জেড নিউজ ডেস্ক:
বিশ্বের উদীয়মান অর্থনীতির জোট ‘ব্রিকস’-এর সদস্যপদ পাওয়ার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে পাকিস্তান। তবে জোটের সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে ভেটো ক্ষমতার নীতি থাকায় ভারতের বিরোধিতার মুখে ইসলামাবাদের এই পথ আটকে রয়েছে।
আজ শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৩ সালে পাকিস্তান ব্রিকসের সদস্যপদের জন্য আনুষ্ঠানিক আবেদন করে। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকার গঠিত এই জোটটি গত বছর মিশর, ইথিওপিয়া, ইরান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতকে নতুন সদস্য হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করে ‘ব্রিকস প্লাস’ গঠন করে। তবে সদস্য নেওয়ার ক্ষেত্রে সব বিদ্যমান দেশের সর্বসম্মত সমর্থনের বাধ্যবাধকতা থাকায় ভারতের আপত্তিতে আটকে যায় পাকিস্তানের অন্তর্ভুক্তি।
বর্তমানে চরম অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখে থাকা পাকিস্তান বিশ্বব্যাংক ও আইএমএফের ওপর নির্ভরতা কমাতে ব্রিকসের নিউ ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকে (এনডিবি) ৫৮ কোটি ডলারের শেয়ার কিনেছে। এ ছাড়া ব্রিকসের সদস্য হতে চাওয়া ২৯টি দেশের তালিকায় রয়েছে দেশটি। বর্তমানে সম্প্রসারিত এই ব্রিকস জোট বিশ্বের মোট জনসংখ্যার প্রায় ৪৯ শতাংশ এবং বৈশ্বিক জিডিপির (পিপিপি) প্রায় ৪০ শতাংশের প্রতিনিধিত্ব করছে।
পাকিস্তান পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মমতাজ জোহরা বালোচ জানিয়েছিলেন, গ্লোবাল সাউথের প্রতিনিধিত্বকারী এই জোটে যোগ দিয়ে পাকিস্তান আন্তর্জাতিক সহযোগিতা বাড়াতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে চায়। পাশাপাশি রাশিয়ায় নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ খালিদ জামালি জানান, তারা সদস্যপদের সমর্থনের জন্য রাশিয়াসহ অন্যান্য সদস্য দেশের সাথে যোগাযোগ রাখছেন।
সংগঠনটির প্রভাবশালী দুই দেশ চীন ও রাশিয়ার সমর্থন থাকা সত্ত্বেও নয়া দিল্লির আপত্তির কারণে পাকিস্তান যুক্ত হতে পারছে না। এদিকে ভারতের নিজস্ব বাণিজ্যও ব্রিকস দেশগুলোর সঙ্গে আশানুরূপভাবে বেড়েছে। সংস্থাটির দেশগুলোতে ভারতের রফতানি ৪৮.৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে ৬৪.৩ বিলিয়ন ডলার থেকে ৯৫.৭ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছেছে।




