spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

তিন জেলাতেই এসেছে মোট রেমিট্যান্সের অর্ধেকের বেশি

জেড নিউজ, ঢাকা:

বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি রেমিট্যান্স। বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, আমদানি ব্যয় মেটানো এবং গ্রামীণ অর্থনীতিতে ভোগ ও বিনিয়োগ বাড়াতে প্রবাসী আয় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। সদ্য বিদায়ী ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা–এই তিন জেলা থেকেই মোট রেমিট্যান্সের অর্ধেকেরও বেশি এসেছে। জেলাভিত্তিক প্রবাসী আয়ের তথ্য পর্যালোচনায় এমন তথ্য উঠে এসেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সদ্য বিদায়ী ২০২৫-২৬ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ৩ হাজার ৫৫৮ কোটি ডলারের সমপরিমাণ অর্থ দেশে পাঠিয়েছেন।

ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা জেলা মিলিয়ে মোট রেমিট্যান্সের প্রায় ৫৩ শতাংশ দেশে এসেছে। অন্যদিকে দেশের বাকি ৬১টি জেলা ভাগাভাগি করেছে অবশিষ্টাংশ। উল্লেখিত সময়ে এই তিন জেলায় এসেছে ১ হাজার ৮৮২ কোটি ডলার, যা মোট রেমিট্যান্সের ৫২ দশমিক ৯২ শতাংশ। রেমিট্যান্স আহরণে শীর্ষ ১০ জেলার মধ্যে এরপরের অবস্থানে রয়েছে যথাক্রমে সিলেট, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর, টাঙ্গাইল ও মুন্সিগঞ্জ।

অর্থনীতিবিদদের মতে, এই চিত্র দীর্ঘদিনের অভিবাসন প্রবণতা এবং প্রবাসী নেটওয়ার্কের ফল। এই প্রবণতা শুধু আঞ্চলিক বৈষম্যের ইঙ্গিতই নয়, বরং দেশের অভিবাসন, অর্থনীতি ও সামাজিক কাঠামোর একটি গুরুত্বপূর্ণ বাস্তবতাও তুলে ধরে। তাঁদের মতে, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লা থেকে বহু দশক ধরে মধ্যপ্রাচ্য, ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, ইতালি, মালয়েশিয়া ও উত্তর আমেরিকায় শ্রমিক, ব্যবসায়ী এবং পেশাজীবীদের অভিবাসনের ধারা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা ইনস্টিটিউট ফর ইনক্লুসিভ ফাইন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (আইএনএম) নির্বাহী পরিচালক এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক প্রধান অর্থনীতিবিদ ড. মুস্তফা কে মুজেরি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই এই তিন জেলার বিদেশে যাওয়া লোকের সংখ্যা বেশি। এ কারণে এসব এলাকায় প্রবাসী আয়ও বেশি।

তিনি বলেন, একবার কোনো এলাকায় অভিবাসনের পথ তৈরি হলে আত্মীয়স্বজন ও পরিচিতদের মাধ্যমে একই এলাকা থেকে নতুন অভিবাসীর সংখ্যা বাড়তে থাকে। ফলে রেমিট্যান্সও সেই অঞ্চলেই বেশি কেন্দ্রীভূত হয়।

এই অর্থনীতিবিদ আরও বলেন, রেমিট্যান্সের এই ভৌগোলিক কেন্দ্রীভবনের ফলে সংশ্লিষ্ট জেলাগুলোতে আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, ক্ষুদ্র ব্যবসা এবং ভোক্তা ব্যয়ের পরিমাণ তুলনামূলক দ্রুত বৃদ্ধি পায়। একই সঙ্গে ব্যাংক আমানত ও স্থানীয় বিনিয়োগও বাড়ে। তবে এর বিপরীতে যেসব জেলা থেকে বিদেশগামী কর্মীর সংখ্যা কম, সেসব এলাকায় অর্থনৈতিক গতিশীলতা তুলনামূলক কম থাকে। ফলে আঞ্চলিক বৈষম্য আরও প্রকট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, চট্টগ্রাম ও কুমিল্লার ক্ষেত্রে পারিবারিক ও সামাজিক নেটওয়ার্ক বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরিতে বড় ভূমিকা রাখে। অন্যদিকে রাজধানী ঢাকা শুধু নিজ জেলার বাসিন্দাদের নয়, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মানুষের ব্যাংকিং ও আর্থিক লেনদেনের কেন্দ্র হিসেবেও কাজ করে। ফলে অনেক রেমিট্যান্স ঢাকার ব্যাংক শাখার মাধ্যমে হিসাবভুক্ত হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়