জেড নিউজ, ঢাকা :
মহান আল্লাহ মানবজাতিকে অসংখ্য নিয়ামত দিয়েছেন। শারীরিক সুস্থতা, অর্থ-সম্পদ, মেধা, প্রাকৃতিক সম্পদ থেকে শুরু করে জীবনের পরতে পরতে মহান আল্লাহর দেওয়া অগণিত নিয়ামত রয়েছে। যার সবই মহান আল্লাহর পক্ষ থেকে আমানত। মানুষের দায়িত্ব এই আমানতগুলো যথাযথভাবে রক্ষা করা, আল্লাহর দেওয়া নিয়ামতকে যথাযথভাবে ব্যবহার করা।
অপব্যবহার বা অবহেলা না করা। কোনো অবস্থায়ই যেন নিয়ামতের অপচয় না হয়, সে ব্যাপারে সচেষ্ট থাকা। কেননা প্রতিটি অপচয়ই নীরবে ক্ষতি ও বিপদ ডেকে আনে। যার প্রভাব ব্যক্তি, পরিবার থেকে শুরু করে রাষ্ট্র পর্যন্ত পড়তে পারে।
অপচয় সম্পর্কে সতর্ক করে মহান আল্লাহ বলেছেন, অপচয়কারীরা শয়তানের ভাই। আর শয়তান তার রবের প্রতি খুবই অকৃতজ্ঞ। (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ২৭)
এ আয়াত আমাদের বুঝিয়ে দেয় অপচয় শুধু অর্থনৈতিক সমস্যা নয়, এটি ঈমান ও নৈতিকতার সঙ্গেও গভীরভাবে জড়িত।
লোক-দেখানো কিংবা প্রতিযোগিতার উদ্দেশে অপ্রয়োজনীয় খরচ করা জীবনে নানা ধরনের অকল্যাণ ডেকে আনে।
এই অপচয় শুধু এক অপরাধে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং তার সঙ্গে যোগ হয় অহংকার ও বড়াই করার অপরাধ, যা আল্লাহ তাআলাকে ক্রোধান্বিত করে। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেছেন, ‘আর জমিনে বড়াই করে চলো না; তুমি তো কখনো জমিনকে ফাটল ধরাতে পারবে না এবং উচ্চতায় কখনো পাহাড় সমান পৌঁছতে পারবে না।’ (সুরা : বনি ইসরাঈল, আয়াত : ৩৭)
তাই লোক-দেখানোর উদ্দেশে অপচয় করা মূর্খতা বৈ কিছু নয়। এটি একটা পর্যায়ে গিয়ে জীবনের বরকত তুলে নেয় এবং মানসিক চাপ বাড়ায়। সমাজে ব্যাপকভাবে এই প্রতিযোগিতা চললে, তার প্রভাব সামাজিক ও রাষ্ট্রীয় জীবনেও পড়ে।



