জেড নিউজ, ঢাকা:
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি ববি হাজ্জাজ বলেছেন, ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালকে শিগগিরই জাতীয় যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালে রূপান্তর করা হবে। এর ফলে যক্ষ্মা রোগের চিকিৎসা ও নিয়ন্ত্রণের পাশাপাশি রোগ নির্ণয়, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের সুযোগ আরও সম্প্রসারিত হবে এবং চিকিৎসাসেবার সক্ষমতা বৃদ্ধি পাবে।
তিনি বলেন, যক্ষ্মা নিয়ন্ত্রণে একটি আধুনিক, সমন্বিত ও কার্যকর প্রতিষ্ঠান হিসেবে হাসপাতালটিকে গড়ে তুলতে প্রয়োজনীয় উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সোমবার (১৩ সেপ্টেম্বর) ঢাকার শ্যামলীতে অবস্থিত ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট টিবি হাসপাতালের কনফারেন্স রুমে আয়োজিত হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীদের শূন্যপদ দ্রুত পূরণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রতিমন্ত্রী । তিনি বলেন, হাসপাতালের সেবার মানোন্নয়ন ও কার্যক্রম আরও গতিশীল করতে জনবল সংকট দূর করা জরুরি। এ লক্ষ্যে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আলোচনা করে শূন্যপদগুলো দ্রুত পূরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। রোগীদের মানসম্মত ও নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।
হাসপাতালের সেবার পরিধি ও সক্ষমতা বাড়াতে ৫০০ শয্যাবিশিষ্ট নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। একই সঙ্গে হাসপাতালের সামনের ফুটপাত দখলমুক্ত করে রোগী ও সাধারণ মানুষের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি।
হাসপাতাল পরিদর্শনকালে প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের চিকিৎসাসেবা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। তিনি রোগী ও স্বজনদের সঙ্গে কথা বলে তাদের বিভিন্ন সমস্যা ও প্রত্যাশার কথা শোনেন এবং তা সমাধানে সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেন।
প্রতিমন্ত্রী হাসপাতালের চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং চিকিৎসাসেবার মান আরও উন্নত করতে তাঁদের দায়িত্বশীলতা ও আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান। এ সময় তিনি হাসপাতালের পরিচ্ছন্নতা, রোগীদের সুযোগ-সুবিধা, ওষুধ সরবরাহ এবং চিকিৎসা-সংক্রান্ত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের কাছ থেকে তথ্য নেন।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসা প্রতিটি রোগীর প্রতি মানবিক ও দায়িত্বশীল আচরণ নিশ্চিত করতে হবে। রোগীদের যেন কোনো ধরনের ভোগান্তির শিকার হতে না হয়, সে বিষয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিতে হবে।
হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যসচিব ও উপপরিচালক ডা. আয়শা আক্তারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সভায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তর,সমাজসেবা অধিদপ্তর এবং হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।এ ছাড়া স্বাস্থ্য বিটের সাংবাদিকরা, হাসপাতালের চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরাও সভায় উপস্থিত ছিলেন।




