জেড নিউজ, ঢাকা:
পায়ের যত্ন নিতে সব সময় পার্লারে গিয়ে পেডিকিউর করানোর প্রয়োজন নেই। নিয়মিত পরিচর্যা এবং ঘরোয়া কিছু উপকরণ দিয়েই পায়ের ত্বক পরিষ্কার, নরম ও মসৃণ রাখা যায়।
বিশেষ করে দীর্ঘদিনের শুষ্কতা, মৃত কোষ কিংবা গোড়ালির রুক্ষতার কারণে পায়ের সৌন্দর্য নষ্ট হতে পারে। তাই সপ্তাহে অন্তত এক দিন পায়ের জন্য একটু সময় রাখলেই পরিচ্ছন্নতা অনেকটাই বজায় রাখা সম্ভব।
শ্যাম্পু ও সুগন্ধি তেলের প্যাক
পায়ের যত্ন শুরু করতে পারেন হালকা গরম পানিতে পা ভিজিয়ে। একটি পাত্রে ঈষদুষ্ণ পানি নিয়ে তাতে কয়েক ফোঁটা শ্যাম্পু, সামান্য বাথ সল্ট ও কয়েক ফোঁটা ল্যাভেন্ডার সুগন্ধি তেল মিশিয়ে নিন। এবার ১০ থেকে ১৫ মিনিট সেই পানিতে পা ডুবিয়ে রাখুন। এতে পায়ের ত্বক কিছুটা নরম হবে।
এরপর পিউমিস স্টোন দিয়ে আলতো হাতে গোড়ালি ঘষে নিতে পারেন। পায়ের আঙুলের ফাঁকেও ভালোভাবে পরিষ্কার করুন, কারণ সেখানে ময়লা ও মৃত কোষ জমে থাকতে পারে। তবে ত্বকে জ্বালা, কাটা বা ক্ষত থাকলে ঘষাঘষি না করাই ভালো। পায়ের পরিচর্যার শুরু হতে পারে আরামদায়ক ফুট বাথ দিয়ে।পায়ের পরিচর্যার শুরু হতে পারে আরামদায়ক ফুট বাথ দিয়ে
কফির স্ক্রাব
পায়ের মৃত কোষ দূর করতে কফি দিয়ে তৈরি স্ক্রাব ব্যবহার করতে পারেন। ১ টেবিল চামচ কফির সঙ্গে ২ টেবিল চামচ নারিকেল তেল, আধা চা-চামচ চিনি ও কয়েক ফোঁটা লেবুর রস মিশিয়ে নিন। গোসলের আগে মিশ্রণটি পায়ের পাতায় লাগিয়ে কয়েক মিনিট আলতো হাতে ঘষে নিন। এরপর পানি দিয়ে ভালোভাবে ধুয়ে ফেলুন। কফির দানাদার গঠন ত্বকের ওপর জমে থাকা মৃত কোষ দূর করতে সহায়তা করতে পারে। তবে খুব জোরে ঘষলে ত্বকে জ্বালা বা ক্ষত তৈরি হতে পারে, তাই কোমলভাবে ব্যবহার করাই ভালো।
পাকা কলা ও মধুর যত্ন
শুষ্ক ও রুক্ষ পায়ের জন্য পাকা কলা ও মধুর মিশ্রণ ব্যবহার করা যেতে পারে। একটি পাকা কলা ভালোভাবে চটকে তার সঙ্গে এক টেবিল চামচ মধু মিশিয়ে নিন। এবার মিশ্রণটি পায়ের পাতায় ও গোড়ালিতে ভালোভাবে লাগিয়ে ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন। এরপর ঈষদুষ্ণ পানি দিয়ে পা ধুয়ে পরিষ্কার করে নিন। পাকা কলা ও মধু ত্বককে আর্দ্র রাখতে সাহায্য করতে পারে। নিয়মিত ময়েশ্চারাইজারের সঙ্গে এই ধরনের পরিচর্যা করলে শুষ্ক পা তুলনামূলক নরম ও মসৃণ দেখাতে পারে।
শসার ফুট মাস্ক
গরমে পায়ের ত্বকে স্বস্তি দিতে শসার মাস্কও ব্যবহার করতে পারেন। আধা খানা শসা বেটে তার সঙ্গে কয়েক ফোঁটা লেবুর রস ও আধা চা-চামচ অলিভ অয়েল মিশিয়ে নিন। প্রথমে পা ভালোভাবে ধুয়ে শুকিয়ে নিন। এরপর তৈরি মিশ্রণটি পায়ের পাতায় লাগিয়ে ১৫ থেকে ২০ মিনিট অপেক্ষা করুন। সময় হয়ে গেলে হালকা পানি দিয়ে পা ধুয়ে নিন। শসা ত্বকে শীতল অনুভূতি দিতে পারে এবং অলিভ অয়েল ত্বকের শুষ্কতা কমাতে সহায়তা করতে পারে। তবে পায়ের কালচে দাগ সব সময় ময়লা বা মৃত কোষের কারণে হয় না। অতিরিক্ত শুষ্কতা, ঘর্ষণ, ত্বকের বিভিন্ন সমস্যা বা অন্য কোনো কারণে রং পরিবর্তন হতে পারে।
তাই দীর্ঘদিন দাগ থেকে গেলে কিংবা চুলকানি, ব্যথা, ফুসকুড়ি বা ত্বকের অন্য কোনো পরিবর্তন দেখা দিলে শুধু ঘরোয়া উপায়ে নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই ভালো। নিয়মিত পরিষ্কার রাখা, প্রয়োজনমতো ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার এবং আরামদায়ক জুতা পরার অভ্যাসই পায়ের সুস্থ ও সুন্দর ত্বকের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।





