জেড নিউজ, ঢাকা:
বিশ্বকাপ মানেই আবেগ, উন্মাদনা আর অসংখ্য স্মরণীয় মুহূর্ত। প্রিয় দল জিতলে আনন্দে ভেসে যান সমর্থকেরা, আবার হারলে মন খারাপ, হতাশা এমনকি শূন্যতাও গ্রাস করতে পারে। বিশেষ করে দীর্ঘদিন ধরে একটি দলের জন্য অপেক্ষা, রাত জেগে খেলা দেখা, বন্ধুদের সঙ্গে পরিকল্পনা-সবকিছুর পর হঠাৎ বিদায় বা পরাজয় অনেকের কাছেই ব্যক্তিগত ক্ষতির মতো মনে হয়। মনোবিজ্ঞানীরা বলছেন, খেলাধুলার সঙ্গে আবেগের এই সংযোগ একেবারেই স্বাভাবিক। তবে সেই হতাশা যদি দীর্ঘ সময় ধরে মন-মেজাজ, কাজের ইচ্ছা বা দৈনন্দিন জীবনকে প্রভাবিত করে, তাহলে তা সামলে নেওয়াও জরুরি। কয়েকটি সহজ অভ্যাসই আপনাকে দ্রুত স্বাভাবিক ছন্দে ফিরতে সাহায্য করতে পারে।
হতাশাকে স্বাভাবিক হিসেবে গ্রহণ করুন
প্রিয় দলের হার মানে মন খারাপ হবেই। নিজের অনুভূতিকে অস্বীকার করার প্রয়োজন নেই। অনেকেই মনে করেন, ‘এ তো শুধু একটা খেলা’, তাই কষ্ট পাওয়া উচিত নয়। কিন্তু বাস্তবে দীর্ঘদিনের সমর্থন, আবেগ ও প্রত্যাশা থাকলে হতাশা তৈরি হওয়াই স্বাভাবিক। তাই নিজের অনুভূতিকে সময় দিন এবং মেনে নিন।
সোশ্যাল মিডিয়া থেকে কিছুটা বিরতি নিন
পরাজয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রল, মিম, তর্ক-বিতর্ক বা সমালোচনার বন্যা বইতে থাকে। এই সময় বারবার এসব দেখলে হতাশা আরও বাড়তে পারে। তাই কয়েক ঘণ্টা বা একদিনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া থেকে দূরে থাকলে মন অনেকটাই শান্ত থাকবে।
খেলাকে খেলার জায়গাতেই রাখুন
বিশেষজ্ঞদের মতে, খেলাধুলা আনন্দ ও বিনোদনের মাধ্যম। এটিকে নিজের ব্যক্তিগত পরিচয় বা আত্মসম্মানের সঙ্গে জড়িয়ে ফেললে পরাজয় অনেক বেশি কষ্ট দেয়। মনে রাখুন, একটি ম্যাচের ফল আপনার জীবন বা ব্যক্তিগত সাফল্য নির্ধারণ করে না।
প্রিয় মানুষের সঙ্গে সময় কাটানো
মন খারাপের সময় একা না থেকে পরিবার বা বন্ধুদের সঙ্গে সময় কাটানো ভালো। খেলা নিয়ে আড্ডা দিতে পারেন, পুরোনো ম্যাচের স্মৃতি মনে করতে পারেন কিংবা অন্য কোনো বিষয়ে গল্প করতে পারেন। ইতিবাচক সামাজিক যোগাযোগ মানসিক চাপ কমাতে সাহায্য করে।
নিজের নিয়মিত রুটিনে ফিরে যান
বিশ্বকাপের সময় অনেকেই রাত জাগেন, খাবারের সময় বদলে যায়, ঘুম কম হয়। ম্যাচ শেষ হওয়ার পর ধীরে ধীরে স্বাভাবিক রুটিনে ফিরে আসুন। পর্যাপ্ত ঘুম, নিয়মিত খাবার এবং কাজের ছন্দে ফেরাই মানসিক সুস্থতার জন্য সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
শরীরচর্চা বা হাঁটার অভ্যাস করুন
হালকা ব্যায়াম, সকালে হাঁটা কিংবা সাইকেল চালানোর মতো শারীরিক কর্মকাণ্ড শরীরে এন্ডোরফিন নামের ‘ফিল-গুড’ হরমোন নিঃসরণ বাড়ায়। ফলে মন ভালো থাকে এবং হতাশা দ্রুত কাটে।
পরের টুর্নামেন্টের আশায় থাকুন
ফুটবল কখনো এক জায়গায় থেমে থাকে না। বিশ্বকাপ শেষ হলেও সামনে রয়েছে বিভিন্ন লিগ, মহাদেশীয় টুর্নামেন্ট, কোপা আমেরিকা, ইউরো কিংবা পরবর্তী বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। ফুটবলের সৌন্দর্যই হলো-প্রতিটি হারের পর আবার নতুন করে স্বপ্ন দেখার সুযোগ থাকে।
হারের মধ্যেও ইতিবাচক দিক খুঁজে দেখুন
একটি দলের পরাজয় মানেই সবকিছু শেষ নয়। তরুণ খেলোয়াড়দের পারফরম্যান্স, দলের ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা বা পুরো টুর্নামেন্টের ভালো মুহূর্তগুলো মনে করুন। এতে হতাশার বদলে আশাবাদী হওয়া সহজ হয়।
কখন বিশেষজ্ঞের সাহায্য প্রয়োজন?
যদি খেলার ফলের কারণে কয়েক দিন ধরে মন খারাপ থাকে, কাজ করতে ইচ্ছা না করে, ঘুমের সমস্যা হয় বা অতিরিক্ত রাগ ও উদ্বেগ তৈরি হয়, তাহলে বিষয়টিকে হালকাভাবে নেওয়া উচিত নয়। প্রয়োজন হলে একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ বা কাউন্সেলরের সঙ্গে কথা বলা যেতে পারে। বিশ্বকাপের আবেগ কোটি মানুষের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। তাই প্রিয় দলের হার কষ্ট দিতেই পারে। তবে মনে রাখতে হবে, ফুটবলের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো-পরাজয়ের পরও আবার ঘুরে দাঁড়ানো। সমর্থকদের ক্ষেত্রেও সেই কথাই প্রযোজ্য। আজকের হতাশাই আগামী টুর্নামেন্টে নতুন আশার জন্ম দেয়।





