ঋণের প্রতিশ্রুতিও কমেছে। বিদায়ী অর্থবছরে প্রতিশ্রুতি মেলে ৮২৩ কোটি ২৩ লাখ ডলারের, যা তার আগের অর্থবছরের চেয়ে ২৩% কম।
উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতি ও ব্যয় সাশ্রয়ী নীতির নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে বিদেশি অর্থছাড়ে; অন্যদিকে আগের ঋণের সুদ ও আসল মিলে বেড়ে গেছে পরিশোধিত অর্থের পরিমাণ।
বিদায়ী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বিদেশি অর্থছাড় কমেছে আগের (২০২৩-২৪) অর্থবছরের একই সময়ের তুলনায় ১৬ শতাংশের বেশি। আর সুদ-আসল মিলিয়ে পরিশোধের পরিমাণ বেড়েছে ২১ শতাংশের বেশি।
অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগ (ইআরডি) প্রকাশিত বাংলাদেশের বিদেশি ঋণের সবশেষ প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, গত অর্থবছর বিদেশি ঋণের অর্থছাড় হয়েছে ৮৫৬ কোটি ৮৪ লাখ ডলার, যা এর আগের অর্থবছরে ছিল ১ হাজার ২৮ কোটি ৩৪ লাখ ডলার।
অর্থছাড় কমলেও ঋণ পরিশোধ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৪০৮ কোটি ৬৯ লাখ ডলার। স্থানীয় মুদ্রায় তা ৪৯ হাজার ৩৯০ কোটি ৮৮ লাখ টাকা।
পরিশোধিত অর্থের মধ্যে আসলের পরিমাণ ছিল ২৫৯ কোটি ৫১ লাখ ডলার এবং সুদ ছিল ১৪৯ কোটি ১৮ লাখ ডলার।
হালনাগাদ তথ্য বলছে, আগের অর্থবছরে ঋণ পরিশোধের পরিমাণ ছিল ৩৩৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় দাঁড়ায় ৩৭ হাজার ৪৩৩ কোটি ২৬ লাখ টাকা।
বাজেট ঘাটতি কমিয়ে আনতে সরকার এরই মধ্যে প্রকল্প সংখ্যায় কাটছাঁট ও বরাদ্দ যাচাই বাছাই করে অর্থছাড় করতে শুরু করেছে। এতে অনেক প্রকল্পের বাস্তবায়ন ব্যয় কমেছে। এ কারণে বিদেশি অর্থায়নও কমেছে বলে তুলে ধরেন ইআরডি কর্মকর্তারা।
বিদায়ী অর্থবছরের বিদেশি ঋণের প্রতিশ্রুতিতেও ভাটা দেখা দেয়; প্রতিশ্রুতি মেলে ৮২৩ কোটি ২৩ লাখ ডলারের, যা তার আগের অর্থবছরে ছিল এক হাজার ৭৩ কোটি ৮৯ লাখ ডলার।
এদিকে ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে সবার ওপরে অবস্থান করছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)।
বিদায়ী অর্থবছরে উন্নয়ন সহযোগী এ সংস্থা ছাড় করেছে ২৫২ কোটি ডলার। এরপর রয়েছে বিশ্বব্যাংক ও জাপানের অবস্থান।
এ সময় ঋণের অর্থ ছাড় করলেও ভারত, চীন ও রাশিয়া চলতি অর্থবছরে নতুন ঋণ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেয়নি।



