জেড নিউজ, ঢাকা :
রাজধানীর মতিঝিলের শাপলা চত্বরে ২০১৩ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলামের সমাবেশকে কেন্দ্র করে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় ১১ আসামিকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২-এ হাজির করা হয়েছে। বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন ট্রাইব্যুনালে মামলাটির শুনানি হওয়ার কথা রয়েছে।
হাজির করা ১১ আসামির মধ্যে রয়েছেন জাসদ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনু, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, সাবেক খাদ্যমন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাক, সাবেক মন্ত্রী ডা. দীপু মনি ও আবদুল লতিফ সিদ্দিকী। এ ছাড়া রয়েছেন সাবেক আইজিপি এ কে এম শহীদুল হক, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক ডিআইজি আবদুল জলিল মণ্ডল, একাত্তরের ঘাতক-দালাল নির্মূল কমিটির সভাপতি শাহরিয়ার কবির, সাংবাদিক ও ৭১ টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মোজাম্মেল হক বাবু এবং সাংবাদিক ফারজানা রূপা।
এর আগে গত ২৭ জুলাই শেখ হাসিনাসহ মোট ৪১ জনের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ আমলে নেন ট্রাইব্যুনাল-২। একই সঙ্গে কারাগারে থাকা আসামিদের আদালতে হাজির এবং পলাতকদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির নির্দেশ দেওয়া হয়। রাষ্ট্রপক্ষের তদন্তে শাপলা চত্বরসহ সংশ্লিষ্ট ঘটনায় ৬১ জন নিহতের একটি তালিকা পাওয়ার কথা জানানো হয়েছে; এর মধ্যে ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে।
মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগে দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। প্রথম অভিযোগে ২০১৩ সালের ৫ মে শাপলা চত্বরে আবু বকর সিদ্দিকসহ ৩২ জনকে হত্যার ঘটনা উল্লেখ করা হয়েছে। দ্বিতীয় অভিযোগে পরদিন ৬ মে নারায়ণগঞ্জের সিদ্ধিরগঞ্জে ছাদেক মিয়াসহ ২০ জনকে হত্যা এবং দেশের বিভিন্ন স্থানে সংঘটিত আরও কয়েকটি হত্যাকাণ্ডের ঘটনা অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া রাশেদুল ইসলাম, আবু ইউসুফসহ আরও কয়েকজনকে হত্যার উদ্দেশ্যে গুলি চালানো ও নির্যাতনের মাধ্যমে গুরুতর আহত করার অভিযোগও রয়েছে।
রাষ্ট্রপক্ষের অভিযোগ অনুযায়ী, এসব ঘটনায় হত্যা, হত্যাচেষ্টা, নির্যাতন এবং রাজনৈতিক ও ধর্মীয় পরিচয়ের ভিত্তিতে নিপীড়নের মতো কর্মকাণ্ড সংঘটিত হয়েছে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে। তবে এসব অভিযোগের বিচারিক নিষ্পত্তি এখনো হয়নি; ট্রাইব্যুনালের বিচারপ্রক্রিয়ায় অভিযোগগুলোর প্রমাণ ও আসামিদের বক্তব্য পর্যালোচনা করা হবে।
মামলার ৪১ আসামির মধ্যে শেখ হাসিনাসহ আরও বেশ কয়েকজন বর্তমানে পলাতক রয়েছেন। তাদের আদালতে হাজির করতে এর আগে দুটি জাতীয় দৈনিকে বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের নির্দেশ দেওয়া হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে আত্মসমর্পণ না করলে আইন অনুযায়ী তাদের অনুপস্থিতিতেই বিচার কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার বিষয়েও ট্রাইব্যুনাল নির্দেশনা দিয়েছে।




