ভারতে ক্ষমতাসীন কট্টর হিন্দুত্ববাদী দল, বিজেপি মুসলমানদের দমন পীড়নে নিত্যনতুন অপকৌশল অবলম্বন করছে। এবার আসামে মুসলিম বিতাড়নে দেশভাগ যুগের আইন পুনরায় চালু করছে রাজ্য সরকার।
ওই আইন অনুযায়ী রাজ্যে সন্দেহভাজন অবৈধ অভিবাসীদের মাত্র ১০ দিনের মধ্যে নাগরিকত্ব প্রমাণ করতে হবে। ব্যর্থ হলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বহিষ্কার করা হবে। সম্প্রতি এমনই স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর- এসওপি অনুমোদন করেছে হিমান্ত বিশ্ব শর্মা নেতৃত্বাধীন রাজ্য মন্ত্রিসভা।
এই পদক্ষেপ সংবিধান ও মানবাধিকারের প্রকাশ্য লঙ্ঘন- যার শিকার হবেন মূলত বাংলাভাষী মুসলিম সংখ্যালঘুরা। আইন বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এতদিন পর্যন্ত সন্দেহভাজন বিদেশিদের মামলা যেত ফরেনার্স ট্রাইব্যুনালে। যদিও সেখানে বহু মুসলিম অন্যায়ভাবে ‘বিদেশি’ঘোষণার শিকার হয়েছেন। তবুও উচ্চ আদালতে যাওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু নতুন নিয়মে আর কোনো ন্যায়বিচারের সুযোগ নেই।
নতুন নিয়মের সারাংশ অনুযায়ী, জেলা কমিশনার ‘অবৈধ অভিবাসী’ব্যক্তিকে ১০ দিনের মধ্যে নাগরিকত্বের প্রমাণ দিতে বলবেন। প্রমাণ সন্তোষজনক না হলে জেলা কমিশনার লিখিতভাবে তাকে ‘অবৈধ অভিবাসী’ঘোষণা করবেন এবং ২৪ ঘণ্টার মধ্যে বহিষ্কারের নির্দেশ দেবেন।
গত দুই সপ্তাহে আসাম পুলিশ ইতিমধ্যে ৩০০-র বেশি মুসলিমকে বন্দুকের মুখে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে। এতে মানা হয়নি জন্মভূমি যাচাই বা বৈধ প্রক্রিয়া। বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এই এসওপি কার্যত মুসলিমদের নিশানা বানিয়ে ভয় দেখানো এবং ভোট ব্যাংকের রাজনীতি চালানোর কৌশল। বাস্তবে এই সিদ্ধান্ত বাংলাভাষী মুসলিমদের গণহারে উচ্ছেদ করার হাতিয়ার হয়ে উঠবে।
জেড নিউজ, ঢাকা ।



