জেড নিউজ ডেস্ক:
চীন–নেপাল সীমান্তের কাছে নতুন করে ভূমিধসের ঘটনায় আরেকটি অস্থায়ী প্রাকৃতিক বাঁধ হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে। পরিস্থিতির সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় সীমান্তবর্তী গিরং বন্দরের কাছে অবস্থানরত উদ্ধারকর্মীদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শনিবার সন্ধ্যায় ভূমিধসের ঘটনাটি শনাক্ত করা হয় বলে জানিয়েছে চীনের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি।
চীনের জরুরি ব্যবস্থাপনা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, একটি পর্যবেক্ষণ ড্রোন শনিবার সন্ধ্যায় পুরেপু সাংপো নদীর তীরবর্তী একটি পাহাড়ি ঢালে ভূমিধসের ঘটনা শনাক্ত করে। ওই স্থানটি নদীর স্রোতের দিকে আগে থেকেই তৈরি থাকা একটি বাঁধ হ্রদের প্রায় ২ দশমিক ৮ কিলোমিটার (১ দশমিক ৭ মাইল) ভাটিতে অবস্থিত।
কর্তৃপক্ষের ভাষ্য অনুযায়ী, নতুন ভূমিধসের ফলে নদীর প্রবাহের পথে মাটি ও পাথরের বড় ধরনের বাধা তৈরি হয়েছে। এর ফলে নদীর পানি আটকে গিয়ে নতুন আরেকটি বাঁধ হ্রদের সৃষ্টি হয়েছে।
ভূমিধসের পর নদীর পানিপ্রবাহ এবং নতুন সৃষ্ট হ্রদের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে। সম্ভাব্য ঝুঁকি বিবেচনায় গিরং বন্দরের আশপাশে থাকা উদ্ধার ও জরুরি সেবাকর্মীদের সেখান থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
একের পর এক ভূমিধসে বাড়ছে ঝুঁকি
চীন–নেপাল সীমান্তবর্তী পার্বত্য অঞ্চলটি অত্যন্ত দুর্গম এবং ভূপ্রকৃতিগতভাবে ঝুঁকিপূর্ণ। ভারী বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ঢাল ধসে পড়া এবং নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ বাধাগ্রস্ত হওয়ার কারণে সেখানে আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের আশঙ্কা রয়েছে।
একটি ভূমিধসের কারণে নদীর গতিপথ বন্ধ হয়ে গেলে সেখানে পানি জমে বাঁধ হ্রদ তৈরি হতে পারে। পরবর্তী সময়ে ওই প্রাকৃতিক বাঁধ ভেঙে গেলে বিপুল পরিমাণ পানি হঠাৎ নিচের দিকে নেমে গিয়ে আকস্মিক বন্যা বা ফ্ল্যাশ ফ্লাড সৃষ্টি করতে পারে। ফলে ভাটির দিকে থাকা জনবসতি, সড়ক, সেতু ও অন্যান্য অবকাঠামো বড় ধরনের ঝুঁকিতে পড়তে পারে।
নতুন ভূমিধসটি আগের একটি বাঁধ হ্রদের ভাটিতে ঘটায় পরিস্থিতি আরও সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। চীনা কর্তৃপক্ষ ড্রোনের মাধ্যমে এলাকাটি নজরদারিতে রেখেছে এবং নদীর পানিপ্রবাহ ও নতুন সৃষ্ট জলাধারের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে।
সীমান্তবর্তী এই অঞ্চলে সাম্প্রতিক সময়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যোগাযোগব্যবস্থা ও উদ্ধার তৎপরতাও ব্যাহত হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন করে নদীর প্রবাহ আটকে যাওয়ায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সতর্কতামূলক ব্যবস্থা জোরদার করেছে।
চীনা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, পরিস্থিতির ওপর নজর রাখা হচ্ছে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট এলাকায় উদ্ধার ও জরুরি ব্যবস্থাপনার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।





