২১/০৩/২০২৬, ১২:৫৬ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    ট্রাম্পের ‘বোর্ড অব পিস’ জাতিসংঘের বিকল্প

    জেড নিউজ:
    ’আমরা একসঙ্গে এমন এক অবস্থানে রয়েছি, যেখানে দশকের পর দশক ধরে চলা দুর্ভোগ চলছে। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে জমে থাকা ঘৃণা ও রক্তপাত থামানো এবং ওই অঞ্চলসহ সারা বিশ্বের জন্য একটি সুন্দর, স্থায়ী ও গৌরবময় শান্তি গড়ে তোলা সম্ভব।’— এই ছিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সেই উচ্চাভিলাষী প্রতিশ্রুতি।

    এটি বাস্তবায়নে ট্রাম্প চলতি সপ্তাহে বিশ্বের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মঞ্চ দাভোস ইকোনমিক ফোরামে নিজের নতুন ‘বোর্ড অব পিস’ উদ্বোধনের ঘোষণা দেন। খবর বিবিসির

    অত্যধিক দুর্ভোগ ও সংঘাতে জর্জরিত এই পৃথিবী তাকে (ট্রাম্প) ভীষণভাবে বিশ্বাস করতে চায়। কিন্তু বিশ্বের বিভিন্ন রাজধানীর অনেক পর্যবেক্ষক ও কর্মকর্তার মতে, এটি ট্রাম্পের সেই উদ্যোগের আরও এক প্রমাণ—যার লক্ষ্য দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী আন্তর্জাতিক কাঠামো ভেঙে ফেলা এবং তার জায়গায় নতুন প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলা, যা তার প্রভাবের অধীনে থাকবে।

    সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সংক্ষেপে সতর্ক করে এক পোস্ট দেন পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক। তিনি বলেন, ‘আমরা কাউকে আমাদের নিয়ে খেলতে দেব না।’

    তবে ইউরোপে ট্রাম্পের সবচেয়ে বড় সমর্থক ভিক্টর অরবান উচ্ছ্বসিত প্রশংসা করে বলেন, ‘ট্রাম্প থাকলে শান্তি।’

    এই বোর্ডটি ঠিক কী করবে, যার নেতৃত্ব আজীবন ট্রাম্প দেবেন? এটি কি সত্যিই জাতিসংঘের একটি ক্ষুদ্র সংস্করণ হিসেবে গড়ে তোলার প্রচেষ্টা?

    বোর্ড চেয়ারম্যানের ক্ষমতা

    গত বছর গাজা যুদ্ধের অবসানে যুক্তরাষ্ট্র নেতৃত্বাধীন প্রচেষ্টায় জন্ম নেওয়া এই ধারণা— যা জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের একটি প্রস্তাবের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়েছিল। এখন এটি আরও বৃহত্তর, মহাকায় এবং বৈশ্বিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা নিয়ে এগোচ্ছে। আর সবকিছুর কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।

    ফাঁস হওয়া খসড়া সনদের তথ্যে দেখা যায়, ট্রাম্প পদ ছাড়ার পরও আজীবনের জন্য বোর্ডের চেয়ারম্যান থাকবেন। ওই সনদ অনুযায়ী, তার ক্ষমতা হবে ব্যাপক। কোনো দেশকে সদস্য হিসেবে আমন্ত্রণ জানানো হবে বা হবে না, উপ-সংস্থা বা সহায়ক সংস্থা গঠন বা বিলুপ্ত করা। এমনকি যখন ইচ্ছা পদত্যাগ করলে কিংবা অক্ষম হলে নিজ উত্তরসূরি নিয়োগের ক্ষমতাও থাকবে তার হাতে।
    অন্য কোনো দেশ যদি স্থায়ী সদস্য হতে চায়, তার মূল্য ধরা হয়েছে চোখ কপালে তোলার মতো—১০০ কোটি ডলার (৭৪ কোটি পাউন্ড)।

    এই নতুন বোমা ফাটানো তথ্য এমন এক সময়ে সামনে এলো— যখন সময়টি ইতিমধ্যেই ঘটনাবহুল। মাত্র কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ঘটেছে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্টকে যুক্তরাষ্ট্রের কব্জায় নেওয়া, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপের হুমকি ও প্রস্তুতি, আর গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণের ট্রাম্পের দাবি—যা ইউরোপজুড়ে এবং তার বাইরেও আলোড়ন তুলেছে।

    দাভোসে বোর্ডের উদ্বোধনে বিশ্বের ১৯টি দেশ উপস্থিত ছিল। এর মধ্যে আর্জেন্টিনা থেকে আজারবাইজান, সাবেক সোভিয়েত প্রজাতন্ত্র থেকে উপসাগরীয় রাজতন্ত্র পর্যন্ত ছিল। আরও বহু দেশ ‘যোগ দিতে সম্মত হয়েছে’ বলেও জানা গেছে।

    ট্রাম্প হাসতে হাসতে বলেন, ‘এই দলে আমি প্রত্যেককে পছন্দ করি।’ তবে যারা এই বোর্ডে যোগ দিতে পারেন তারা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে সাড়া দেননি। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার বলেন, ‘এটি এমন একটি চুক্তি, যা আরও বিস্তৃত প্রশ্ন উত্থাপন করে, এবং শান্তি-সংক্রান্ত কোনো উদ্যোগের অংশ হিসেবে প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের উপস্থিতি নিয়ে আমাদেরও উদ্বেগ রয়েছে।

    ট্রাম্প বলছেন, রাশিয়া এতে যুক্ত আছে, যদিও মস্কো থেকে বার্তা এসেছে যে, তারা এখনো ‘অংশীদারদের সঙ্গে পরামর্শ করছে। তবে ‘বর্তমান প্রস্তাব অনুযায়ী’ সুইডেন জানায়, আমরা যোগ দিচ্ছি না।

    ‘প্রস্তাবটি এমন কিছু প্রশ্ন উত্থাপন করেছে, যার উত্তর পেতে ওয়াশিংটনের সঙ্গে আরও সংলাপ প্রয়োজন’—এভাবেই কূটনৈতিক ভাষায় প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে নরওয়ে।

    এমনকি মুসলিমপ্রধান সাতটি দেশের একটি জোট—যার মধ্যে ছয়টি আরব দেশ, তুরস্ক ও ইন্দোনেশিয়া। তারা স্পষ্ট করেছে ‘বোর্ড অব পিসে’ যুক্ত হওয়ার। ‘গাজায় ন্যায়সংগত ও স্থায়ী শান্তি’র জন্য, যার মধ্যে বিধ্বস্ত অঞ্চলটির পুনর্গঠনও রয়েছে—এজন্য তারা যোগ দেবে।

    তবে বোর্ডের সনদের ফাঁস হওয়া তথ্যে গাজার কোনো উল্লেখ নেই।

    এটি এমন এক প্রেসিডেন্টের আত্মগৌরবের প্রকল্প, যিনি সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি, নোবেল শান্তি পুরস্কার জয়ের আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ্যে বলে বেড়ান। পুরস্কারটি ২০০৯ সালে হোয়াইট হাউসে প্রথম মেয়াদের শুরুতে পেয়েছিলেন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা।

    বিশ্বনেতারা জানেন, এই নতুন ক্লাবে যোগ না দিলে তার মূল্য দিতে হতে পারে। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাক্রোঁকে হুঁশিয়ারি দেন ট্রাম্প। পছন্দের অস্ত্র ব্যবহারের হুমকি দিয়ে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি তার ওয়াইন ও শ্যাম্পেনের ওপর ২০০ শতাংশ শুল্ক বসাব, তখন সে যোগ দেবে। তবে তাকে যোগ দিতেই হবে এমন নয়।’

    শুধু স্লোভেনিয়া প্রকাশ্যে উদ্বেগ জানায়। প্রধানমন্ত্রী রবার্ট গোলব স্পষ্ট করে বলেন—এটি ‘বিপজ্জনকভাবে বিস্তৃত আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করছে।’

    এই উদ্বেগের জবাব ট্রাম্প সরাসরি দেন। বলেন, ‘এই বোর্ড পুরোপুরি গঠিত হয়ে গেলে, আমরা প্রায় যা ইচ্ছা তাই করতে পারব এবং জাতিসংঘের সঙ্গে সমন্বয় করেই তা করব।’

    এই মন্তব্যের একদিন আগে ফক্স টিভির এক সাংবাদিক ট্রাম্পকে জিজ্ঞেস করেছিলেন, তার বোর্ড কি জাতিসংঘকে প্রতিস্থাপন করবে। তিনি জবাব দেন, ‘হয়তো করবে। জাতিসংঘ খুব একটা সহায়ক হয়নি।’

    এরপর তিনি যোগ করেন, ‘জাতিসংঘের সম্ভাবনার আমি বড় ভক্ত, কিন্তু সংস্থাটি কখনোই সেই সম্ভাবনার যথাযথ ব্যবহার করতে পারেনি। আমি যে যুদ্ধগুলোর মীমাংসা করেছি, সেগুলো জাতিসংঘেরই মিটিয়ে ফেলা উচিত ছিল।’

    শান্তির প্রধান মধ্যস্থতাকারীর নতুন দাবিদার

    ১৯৩ সদস্যের জাতিসংঘ বহু আগেই কার্যত শান্তির প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা হারিয়েছে। ২০১৬ সালের অক্টোবরে জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের প্রথম মেয়াদের একেবারে প্রথম দিনেই শক্তি হারিয়েছে সংস্থাটি।

    গত এক দশকে জাতিসংঘের প্রচেষ্টা বারবার ব্যাহত হয়েছে—অচল নিরাপত্তা পরিষদ, বিশ্বজুড়ে চলমান যুদ্ধে শান্তি ব্যাহতকারী পক্ষ ও রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষক দেশগুলোর সংখ্যা ক্রমাগত বেড়ে যাওয়ার কারণে। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী শক্তিগুলোর তুলনায় সংস্থাটির নিজস্ব অবস্থান ক্রমাগত ক্ষয়ে যাওয়ার কারণেও।

    জাতিসংঘের অভিজ্ঞ কর্মকর্তা মার্টিন গ্রিফিথস বলেন, ‘যুদ্ধের অবসানে ট্রাম্পের সক্রিয়তাকে আমাদের সবাইকে স্বাগত জানানো উচিত।’
    গ্রিফিথস মনে করেন, নতুন উদ্যোগটি ‘স্পষ্টতই জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ এবং বৃহত্তর জাতিসংঘের ব্যর্থতার প্রতিফলন।’

    তবে মানবিকবিষয়ক ও জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী হিসেবে দায়িত্ব পালন করা সাবেক এই আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল সতর্ক করে বলেন, ‘গত ৮০ বছরে অসংখ্য ব্যর্থতা ও জড়তার মধ্য দিয়ে আমরা যা শিখেছি, তা হলো অন্তর্ভুক্তির গুরুত্ব। অর্থাৎ, এটি কেবল ট্রাম্পের বন্ধুদের জন্য নয়, বরং বিশ্ব সম্প্রদায়ের পক্ষে প্রতিনিধিত্বশীল থাকা সম্পর্কেও প্রযোজ্য।’

    গুতেরেস নিজেও সম্প্রতি আক্ষেপ করে বলেন, ‘এমন মানুষও আছেন যারা মনে করেন; আইনের শাসনের জায়গায় শক্তির শাসন আসা উচিত।’

    ট্রাম্প ক্রমাগত দাবি করেন, তিনি আটটি যুদ্ধের ইতি টেনেছেন। এ বিষয়ে বিবিসির ‘টুডে’ অনুষ্ঠানে এক সাক্ষাৎকারে গুতেরেসের কাছে জানতে চাওয়া হলে বাস্তববাদী ভঙ্গিতে তিনি বলেন, ‘ওগুলো যুদ্ধবিরতি।’ এর কিছু ইতোমধ্যেই ভেঙে পড়েছে।

    রুয়ান্ডা ও গণপ্রজাতন্ত্রী কঙ্গোর মধ্যে অস্থায়ী শান্তি চুক্তি দ্রুত ভেস্তে যায়, সীমান্তে পরস্পরের বিরুদ্ধে পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ফের শুরু করে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড, আর পাকিস্তানের সঙ্গে সংঘাতের অবসানে ট্রাম্পের কেন্দ্রীয় ভূমিকার দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ভারত।

    তবে ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে ১২ দিনের যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ট্রাম্পের দৃঢ় মধ্যস্থতাই কার্যকর হয়েছিল।

    গাজায় বিধ্বংসী সংঘাতের অবসানে গত অক্টোবরে তার (ট্রাম্প) ব্যক্তিগত হস্তক্ষেপই শেষ পর্যন্ত যুদ্ধবিরতি নিশ্চিত করে—যা একদিকে ফিলিস্তিনিদের দুর্ভোগ কমায়, অন্যদিকে ইসরায়েলি জিম্মিদের যন্ত্রণা লাঘব করে।

    আরব মিত্রদের অনুরোধ ও শোকাহত ইসরায়েলি পরিবারগুলোর চাপে কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখাতে গিয়ে এই বিপর্যয়ের দিকে পূর্ণ মনোযোগ দেন ট্রাম্প। তখন তিনি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ও হামাসের মধ্যে সমঝোতার জন্য চাপ সৃষ্টি করেন।

    তবু বোর্ডের প্রথম পরীক্ষা—গাজা যুদ্ধের অবসানে চুক্তির প্রথম ধাপ থেকে পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হওয়া। এটি অত্যন্ত কঠিন হতে পারে।

    এই নতুন বোর্ডের সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন নেতানিয়াহু ও আরব নেতারা। নেতানিয়াহু ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা ঠেকাতে অঙ্গীকার করেছেন। আরব নেতারা মনে করেন যে, টেকসই শান্তির একমাত্র পথ হলো ফিলিস্তিনিদের স্বশাসন ও ইসরায়েলি দখলদারির অবসান।

    আর যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের এজেন্ডায় থাকা আরেক বড় যুদ্ধ হলো ইউক্রেন। প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কো ও মিনস্কের সঙ্গে একই টেবিলে বসতে অনীহা দেখিয়েছেন।

    ট্রাম্পের ‘শান্তি বোর্ডে’র অধীনে রয়েছে তিনটি স্তর—যার বেশিরভাগই গাজাকেন্দ্রিক। সেগুলো হল— নির্বাহী বোর্ড, গাজার একটি নির্বাহী বোর্ড ও গাজা প্রশাসনের জন্য জাতীয় কমিটি।

    এগুলোতে একত্রিত হয়েছেন জ্যেষ্ঠ মার্কিন কর্মকর্তা ও বিলিয়নিয়াররা, পাশাপাশি গাজা সম্পর্কে অভিজ্ঞ সাবেক রাজনীতিক ও সাবেক জাতিসংঘ দূত, আরব মন্ত্রী ও গোয়েন্দা প্রধান এবং ফিলিস্তিনি টেকনোক্র্যাটরা। কিছু সমালোচকও স্বীকার করেন যে, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আবার একটি পুরোনো বিতর্ক আলোচনায় এনেছেন—দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর প্রতিষ্ঠিত জাতিসংঘ কাঠামোটির সংস্কারের অবিরাম দাবি, বিশেষ করে এমন একটি নিরাপত্তা পরিষদকে নিয়ে। এটি এখন আর বিশ্বের প্রতিটি অঞ্চলের প্রধান শক্তির রাজনৈতিক মানচিত্রের সঙ্গে সংগতিপূর্ণ নয়। এটি আসলেই উদ্দেশ্য অনুযায়ী কার্যকর নয়।

    জাতিসংঘের সাবেক উপ-মহাসচিব মার্ক মালক ব্রাউন মন্তব্য করেছেন, ‘হয়তো ট্রাম্প যা করেছেন, তার একটি অনিচ্ছাকৃত ভালো পরিণতি হলো—এই বিষয়গুলো আবার আন্তর্জাতিক এজেন্ডার শীর্ষে উঠে আসবে।’

    তিনি আরও বলেন, ‘আমরা অত্যন্ত দুর্বল জাতিসংঘ নেতৃত্বের একটি সময়কাল থেকে বেরিয়ে আসছি, এবং আমার মনে হয়, এটি হতে পারে কার্যকর পদক্ষেপের একটি আহ্বান।’ পরিহাসের বিষয় হলো, বিশ্বকে শান্তির পথে নেতৃত্ব দেওয়ার ট্রাম্পের উদ্যোগ এমন এক সময়ে এসেছে, যখন অনেক রাজধানীতে গুতেরেসের উত্তরসূরি নিয়ে আলোচনা জোরদার হচ্ছে। গুতেরেস এ বছরের শেষে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ করবেন।

    একদিনেই ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করতে পারবেন—এক সময় মন্তব্য করেছিলেন যেই প্রেসিডেন্ট। তিনি ক্ষমতার শেষ বছরে এসে শিখেছেন— শান্তি প্রতিষ্ঠা একটি দীর্ঘ ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রক্রিয়া।

    তবু আজ তিনি মধ্যপ্রাচ্যকে এমন এক অঞ্চল হিসেবে তুলে ধরেন, যেখানে এখন কেবল ‘ছোটোখাটো সংঘাত’ চলছে। তিনি প্রতিশ্রুতি দেন, ইউক্রেনে একটি সমঝোতা ‘খুব শিগগিরই আসছে।’

    আর সম্ভাব্য প্রধান শান্তি মধ্যস্থতাকারী হিসেবে নিজের নতুন ভূমিকায় ট্রাম্প দারুণ উচ্ছ্বসিত ছিলেন। তিনি উচ্চৈঃস্বরে ঘোষণা করেন, ‘এটি বিশ্বের জন্য।’

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়