spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

২১ বছর! মনে হচ্ছে, এই তো সেদিন

জেড নিউজ,  ঢাকা : 

২১ বছর! মনে হচ্ছে এই তো সেদিন…। ‘সুভা’ আমার অভিনয়জীবনের উল্লেখযোগ্য একটি কাজ। মূলধারার বাণিজ্যিক সিনেমার পাশাপাশি সাহিত্যনির্ভর কয়েকটি ছবিতে কাজ করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার। সেই যাত্রার শুরু হয় রাবেয়া খাতুনের গল্পে চাষী নজরুল ইসলাম পরিচালিত ‘মেঘের পরে মেঘ’ দিয়ে। এরপর ‘শাস্তি’, তারপর ‘সুভা’— তিনটি ছবিই পরিচালনা করেছেন চাষী (নজরুল ইসলাম) আঙ্কেল। সাহিত্যভিত্তিক গল্পে অভিনয়ের সেই সুযোগটা করে দিয়েছিল চ্যানেল আই। এই কাজগুলো আমাকে একজন অভিনেত্রী হিসেবে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করার সুযোগ দিয়েছে। ‘সুভা’ ছবিটি আরও একটি কারণে বিশেষ। এটি ছিল শাকিব খানেরও প্রথম সাহিত্যনির্ভর গল্পে অভিনয়। এর আগে আমরা একসঙ্গে বাণিজ্যিক ছবিতে কাজ করেছি, কিন্তু রবীন্দ্রনাথের গল্পভিত্তিক এমন একটি চলচ্চিত্রে অভিনয় ছিল ভিন্ন অভিজ্ঞতা। ছবিতে আমি একজন বোবা ও শ্রবণপ্রতিবন্ধী মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছি, যা আমার অভিনয়জীবনের অন্যতম কঠিন চরিত্র। এখন, ২১ বছর পর ছবিটির কথা ভাবলে অবাক লাগে—এত কঠিন একটি চরিত্র তখন কীভাবে করেছি। দিলারা হানিফ পূর্ণিমা

কেমন ছিল শুটিং সময়ের দিন?
দিলারা হানিফ পূর্ণিমা : ‘সুভা’ ছবির শুটিং ছিল সবচেয়ে কঠিন ও কষ্টের। আমার পুরো অভিনয়জীবনে এমনটা আর কোনো সিনেমায় হয়নি। চাষী আঙ্কেল এই ছবির জন্য আমার ও শাকিবের পেছনে অনেক সময় দিয়েছেন। চরিত্রের উপযোগী করে আমাদের তৈরি করেছেন। পুবাইলে ভাদ্র মাসের ভয়াবহ গরমে শুটিং করেছি। এত গরম ছিল, যে কাপড় পরে শুটিং করতাম, তা মুহূর্তেই ঘেমে ভিজে যেত। টানা কাজ করে শুটিং শেষ করেছি। ছবিটি নিয়ে কষ্টের যেমন দিক আছে, সবচেয়ে ভালো লাগারও অনেক দিক আছে। এটা আমার জীবনের এমন একটা ছবি, যেটার টাইটেল আমার চরিত্রের নামে—এমনটা কখনো ঘটেনি। সে হিসেবে বলব, ‘সুভা’ আমার অভিনয়জীবনের সুন্দর একটা প্রাপ্তি। এই ছবির জন্য শাকিবও অনেক কষ্ট করেছে। তখন সে খুবই ব্যস্ত নাচ, গান আর ফাইট–নির্ভর ছবিতে। কিন্তু এই গল্পটায় রাজি হওয়ার পর সে বেশ সিরিয়াস হয়। এই ছবির ফাঁকে অন্য কোনো কাজ করেনি। ছবি মুক্তির পর মানুষও এক দুর্দান্ত অভিনেতা শাকিবকে দেখতে পেয়েছিলেন।

অনেক দিন নতুন কোনো ছবিতে দেখা যাচ্ছে না কেনো?
দিলারা হানিফ পূর্ণিমা : আমি তো ছবিতে অভিনয় করতে চাই। আজ আমি যা, সবকিছু এই অঙ্গন থেকে এসেছে। কথা হচ্ছে, নতুন ছবির প্রস্তাব আসছে কিন্তু আমি কনভিন্স হওয়ার মতো তেমন কোনো গল্প পাচ্ছি না।
দিলারা হানিফ পূর্ণিমা : আমার কাছে সিনেমার ক্ষেত্রে প্রথম যে বিষয়টা কাজ করে, তা হচ্ছে পরিচালকের ভাবনাচিন্তা ও সুন্দর একটি গল্প। আর গল্পে আমার চরিত্র কতটা প্রভাব ফেলছে, সেটাও গুরুত্বপূর্ণ। আমি দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করছি, আমার এখনকার অবস্থান চিন্তা করে গল্প তৈরি হতে হবে। উপমহাদেশীয় ছবিতে আমাদের আগে যেসব নায়িকা কাজ করেছিলেন, তাঁদের অনেকে এখনো বেশ দাপটের সঙ্গে অভিনয় করছেন। প্রযোজক –পরিচালকেরা তাঁদের সময়োপযোগী করে উপস্থাপন করছেন। আমাকে নিয়েও পরিচালকদের সময়োপযোগীভাবে ভাবতে হবে ।

দিলারা হানিফ পূর্ণিমা  বলেন সবাই আমাকে রোমান্টিক লুক ও সুন্দরী নায়িকা, পরিপাটি ইমেজে দেখে অভ্যস্ত। কিন্তু এখন আমাকে এর বিপরীতে দেখলে খুব ভালো হয়। আমার খুব ইচ্ছে নেগেটিভ চরিত্র, ভিলেন টাইপের চরিত্রে কিছু করতে চাই। সিনেমা দেখে যেন ওই চরিত্রের প্রতি মানুষের ঘৃণা হয়। আমাকে নিয়ে এ ধরনের চরিত্র কেউ চিন্তাও করেনি আজ পর্যন্ত।

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়