র’এর এক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন। র-এর পক্ষ থেকে বলা হয়, কোনো ইস্যুকে কেন্দ্র করে অস্থিরতা ছড়িয়ে দিতে হবে। সহিংসতায় নেপথ্যে থেকে অর্থনৈতিক ও লজিস্টিক সহায়তা করবে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা। এরপরই ষড়যন্ত্র বাস্তবায়ন শুরু হয়।
ঘটনা গত ২৩ সেপ্টেম্বর, খাগড়াছড়ির সিঙ্গিনালায় এক মারমা কিশোরীকে ধর্ষণের অভিযোগ উঠে। এতে পরিস্কার বোঝা যায়, সংঘাতে জড়িত দুই পক্ষের কর্মীদের মধ্যে ঐক্য গড়ে তুলতে ধর্ষণের অভিযোগকে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।
বলা হচ্ছে, এটাই ষড়যন্ত্রের অংশ। কারণ সেখানে জেএসএস ও ইউপিডিএফ বিবদমান পক্ষ। এমন কী ঘটলো যে, তারা এক হয়ে গেলো? এক হওয়ার পরই অশান্ত পাহাড়। রোববার দিনভর জেলার গুইমারা এলাকাসহ আশপাশের এলাকায় বাঙালিদের বাড়িঘরে হামলা হয়। আহত ও নিহতের ঘটনাও ঘটে।
এ সহিংসতা পুরো পার্বত্য অঞ্চল, এমনকি গোটা দেশে ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা করা হচ্ছে। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আন্দোলনের নেপথ্যের কারিগরদের টার্গেট, শিক্ষার্থীদের রাস্তায় নামানোর। এসব কর্মসূচি থেকে সেনাবাহিনী ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে উসকানি দিয়ে ছাত্রসমাজকে বিভ্রান্ত করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানকেন্দ্রিক আন্দোলন ছড়িয়ে দেয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়নে জোর তৎপরতা চলছে।
এখানেই শেষ নয়, পাহাড়ের এ ঘটনায় অপপ্রচার ছড়ানো হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমে। জড়ানো হচ্ছে দেশের নিরাপত্তা বাহিনীকে। সেনাবাহিনীকে টার্গেট করে নেতিবাচক প্রচার চালানো অর্ধশতাধিক ফেসবুক পেইজ ও অ্যাকাউন্ট চিহ্নিত হয়েছে। যা পরিচালিত হচ্ছে ভারতীয় নেটওয়ার্ক ব্যবহার করে। এসব পেজ থেকেই গত এক বছর ধরে সরকারের বিরুদ্ধে গুজব ছড়ানো ও পতিত আওয়ামী লীগের পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করা হচ্ছে।
জেড নিউজ, ঢাকা।



