spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

কেমন হবে জান্নাতের নেয়ামতরাজি

জেড নিউজ , ঢাকা :

জান্নাতের সুখশান্তি ও নিয়ামত আর দুনিয়ার সুখ-ভোগ এক ধরনের হবে না। জান্নাতের বিভিন্ন জিনিসের জন্য দুনিয়ার পরিচিত নাম ব্যবহার করা হয়েছে শুধু আমাদের বোঝানোর সুবিধার্থে।

ইবনু আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত আছে, ‘জান্নাতে এমন কোনো বস্তু নেই, যা দুনিয়ার বস্তুর সঙ্গে প্রকৃত অর্থে সাদৃশ্যপূর্ণ—শুধু নামের মিল রয়েছে।’ (আল জামিউস সাগির, হাদিস : ৭৬১৪)

অর্থাৎ দুনিয়া ও জান্নাতের কোনো কিছুর নাম একই হতে পারে, কিন্তু তার প্রকৃতি, গুণ, সৌন্দর্য ও বাস্তবতা সম্পূর্ণ ভিন্ন। যেমন—পিঁপড়ারও ‘হাত’ আছে, হাতিরও ‘হাত’ (শুঁড় বা অঙ্গ) আছে। উভয়ের নাম একই হলেও আকার, শক্তি ও বৈশিষ্ট্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য।ঠিক তেমনি দুনিয়ায় যেমন ফল, মাংস, ডালিম, খেজুর ইত্যাদি রয়েছে, জান্নাতেও এসবের নাম থাকবে। কিন্তু জান্নাতের ফলমূল ও খাবার দুনিয়ার সর্বোত্তম জিনিসের সঙ্গেও তুলনীয় নয়।

জান্নাতের ঘরবাড়ি

দুনিয়ার বাড়ি নির্মাণ করতে মানুষকে সারা জীবন পরিশ্রম করতে হয়। এর পরও তা ভেঙে যায়, মেরামতের প্রয়োজন হয়, নকশায় ত্রুটি দেখা দেয় কিংবা বসবাসে অস্বস্তি অনুভূত হয়।

কিন্তু জান্নাতের প্রাসাদ সম্পর্কে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘এর একটি ইট হবে স্বর্ণের, আরেকটি রৌপ্যের। এর গাঁথুনি হবে সুগন্ধি কস্তুরি দ্বারা। এর মাটি হবে জাফরানের, আর নুড়িপাথর হবে মুক্তা ও ইয়াকুতের। যে এতে প্রবেশ করবে সে চিরসুখে থাকবে; কখনো কষ্ট পাবে না, কখনো মৃত্যুবরণ করবে না, তার পোশাক পুরনো হবে না এবং তার যৌবন কখনো শেষ হবে না।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৫২৬)

জান্নাতের কিছু ঘর হবে বিশাল মুক্তা দিয়ে তৈরি খিমা।

 

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মুমিনের জন্য জান্নাতে একটি ফাঁপা মুক্তার তৈরি তাঁবু থাকবে, যার দৈর্ঘ্য হবে ৬০ মাইল। সেখানে তার পরিবারের সদস্যরা থাকবে; একজন আরেকজনকে দেখতে পাবে না।’ (বুখারি, হাদিস : ৪৮৭৯)

ভাবুন তো দুনিয়ায় কি কখনো এত বিশাল একটি মুক্তা দেখা সম্ভব?

জান্নাতের নদী

দুনিয়ার নদী দূষিত হয়, শুকিয়ে যায়, লবণাক্ত হয় কিংবা ময়লাযুক্ত হয়। কিন্তু আল্লাহ বলেন, ‘সেখানে আছে এমন পানির নদী, যা কখনো পচে না; দুধের নদী, যার স্বাদ বদলায় না; পানকারীদের জন্য সুস্বাদু মদের নদী এবং বিশুদ্ধ মধুর নদী।’ (সুরা : মুহাম্মাদ, আয়াত : ১৫)

জান্নাতের স্ত্রী

দুনিয়ার মানুষ নানা দোষত্রুটির অধিকারী। কিন্তু জান্নাতের স্ত্রীরা হবেন সম্পূর্ণ পবিত্র। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের জন্য থাকবে পবিত্র স্ত্রীরা।’ (সুরা : আল-বাকারা, আয়াত : ২৫)

তাঁরা হবেন ঋতুস্রাব, প্রসবোত্তর রক্ত, অপবিত্রতা, রোগব্যাধি এবং সব ধরনের কষ্ট থেকে মুক্ত। তাঁদের সৌন্দর্য হবে অতুলনীয়, চরিত্র হবে নির্মল। আল্লাহ বলেন, ‘তারা নিজেদের দৃষ্টি শুধু নিজেদের স্বামীদের দিকেই সীমাবদ্ধ রাখবে।’ (সুরা : আর-রাহমান, আয়াত : ৫৬)

রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যদি জান্নাতের কোনো নারী পৃথিবীর দিকে একবার উঁকি দিতেন, তবে আসমান ও জমিনের মধ্যবর্তী সবকিছু আলোকিত হয়ে যেত এবং সুগন্ধিতে ভরে যেত। আর তার মাথার ওড়নাটিও দুনিয়া ও তার সব কিছুর চেয়ে উত্তম।’ (সহিহ বুখারি)

 জান্নাতের খাদ্য

দুনিয়ার খাবার যতই সুস্বাদু হোক, শেষ পর্যন্ত তা নষ্ট হয়ে যায় এবং অপবিত্র বস্তুর রূপ ধারণ করে। কিন্তু জান্নাতের খাদ্য হবে সম্পূর্ণ ভিন্ন। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের জন্য থাকবে এমন পাখির গোশত, যা তারা ইচ্ছা করবে।’ (সুরা : আল-ওয়াকিয়াহ, আয়াত : ২১)

আল্লাহ তাআলা আরো বলেন, ‘আর থাকবে নানা রকম ফল, যা তারা নিজেদের পছন্দমতো বেছে নেবে।’ (সুরা : আল-ওয়াকিয়াহ, আয়াত : ২০)

 

সেখানে মানুষ শত গুণ বেশি উপভোগের ক্ষমতা নিয়ে আহার করবে। কোনো ক্ষতি, অসুস্থতা বা বিরক্তি থাকবে না। দুনিয়ায় মানুষ সুস্বাদু খাবারের টেবিলে বসেও নানা কারণে সব খেতে পারে না। কিন্তু জান্নাতে এমন কোনো সীমাবদ্ধতা থাকবে না। আল্লাহ বলেন, ‘তাদের ওপর থাকবে গাছের ছায়া, আর ফলের থোকাগুলো তাদের জন্য একেবারে নিচু করে দেওয়া হবে।’ (সুরা : আল-ইনসান, আয়াত : ১৪)

অর্থাৎ ফল সংগ্রহের জন্য কোনো কষ্টই করতে হবে না।

জান্নাতের নিয়ামত মানুষের কল্পনারও অতীত

এসব বর্ণনা নিয়ে চিন্তা করলে স্পষ্ট বোঝা যায়, জান্নাতের নিয়ামত দুনিয়ার কোনো কিছুর সঙ্গে তুলনা করা যায় না। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘কোনো প্রাণীই জানে না, তাদের জন্য তাদের আমলের প্রতিদান হিসেবে কী ধরনের চোখ জুড়ানো আনন্দ গোপন করে রাখা হয়েছে।’ (সুরা : আস-সাজদাহ, আয়াত : ১৭)

 

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়