ভারতে আবারও মোদি সরকারের স্বৈরাচারী চরিত্র নগ্নভাবে প্রকাশ পেল। লাদাখে জেন- জি’র নেতৃত্বে হওয়া বিক্ষোভে যখন হাজারো মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে তাদের ন্যায্য দাবি তুলে ধরছিলেন, তখনই কেন্দ্রীয় সরকারের নির্দেশে দমনপীড়ন চালায় পুলিশ। এতে সংঘর্ষে অন্তত চারজন প্রাণ হারিয়েছেন, আহত হন ৫০ জনের বেশি।
আন্দোলন দমনে লাদাখ জুড়ে ব্যাপক ধরপাকড় চালানো হয়। এরমধ্যে লাদাখ রাজ্য মর্যাদা আন্দোলনের অন্যতম নেতা এবং বলিউডের জনপ্রিয় সিনেমা ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর বাস্তব চরিত্র হিসেবে পরিচিত সোনম ওয়াংচুককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে পাকিস্তানি গোয়েন্দার সঙ্গে যোগাযোগ রাখা, সীমান্তপারের কাছে তথ্য সরবরাহ করা এবং সহিংসতা উসকে দেওয়ার মতো গুরুতর সব অভিযোগ তোলা হয়েছে।
শনিবার এক সংবাদ সম্মেলনে লাদাখ পুলিশের মহাপরিচালক এস. ডি. সিং জামওয়াল জানান, সম্প্রতি পাকিস্তানি গোয়েন্দা সংস্থার এক এজেন্টের সঙ্গে ওয়াংচুকের যোগাযোগ প্রমাণ পেয়েছেন তারা। তিনি পাকিস্তানে একটি অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন, বাংলাদেশেও সফর করেছেন। তার বিষয়ে অনেক প্রশ্নের উত্তর প্রয়োজন বলে দাবি করেন ওই পুলিশ কর্মকর্তা।
ডিজিপি জামওয়াল বলেন, ওয়াংচুক অতীতেও বারবার উত্তেজনাপূর্ণ বক্তব্য দিয়েছেন। তিনি আরব বসন্ত, নেপাল ও বাংলাদেশের আন্দোলনের উদাহরণ টেনে স্থানীয় মানুষকে উসকেছেন। পুলিশের দাবি, তার উসকানিতে সহিংসতা ছড়িয়েছে।
এদিকে, ওয়াংচুককে গ্রেফতারের পর আরো ক্ষোভে ফুঁসে উঠছে জেন জি প্রজন্ম। লাদাখের তরুণরা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, তারা আর মোদি সরকারের প্রতিশ্রুতির ভাঁওতাবাজি মেনে নেবে না। ২০১৯ সালে ৩৭০ ধারা বিলোপের পর কেন্দ্র লাদাখকে উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। বাস্তবে সেখানে স্থানীয়দের জমি দখল, পরিবেশ ধ্বংস, চাকরির সুযোগ হ্রাস আর বঞ্চনার পাহাড় গড়ে উঠেছে। তবুও মোদি সরকার এসব সমস্যার সমাধান না করে উল্টো দমননীতি বেছে নিয়েছে।
মোদির শাসনামলে এটা নতুন নয়। কারন কাশ্মীর থেকে মণিপুর, এবার লাদাখ- যেখানেই মানুষ নিজেদের অধিকার দাবি করছে, সেখানেই রক্ত ঝরছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ দমনে গুলি, টিয়ারগ্যাস, লাঠিচার্জ, গ্রেফতার- এটাই এখন মোদি সরকারের একমাত্র জবাব।
জেড নিউজ, ঢাকা ।



