spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

কোঁকড়ানো চুলের জট ও ফ্রিজভাব কমাবেন যেভাবে

জেড নিউজ, ঢাকা:
কোঁকড়ানো চুল সামলাতে গিয়ে অনেকেরই প্রতিদিন সকালে আয়নার সামনে বেশ সময় চলে যায়। চুলের জট, শুষ্কভাব কিংবা অতিরিক্ত ফ্রিজ নিয়ে বিরক্তিও কম নয়। অনেকের মনে হয়, চুলটা যদি একটু সোজা হতো, তাহলে যত্ন নেওয়া অনেক সহজ হয়ে যেত। অথচ সঠিকভাবে যত্ন নিতে পারলে কোঁকড়ানো চুলই হয়ে উঠতে পারে আপনার সৌন্দর্যের অন্যতম আকর্ষণ।

বিশেষজ্ঞদের মতে, কোঁকড়ানো চুলের যত্নের মূল বিষয় হলো আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং চুলের স্বাভাবিক গঠনকে বুঝে প্রোডাক্ট ব্যবহার করা। অতিরিক্ত শ্যাম্পু, ভুল প্রোডাক্ট কিংবা রুক্ষভাবে চুল আঁচড়ানোর মতো অভ্যাসে কোঁকড়ানো চুল আরও শুষ্ক ও জটিল হয়ে যেতে পারে।

প্রথমেই বুঝুন চুলের ধরন
সব কোঁকড়ানো চুলের ধরন এক নয়। কারও চুলে হালকা ঢেউ থাকে, আবার কারও চুল অনেক বেশি ঘন ও শক্তভাবে কোঁকড়ানো। তাই অন্যের চুলে যে পণ্য ভালো কাজ করছে, সেটি আপনার চুলেও একইভাবে কাজ করবে- এমনটা ধরে নেওয়া ঠিক নয়।

হালকা ওয়েভি বা ঢেউ খেলানো চুল হলে তুলনামূলক হালকা হেয়ার পণ্য ব্যবহার করতে পারেন। অন্যদিকে, চুল যদি বেশি ঘন ও কোঁকড়ানো হয়, তাহলে ময়েশ্চার ধরে রাখতে কিছুটা ভারী কন্ডিশনার, কার্ল ক্রিম বা লিভ-ইন কন্ডিশনার প্রয়োজন হতে পারে।

চুল স্টাইল করার সহজ কৌশল
কোঁকড়ানো চুলের কার্ল সুন্দরভাবে ফুটিয়ে তুলতে পানির সঙ্গে কন্ডিশনার মিশিয়ে ‘বাটি পদ্ধতি’ ব্যবহার করতে পারেন। একটি বাটিতে পানি ও সামান্য কন্ডিশনার মিশিয়ে চুলের প্রান্তগুলো তাতে ডুবিয়ে হালকা হাতে স্ক্রাঞ্চ করুন। এতে চুলে আর্দ্রতা যোগ হওয়ার পাশাপাশি স্বাভাবিক কার্লও কিছুটা সুন্দরভাবে ফুটে উঠতে পারে।

আরেকটি সহজ পদ্ধতি হলো আঙুল দিয়ে চুলে পণ্য লাগানো। হাতে সামান্য কার্ল ক্রিম বা উপযুক্ত স্টাইলিং প্রোডাক্ট নিয়ে আঙুলের সাহায্যে চুলের গোছাগুলো আলাদা করে দিন। এতে প্রোডাক্ট তুলনামূলকভাবে সমানভাবে ছড়িয়ে দেওয়া যায় এবং কার্লের আকৃতিও বজায় থাকে।

শ্যাম্পু করার ক্ষেত্রে সতর্কতা
কোঁকড়ানো চুল সাধারণত শুষ্ক হওয়ার প্রবণতা বেশি থাকায় অতিরিক্ত শ্যাম্পু করা এড়িয়ে চলাই ভালো। চুলের ধরন ও স্ক্যাল্পের প্রয়োজন অনুযায়ী সপ্তাহে কয়েকবার শ্যাম্পু করা যেতে পারে। সালফেটমুক্ত মৃদু শ্যাম্পু অনেকের ক্ষেত্রে শুষ্কভাব কম রাখতে সহায়ক হতে পারে। তবে সবার স্ক্যাল্পের প্রয়োজন এক নয়। অতিরিক্ত তেলতেলে স্ক্যাল্প, খুশকি বা অন্য কোনো সমস্যা থাকলে শ্যাম্পুর রুটিন আলাদা হতে পারে।

কন্ডিশনার ব্যবহার করুন
কোঁকড়ানো চুলের যত্নে কন্ডিশনার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবার শ্যাম্পু করার পর চুলের দৈর্ঘ্য ও প্রান্তে কন্ডিশনার ব্যবহার করুন। সপ্তাহে একবার ডিপ কন্ডিশনিং বা হেয়ার মাস্ক ব্যবহার করলেও চুলের শুষ্কভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।  চুল ধোয়ার পর জোরে ঘষে পানি মুছবেন না। নরম তোয়ালে বা মাইক্রোফাইবার কাপড় দিয়ে আলতো করে পানি শুষে নিন।

ভেজা চুলেই স্টাইলিং প্রোডাক্ট
কোঁকড়ানো চুলে কার্ল ক্রিম, লিভ-ইন কন্ডিশনার বা জেল ব্যবহার করলে চুল সামান্য ভেজা থাকা অবস্থায় লাগানো ভালো। এতে আর্দ্রতা ধরে রাখা এবং কার্লের আকৃতি বজায় রাখা সহজ হতে পারে। একেবারে শুকনো চুলে অতিরিক্ত প্রোডাক্ট লাগালে চুল ভারী, শক্ত বা আরও ফ্রিজি দেখাতে পারে।

রাতেও চাই বিশেষ যত্ন
ঘুমানোর সময় বালিশের সঙ্গে চুলের ঘর্ষণ হলে কার্লের আকৃতি নষ্ট হয়ে যেতে পারে এবং জট ও ফ্রিজ বাড়তে পারে। তাই সুতির বালিশের পরিবর্তে সাটিন বা সিল্কের বালিশের কভার ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে সাটিন বা সিল্কের বোনেটও ব্যবহার করা যায়।

ঘুমানোর আগে চুল মাথার ওপর আলতো করে বেঁধে রাখার ‘পাইনঅ্যাপল’ পদ্ধতিও কার্লের আকৃতি ধরে রাখতে সহায়ক হতে পারে। ফ্রিজকে শত্রু ভাববেন না
কোঁকড়ানো চুলে সামান্য ফ্রিজ থাকা অস্বাভাবিক নয়। বরং এই ফ্রিজই চুলে স্বাভাবিক ভলিউম এনে দিতে পারে। তাই প্রতিটি উড়ন্ত চুলকে নিয়ন্ত্রণ করার চেষ্টা না করে চুলের স্বাভাবিক গঠনকে গুরুত্ব দিন।সময় কম থাকলে এই সহজ উপায়েই চুলে আনুন উজ্জ্বলতা

সঠিক ময়েশ্চারাইজিং, উপযুক্ত প্রোডাক্ট এবং নিয়মিত যত্ন-এই তিনটি বিষয় মেনে চললেই কোঁকড়ানো চুল অনেক বেশি সুন্দর, প্রাণবন্ত ও গোছানো রাখা সম্ভব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়