জেড নিউজ, ঢাকা :
বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি ব্যাংকে এখন ৭১ হাজার ৫৭৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। বিপুলসংখ্যক কর্মীর বেতন-ভাতা বাবদ ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলোর ব্যয় ছিল ৮ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা।
রাষ্ট্রায়ত্ত জনতা ব্যাংক পিএলসি গত দুই বছরে প্রায় ৭ হাজার কোটি টাকার নিট লোকসান গুনেছে। বেশ কয়েকটি আর্থিক কেলেঙ্কারি ও অনিয়ম-দুর্নীতিতে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ ঠেকেছে ৭৬ হাজার কোটি টাকায়। ব্যাংকটির মূলধন ঘাটতিও ৬৪ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে। এ ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন ১৪ হাজারের বেশি কর্মী। গত বছর কর্মীদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যাংকটির ১ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। ধারাবাহিক লোকসান ও মূলধন ঘাটতিতে থাকলেও ব্যাংকটির কর্মীদের বেতন দ্বিগুণের বেশি বাড়ছে। সরকার কর্তৃক নবম জাতীয় পে-স্কেলের প্রজ্ঞাপন জারি হওয়ায় বেতন-ভাতা খাতে ব্যাংকটির ব্যয় দ্বিগুণ হবে।
বেসিক ব্যাংকের আছে দুই হাজারের বেশি কর্মকর্তা-কর্মচারী। ২০০৯ সাল-পরবর্তী সময়ে লুটপাটের শিকার হওয়া সরকারি এ ব্যাংক ধারাবাহিক লোকসান দিয়ে আসছে ২০১৩ সাল থেকে। ২০২৫ সাল পর্যন্ত গত ১৩ বছরে বেসিক ব্যাংক নিট লোকসান দিয়েছে ৬ হাজার ৩২৩ কোটি টাকা। এ পরিস্থিতিতে আয় না বাড়িয়ে কেবল বেতন-ভাতা বৃদ্ধিতে বেসিক ব্যাংকের লোকসানের পাল্লা আরো ভারী হবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেবল বেসিক কিংবা জনতা ব্যাংকই নয়, বরং সরকারের মালিকানাধীন নয়টি তফসিলি ব্যাংকের পরিস্থিতিই অনেকটা একই রকম। এর মধ্যে সোনালী, জনতা, অগ্রণী, রূপালী, বেসিক ও বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) বাণিজ্যিক ব্যাংক হিসেবে পরিচিত। আর বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক (বিকেবি), রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক পরিচিত বিশেষায়িত হিসেবে। সরকারের মালিকানাধীন নয়টি ব্যাংকের মধ্যে কেবল সোনালীর আর্থিক পরিস্থিতি এ মুহূর্তে কিছুটা ভালো। সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ডে বিনিয়োগ থেকে বড় অংকের অর্থ আয় করায় ব্যাংকটি মুনাফায় রয়েছে। বাকি আটটি ব্যাংকই এখন লোকসানি। বিপুল খেলাপি ঋণ, মূলধন ও সঞ্চিতি (প্রভিশন) ঘাটতির চাপে রয়েছে এ ব্যাংকগুলো।
বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলোর তথ্য অনুযায়ী, রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি ব্যাংকে এখন ৭১ হাজার ৫৭৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী কর্মরত রয়েছেন। বিপুলসংখ্যক কর্মীর বেতন-ভাতা বাবদ ২০২৫ সালে ব্যাংকগুলোর ব্যয় ছিল ৮ হাজার ১৫৪ কোটি টাকা। সরকারি কর্মচারীদের নতুন বেতন কাঠামো বাস্তবায়ন হওয়ায় চলতি বছরেই এ ব্যাংকগুলোর বেতন-ভাতা ব্যয় অন্তত ২৫ শতাংশ বাড়বে। আর ২০২৮ সালে বেতন-ভাতা খাতে সরকারি ব্যাংকের ব্যয় দাঁড়াবে ১৬ হাজার কোটি টাকার বেশি। বিপুল এ ব্যয় সামাল দিতে গিয়ে ব্যাংকগুলোর আর্থিক পরিস্থিতি আরো নাজুক হয়ে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।
এ বিষয়ে রাষ্ট্রায়ত্ত একটি ব্যাংকের প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা (সিএফও) নাম অপ্রকাশিত রাখার শর্তে বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত কয়েকটি ব্যাংকের যে পরিচালন আয় হয়, সেটি দিয়ে নিজেদের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন-ভাতাও পরিশোধ করা সম্ভব হচ্ছে না। অনেক আগেই এ ব্যাংকগুলো মূলধন খেয়ে ফেলেছে। এখন ব্যাংকগুলো মূলত আমানতকারীদের অর্থ ভাঙিয়ে চলছে। “সরকার মালিক, তাই দেউলিয়া হবে না”—এ কথা প্রচলিত থাকায় ব্যাংকগুলো টিকে আছে। মানুষ এখনো আমানত জমা রাখছে।’
লোকসানি ব্যাংকের কর্মীদের বর্ধিত বেতন-ভাতার সংস্থান কোথা থেকে হবে, সেটি দায়িত্বপ্রাপ্তদের ভাবা উচিত বলে মনে করেন অর্থনীতিবিদ ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য। সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) এ সম্মাননীয় ফেলো বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলো যে পরিস্থিতিতে রয়েছে, সেটি থেকে উত্তরণের উপায় সরকারকেই বের করতে হবে। বেতন-ভাতা বাড়িয়ে কর্মীদের খুশি রাখা একটি পদক্ষেপ—সেটি বাস্তবায়িত হয়েছে। কিন্তু এ পদক্ষেপের ফলে ব্যাংকগুলোর কী উন্নতি হবে, সেটিও নির্ধারণ করে দেয়া দরকার। খেলাপি ঋণ আদায় কীভাবে হবে, পরিচালনা পর্ষদ ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ নিজেদের দায়দায়িত্ব কীভাবে পালন করবে, সেটিরও সীমারেখা টেনে দেয়া দরকার।’
রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বড় সোনালী ব্যাংক পিএলসি। ২০০৯ সাল-পরবর্তী সময়ে হলমার্ক কেলেঙ্কারির জন্য সমালোচিত হয়েছিল ব্যাংকটি। তবে এ মুহূর্তে রাষ্ট্রায়ত্ত অন্য ব্যাংকগুলোর তুলনায় এটি স্থিতিশীল রয়েছে। মুনাফায় থাকা সোনালী ব্যাংক ২০২৫ সালে কর্মীদের বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় করেছে ২ হাজার ৬৪৯ কোটি টাকা। ব্যাংকটির কর্মকর্তা-কর্মচারীর সংখ্যা ২১ হাজার ৫০০-এর বেশি। চলতি বছরের জুন পর্যন্ত সোনালী ব্যাংকের খেলাপি ঋণের স্থিতি ছিল ১৫ হাজার ৭১০ কোটি টাকা, যা ব্যাংকটির বিতরণকৃত ঋণের ১৮ দশমিক ২৭ শতাংশ। সোনালী ব্যাংকের আর্থিক প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে (জানুয়ারি-জুন) ব্যাংকটি ৫ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকার পরিচালন আয় করেছে। তবে এ আয়ের ৮৩ শতাংশেরও বেশি এসেছে সরকারি ট্রেজারি বিল-বন্ডের সুদ থেকে।
২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে সোনালী ব্যাংকের চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ পান সাবেক মহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক (সিএজি) এবং অর্থ সচিব মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী। তবে গত ২ মার্চ ব্যক্তিগত কারণ দেখিয়ে ব্যাংকটি থেকে পদত্যাগ করেন তিনি। ওই সময় থেকে এখনো এ পদে নতুন কাউকে নিয়োগ দেয়নি সরকার। বর্তমানে চলতি দায়িত্ব হিসেবে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান পদে সাবেক আমলা মোহাম্মদ মাহবুবুর রহমান দায়িত্ব পালন করছেন।
মোহাম্মদ মুসলিম চৌধুরী বণিক বার্তাকে বলেন, ‘বিশ্বের যেকোনো দেশের ব্যাংকের কর্মীদের বেতন নির্ধারিত হয় সে ব্যাংকের পারফরম্যান্সের ভিত্তিতে। বাংলাদেশেও যেসব বেসরকারি ব্যাংক দুর্বল হয়ে গেছে, সেগুলোর কর্মীদের বেতন-ভাতা সেভাবে বাড়ছে না, পদোন্নতিও আটকে গেছে। কিন্তু রাষ্ট্রায়ত্ত বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলো ২০০৭ সালে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি হিসেবে নিবন্ধিত হলেও মালিকানা কাঠামো সরকারি থেকে গেছে। এ কারণে সরকারি বেতন কাঠামো পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে এসব কর্মীর বেতনও বাড়বে, এটিই স্বাভাবিক।’
সাবেক এ সিএজি আরো বলেন, ‘ব্যাংক ছাড়াও মুনাফার উদ্দেশ্যে পরিচালিত সরকারি আরো অনেক প্রতিষ্ঠান বা কোম্পানি আছে। সেগুলোর ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে ভিন্ন নীতি নেয়া দরকার। কোম্পানি মুনাফা করলে কর্মীরা বোনাস পাবে, আর লোকসান করলে শাস্তি হবে—এ নীতির বাস্তবায়ন করা গেলে সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোও মুনাফায় ফিরতে বাধ্য হবে।’
এ মুহূর্তে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মধ্যে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে রয়েছে জনতা ব্যাংক পিএলসি। ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের হার এখন ৭৫ শতাংশের বেশি। ২০২৪ সালে ৩ হাজার ৬৬ কোটি টাকা নিট লোকসান দেয়ার পর ২০২৫ সালেও ৩ হাজার ৯৩১ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে ব্যাংকটি।
একসময়ের সরকারি খাতের সেরা ব্যাংকের স্বীকৃতি থাকা জনতা মূলত ২০০৯ সাল-পরবর্তী সময়ে লুণ্ঠনের শিকার হয়েছে। আর এক্ষেত্রে জড়িত ছিলেন ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ, ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা। বর্তমানে জনতা ব্যাংকে কর্মরত কর্মীর সংখ্যা ১৪ হাজার ৩২৩। এ কর্মীদের বেতন-ভাতা বাবদ গত বছর ১ হাজার ৫১৫ কোটি টাকা ব্যয় করেছে ব্যাংকটি। এ পরিস্থিতিতে নবম পে-স্কেল বাস্তবায়ন হওয়ায় এ খাতে জনতা ব্যাংকের ব্যয়ও দ্বিগুণ বাড়বে, যা ব্যাংকটির ভঙ্গুর আর্থিক পরিস্থিতিকে আরো নাজুক করে তুলতে পারে।
বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৪৪ শতাংশ খেলাপি হয়ে যাওয়ার চাপে পড়েছে রাষ্ট্রায়ত্ত অগ্রণী ব্যাংকও। গত জুন শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৩২ হাজার ১৩৩ কোটি টাকা। বিপুল এ খেলাপি ঋণ থেকে কোনো আয় না থাকায় লোকসানে পড়েছে অগ্রণী ব্যাংক। গত বছর ব্যাংকটির ১১ হাজার ৩০০ কর্মীর পেছনে বেতন-ভাতা বাবদ ব্যয় ছিল ১ হাজার ৩৩১ কোটি টাকা।
নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের ফলে ব্যাংকের যে বাড়তি ব্যয় হবে, সেটি কোথা থেকে সংস্থান হবে—এ প্রশ্নের জবাবে অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ বণিক বার্তাকে বলেন, ‘অনেকেই আমাকে এ প্রশ্ন করছেন। ব্যাংকের মুনাফা হলে কর্মীদের বেতন বাড়বে, ইনক্রিমেন্ট হবে, বোনাস হবে—এগুলোই সারা পৃথিবীর প্রচলিত কথা। কিন্তু বাস্তবতা হলো এ মুহূর্তে সোনালী ছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত কোনো ব্যাংকই মুনাফায় নেই।’
তবে বেসরকারি অনেক ব্যাংকের তুলনায় সরকারি ব্যাংকের কর্মীদের বেতন-ভাতা কম বলেও মন্তব্য করেন আবু নাসের বখতিয়ার আহমেদ। তিনি বলেন, ‘বেসরকারি খাতের অনেক ব্যাংকের তুলনায় সরকারি ব্যাংকের কর্মীদের বেতন-ভাতা কম। নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়ন হলে সে বৈষম্য দূর হবে। তবে একই সঙ্গে সরকারি ব্যাংকগুলোর জন্য কেপিআই সেট (নির্ধারণ) করতে হবে। ব্যাংক ভালো করলে কর্মীরা পুরস্কার পাবে, আর খারাপ হলে তিরস্কার—এটিই নিয়ম হওয়া উচিত।’
খেলাপি ঋণের ঊর্ধ্বহার ও কার্যক্রমে স্থবিরতার কারণে লোকসানের পাল্লা ভারী হচ্ছে রাষ্ট্রায়ত্ত রূপালী ব্যাংকেরও। চলতি বছরের প্রথমার্ধে ৬৪০ কোটি টাকার পরিচালন লোকসান গুনেছে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত সরকারি খাতের একমাত্র ব্যাংকটি। এ ব্যাংকে কর্মরত ৭ হাজার ১৬৪ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর পেছনে গত বছর ব্যাংকটির ব্যয় ছিল ৭২২ কোটি টাকা। চলতি বছরের প্রথমার্ধে অবশ্য এ খাতে ব্যাংকটির ব্যয় ৪০০ কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। নতুন পে-স্কেল পুরোপুরি বাস্তবায়ন হলে এ খাতে ব্যাংকটির ব্যয়ও দ্বিগুণ হবে।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জুন পর্যন্ত রাষ্ট্রায়ত্ত নয়টি ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের স্থিতি ছিল ৩ লাখ ৬৯ হাজার ৩০ কোটি টাকা। এ ঋণের মধ্যে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৩৬৯ কোটি টাকাই খেলাপির খাতায় উঠেছে। সে হিসাবে সরকারি ব্যাংকগুলোর বিতরণকৃত ঋণের ৪৫ দশমিক ৮৯ শতাংশই এখন খেলাপি। বিপুল এ খেলাপির চাপে সবক’টি ব্যাংকই ঝুঁকিতে রয়েছে।
লোকসানের দিক থেকে সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতিতে রয়েছে বিশেষায়িত বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকটির নিট লোকসান ছিল ৮ হাজার ২১৮ কোটি টাকা। এর আগে ২০২৩-২৪ অর্থবছরেও ৬ হাজার ৫১৩ কোটি টাকার নিট লোকসান দিয়েছিল ব্যাংকটি। ধারাবাহিক লোকসান ও খেলাপি ঋণের উচ্চ হারের কারণে কৃষি ব্যাংকের মূলধন ঘাটতির পরিমাণ এখন ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড়িয়েছে। এ ব্যাংকে কর্মরত রয়েছেন ৯ হাজার ৪৩০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী। কর্মীদের পেছনে কেবল ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ব্যাংকটির ব্যয় ছিল ১ হাজার ২৪২ কোটি টাকা।
বিশেষায়িত ব্যাংক হিসেবে পরিচিত রাজশাহী কৃষি উন্নয়ন ব্যাংক (রাকাব) ও প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংকের পরিস্থিতিও এখন বেশ নাজুক। এর মধ্যে গত দুই অর্থবছরে রাকাব নিট লোকসান দিয়েছে ২৯৪ কোটি টাকা। আর প্রবাসী কল্যাণ ব্যাংক ২০২৪-২৫ অর্থবছরে ১৬২ কোটি টাকা লোকসান দিয়েছে। গত বছর বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংক (বিডিবিএল) লোকসান দিয়েছে ৬৯ কোটি টাকা।
ধারাবাহিক লোকসান, মূলধন ঘাটতিসহ নাজুক পরিস্থিতির মধ্যেও রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর কর্মীদের বেতন-ভাতা দ্বিগুণ বাড়ার বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান বণিক বার্তাকে বলেন, ‘রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মালিকানা এখনো পুরোপুরি সরকারের। এ ব্যাংকগুলোর নিয়ন্ত্রণে আর্থিক প্রতিষ্ঠান রয়েছে। তারাই ঠিক করবে ব্যাংকগুলোর বিষয়ে কী ধরনের সিদ্ধান্ত হওয়া উচিত। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে আমরা রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর নিরীক্ষা ও তদারকি করি। কোনো অনিয়ম পেলে সেটির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হয়।’
তবে এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে চাইলে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগের সচিব নাজমা মোবারেক কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।




