জেড নিউজ ডেস্ক:
সৌরজগতের ক্ষুদ্রতম এবং সূর্যের নিকটতম গ্রহ বুধকে ঘিরে বৈজ্ঞানিক গবেষণায় উঠে এসেছে চাঞ্চল্যকর তথ্য। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, রহস্যময় এই গ্রহটি বিজ্ঞানীদের ধারণার চেয়েও দ্রুত গতিতে সংকুচিত হচ্ছে। মহাশূন্যের তীব্র উত্তাপের মাঝে এর রূপান্তরকে যেন এক টুকরো আঙুর শুঁকিয়ে কিশমিশে পরিণত হওয়ার মহাজাগতিক রূপক হিসেবে আখ্যায়িত করছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।
জার্মান অ্যারোস্পেস সেন্টারের ‘ইনস্টিটিউট অব স্পেস রিসার্চ’-এর গবেষকদের প্রকাশিত নতুন এই গবেষণা অনুযায়ী, বুধ গ্রহের অভ্যন্তরীণ সংকোচন পূর্বের অনুমানের তুলনায় প্রায় ৩০ শতাংশ বেশি হতে পারে। এই হ্রাসের ফলে গ্রহটির ব্যাস প্রায় ২৩ কিলোমিটার বা ১৪ মাইল পর্যন্ত কমে গিয়ে থাকতে পারে। প্রায় ৪৯০০ কিলোমিটার ব্যাসের একটি ছোট গ্রহের জন্য এই মাত্রার আয়তন হ্রাস অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও অস্বাভাবিক একটি বৈজ্ঞানিক ঘটনা।
গবেষণাটি বিজ্ঞানবিষয়ক সাময়িকী ‘জিওফিজিক্যাল রিসার্চ লেটার্স’-এ প্রকাশিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, বুধের উপরিভাগ অত্যন্ত বন্ধুর এবং ক্রমাগত উল্কাপাতের ধাক্কায় সৃষ্ট গর্তের ধ্বংসাবশেষ দ্বারা গ্রহের উপরিভাগ পরিবর্তিত হচ্ছে। সংঘর্ষ থেকে ছড়িয়ে পড়া এই ধূলি ও পাথরের স্তর গ্রহের আসল সংকোচনের চিহ্নগুলোকে বহু বছর ধরে লুকিয়ে রেখেছিল, যার কারণে এত দিন এর সঠিক পরিমাণ পরিমাপ করা সম্ভব হয়নি।
মূলত সাড়ে চার শতকোটি বছর আগে সৃষ্টি হওয়ার পর থেকেই বুধ গ্রহটি ধীরে ধীরে সংকুচিত হয়ে আসছে। এই গ্রহটির বিশাল একটি তপ্ত লোহার কেন্দ্রমণ্ডল রয়েছে, যা এর আয়তনের তুলনায় অনেকটাই বড়। সময়ের সাথে সাথে এই বিশাল কেন্দ্রমণ্ডল শীতল হওয়ার কারণে ভিতরের ম্যান্টল ও উপরিভাগের ভূত্বক সংকুচিত হয়ে আসে। ফলে গ্রহটির উপরিভাগে বিশেষ এক ধরণের বলিরেখা বা ফাটলের সৃষ্টি হয়। হকিডো বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষক এবং এই গবেষণার প্রধান লেখক গাকু নিশিয়ামা তাঁর দলের সাথে গ্রহের এই ফাটল এবং উপরিভাগের রুক্ষতার মানচিত্র তুলনা করে দেখেছেন যে, বেশি রুক্ষ এলাকায় এই বলিরেখাগুলো তুলনামূলক কম চোখে পড়ে। মূলত উল্কাপাতের ধ্বংসাবশেষের নিচে এগুলো ঢাকা পড়ে যাওয়ায় সংকোচনের প্রকৃত চিত্রটি আড়ালে রয়ে গিয়েছিল।




