spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

লাফিয়ে বেড়ে বিশ্ববাজারে সাত সপ্তাহের সর্বোচ্চে স্বর্ণের দাম

জেড নিউজ, ঢাকা:

ট্রেজারি ইল্ড কমে আসা, ডলারের দুর্বলতা এবং হরমুজ প্রণালী খুলে দেয়ার বিষয়ে অগ্রগতির আশায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দাম প্রায় সাত সপ্তাহের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। একই সঙ্গে ফেব্রুয়ারির পর এটি সবচেয়ে বড় একদিনের মূল্যবৃদ্ধির দিকেও এগিয়েছে।

বার্তাসংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বুধবার (৫ আগস্ট) স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৪ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২৫৬ দশমিক ৮৫ ডলারে দাঁড়িয়েছে। দিনের একপর্যায়ে দাম ৪ হাজার ২৫৮ দশমিক ৯৯ ডলারে ওঠে, যা ১৮ জুনের পর সর্বোচ্চ। এ সময় স্বর্ণের দাম ৫০ দিনের মুভিং অ্যাভারেজ ৪ হাজার ১৬০ ডলারের ওপরে উঠে যায়, যা এখন বাজারে একটি গুরুত্বপূর্ণ সাপোর্ট হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।

ডিসেম্বরে সরবরাহের জন্য মার্কিন স্বর্ণের ফিউচার ৪ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৩১৭ দশমিক ৪০ ডলারে পৌঁছেছে।

স্বাধীন ধাতু ব্যবসায়ী তাই ওং বলেন, যারা আগে বিনিয়োগ শুরু করেছিলেন তারা আবার মূল্যবান ধাতুর বাজারে ফিরছেন। কারণ গত সপ্তাহ থেকে সুদের হার বাড়ার সম্ভাবনা কমেছে। পাশাপাশি ডলারের দর উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে, যা স্বর্ণের জন্য ইতিবাচক। ইরান ইস্যুতে সাময়িক বিরতিও বাজারকে সহায়তা করছে।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ইরানের সঙ্গে তার প্রশাসনের ‘খুব ভালো আলোচনা’ হয়েছে। এ ঘোষণার পর প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলারের দর ছয় সপ্তাহের সর্বনিম্নের কাছাকাছি নেমে আসে। একই সঙ্গে ১০ বছর মেয়াদি মার্কিন ট্রেজারি নোটের ইল্ডও এক সপ্তাহের সর্বনিম্ন পর্যায়ের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এতে প্রায় পাঁচ মাস ধরে চলা সংঘাতের অবসানের সম্ভাবনা নিয়ে বাজারে আশাবাদ তৈরি হয়েছে।

তবে জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স ৫ হাজার ৫৯৫ ডলারের রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছানোর পর থেকে স্বর্ণের দাম এখনও প্রায় ২৪ শতাংশ কম রয়েছে। এছাড়া ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দাম কমেছে প্রায় ১৯ শতাংশ। ওই সংঘাত জ্বালানির মূল্যস্ফীতির উদ্বেগ বাড়িয়ে সুদের হার বৃদ্ধির প্রত্যাশাও জোরালো করেছিল।

ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের প্রথমার্ধে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর স্বর্ণ কেনার পরিমাণ ২০২২ সালের পর সর্বনিম্ন ছিল। দ্বিতীয় প্রান্তিকে স্বর্ণভিত্তিক এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) থেকে মোট ৪৫ টন স্বর্ণ তুলে নেওয়া হয়েছে। ওই সময় স্বর্ণের দাম ১৪ শতাংশ কমে যায়, যা ২০১৩ সালের পর সবচেয়ে বড় ত্রৈমাসিক পতন।

জেপি মরগ্যান এক নোটে জানিয়েছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর ক্রয় কমে যাওয়া, খুচরা বিনিয়োগকারীদের আগ্রহ অন্য খাতে চলে যাওয়া এবং এশিয়ায় প্রকৃত স্বর্ণের চাহিদা দুর্বল থাকায় এখন সুদের হারের প্রতি সংবেদনশীল ইটিএফের বিনিয়োগই স্বর্ণের দামের প্রধান চালিকাশক্তি হয়ে উঠেছে।

তাই ওংয়ের মতে, মূল্যবান ধাতুর বাজারে স্থায়ী গতি ফিরতে হলে সুদের হার কমার বিষয়টি বাজারে প্রতিফলিত হতে হবে। তবে সেটি অন্তত ২০২৭ সালের আগে হওয়ার সম্ভাবনা তিনি দেখছেন না।

অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর মধ্যে, ৬ জুলাইয়ের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে স্পট রুপার দাম ৪ দশমিক ৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৬২ দশমিক ৪৪ ডলারে দাঁড়িয়েছে।

প্ল্যাটিনামের দাম প্রায় অপরিবর্তিত থেকে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৭৩৫ দশমিক ২৮ ডলারে রয়েছে। অন্যদিকে প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ৩৭৪ দশমিক ৭৫ ডলারে পৌঁছেছে। ইরানকে ঘিরে শান্তি আলোচনার অগ্রগতির আশায় প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম যথাক্রমে ১৭ জুন ও ২ জুনের পর সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠেছে।

স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ডের বিশ্লেষক সুকি কুপার বলেন, সংঘাত শুরুর পর থেকে প্ল্যাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের বাজারে বিভিন্ন ঝুঁকির প্রভাব পড়েছে। এর মধ্যে রয়েছে গাড়ি উৎপাদনের ধীরগতি, বৈদ্যুতিক গাড়ির বাজার সম্প্রসারণ এবং পুনর্ব্যবহারের সুযোগ বৃদ্ধি।

তিনি আরও বলেন, চলতি বছর প্ল্যাটিনামের বাজারে সরবরাহ ঘাটতি থাকতে পারে। তবে ২০২৬ সালের মধ্যে প্যালাডিয়ামের বাজারে সরবরাহ উদ্বৃত্ত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়