০৬/০৪/২০২৬, ১৯:০৭ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের প্রভাবে ঊর্ধ্বগতি শিল্পের কাঁচামালের দামে, উৎপাদন ব্যাহতের শঙ্কা

    জেড নিউজ, ঢাকা:

    মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবে বৈশ্বিক জ্বালানি মূল্য, জাহাজ ভাড়া এবং কাঁচামালের দাম ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ায় বাংলাদেশের শিল্প উৎপাদন তীব্র সংকটে পড়েছে।

    শিল্পখাতের নেতারা সতর্ক করে বলেছেন, সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে উৎপাদন ব্যয় আরও বাড়বে, যার প্রভাব শেষ পর্যন্ত ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের মূল্যস্ফীতির মাধ্যমে প্রতিফলিত হবে।

    বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাতের রপ্তানিকারকরা ইতোমধ্যে আর্থিক চাপে পড়েছেন। আগে থেকেই নিশ্চিত হওয়া রপ্তানি আদেশে তারা বাড়তি কাঁচামাল ব্যয় বহন করতে বাধ্য হচ্ছেন। বৈশ্বিক চাহিদা কমে যাওয়ায় এই অতিরিক্ত খরচ ক্রেতাদের ওপর চাপিয়ে দেওয়ার সুযোগও কমে গেছে, ফলে মুনাফার মার্জিন কমে যাচ্ছে এবং লোকসানের ঝুঁকি বাড়ছে।

     এর মধ্যে নন-কটন ফেব্রিকের দাম প্রায় ১৯ শতাংশ, পলিয়েস্টার ফিলামেন্ট সুতা ৭৯ শতাংশ, কটন সুতা ১৮ শতাংশ, রাসায়নিক ৫০ থেকে ১৮৩ শতাংশ, ইস্পাত কাঁচামাল ১৭ শতাংশ, ক্লিংকার ৩৪ শতাংশ, প্লাস্টিক রজন ৬৭ শতাংশ এবং ওষুধ শিল্পের কাঁচামাল বা অ্যাকটিভ ফার্মাসিউটিক্যাল ইনগ্রেডিয়েন্টস (এপিআই)-এর দাম প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।

    অন্যদিকে দেশে এখনো জ্বালানি তেলের দাম সরকার না বাড়ালেও পরিবহন খরচ বাড়তে শুরু করেছে। উদ্যোক্তারা বলছেন, এই খরচ ইতিমধ্যে প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে, যা উৎপাদন ব্যয়ের ওপর আরও চাপ সৃষ্টি করছে।

    রাসায়নিকের দামে সবচেয়ে বেশি ঊর্ধ্বগতি দেখা গেছে। রাসায়নিকের দাম প্রকারভেদে ৫০ থেকে ১৮৩ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, আর কেবল ডাইং কেমিক্যালের দাম এক মাসে ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বেড়েছে।

    কিন্তু এই ধরনের মূল্যবৃদ্ধির কারণে উদ্যোক্তারা ইটিপি ঠিকমত ব্যবহার করতে পারবেন না। এতে বর্জ্য নদী, খালবিলে গিয়ে পরিবেশ দূষণ বাড়াবে।

    সিমেন্ট ও ইস্পাত খাতেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ক্লিংকারের দাম প্রতি টন ৪৩ ডলার থেকে বেড়ে ৫৮ ডলারে উঠেছে।

    অন্যদিকে ইস্পাত আমদানিকারকরা জানিয়েছেন, ইস্পাতের কাঁচামালের দাম ৬০০ ডলার থেকে বেড়ে ৭০০ ডলারে পৌঁছেছে। উচ্চমূল্যের কারণে কিছু আমদানিকারক ঋণপত্র (এলসি) খোলা বিলম্বিত করছেন।

    ওষুধ শিল্পও চাপে রয়েছে। বৈশ্বিক পরিস্থিতির কারণে প্রায় সব ফার্মাসিউটিক্যাল কাঁচামালে দাম গড়ে ৩০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে, যা উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে ওষুধ শিল্পকে চাপে ফেলছে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়