জেড নিউজ ডেস্ক:
গাজীপুরের শ্রীপুরে পারিবারিক কলহের জেরে রুহুল আমিন (৩৮) নামে এক অটোরিকশাচালককে পিটিয়ে হত্যার অভিযোগ উঠেছে তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের বিরুদ্ধে।
শুক্রবার দিবাগত রাত ২টার দিকে উপজেলার বরমী ইউনিয়নের কুমারভিটা গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। শনিবার দুপুরে ওই বাড়ির পাশের ঝোপঝাড় থেকে তাঁর মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তির পরিবারের অভিযোগ, স্ত্রী, শ্বশুর, শ্যালকসহ স্বজনেরা রুহুল আমিনকে মারধর করে হত্যা করেন। এ সময় তাঁর ১৬ বছর বয়সী মেয়ে রিমি ঘটনাটি দেখলেও ভয়ে কোনো প্রতিবাদ করতে পারেনি। আরেক শিশুকন্যা আফরিন বাবার ডাক-চিৎকার শুনে ঘুম থেকে উঠে তাঁকে বাঁচাতে জড়িয়ে ধরে কান্নাকাটি করলেও মারধর থামেনি বলে দাবি করা হয়েছে।
নিহত রুহুল আমিন একই ইউনিয়নের কায়েতপাড়া গ্রামের মো. আতাহার আলীর ছেলে। তিনি পেশায় অটোরিকশাচালক ছিলেন এবং শ্বশুরবাড়িতে ঘরজামাই হিসেবে থাকতেন।
পুলিশ জানায়, ঘটনার পর রুহুল আমিনের মরদেহ বাড়ির অদূরে ঝোপঝাড়ের আড়ালে ফেলে রাখা হয়। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে মরদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের ছোটবোন ফাতেমা খাতুনের বরাত দিয়ে পরিবারের সদস্যরা জানান, পারিবারিক কলহের জেরে রুহুল আমিনকে পরিকল্পিতভাবে মারধর করা হয়। মারধরের সময় তাঁর চিৎকারে শিশুকন্যা আফরিনের ঘুম ভেঙে যায়। সে বাবাকে বাঁচাতে তাঁর বুকে ঝাঁপিয়ে পড়ে। কিন্তু এরপরও নির্যাতন চালানো হয়। একপর্যায়ে রুহুল আমিনের মৃত্যু হলে ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলে পরিবারের অভিযোগ।
নিহতের বড়ভাই লিটন বলেন, ঘটনার পর শ্বশুরবাড়ির লোকজন তাঁদের জানিয়েছিল, রুহুল আমিন রাত ৮টার দিকে বাড়ি থেকে বের হয়ে গেছেন। তবে তাঁদের ধারণা, ঋণের কিস্তি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি জানান, স্থানীয় একটি এনজিও থেকে রুহুল আমিন এক লাখ টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ওই ঋণের জামিনদার ছিলেন তাঁর চাচা শ্বশুরের ছেলে। বর্তমানে ১৪ হাজার টাকা কিস্তি বকেয়া ছিল। এ নিয়ে এনজিওকর্মীরা জামিনদারের বাড়িতে গিয়ে চাপ দিতেন। বিষয়টি নিয়ে রুহুল আমিন ও তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজনের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এর জেরেই তাঁকে হত্যা করা হয়েছে বলে পরিবারের দাবি।
এ ঘটনায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচজনকে আটক করেছে পুলিশ। তাঁরা হলেন নিহত রুহুল আমিনের স্ত্রী হালিমা খাতুন (৩৫), শ্বশুর মো. রফিক (৫৫), শ্যালক মো. শাহজাহান (২৭), চাচা শ্বশুর তাজউদ্দীন (৫০) ও তাঁর ১৬ বছর বয়সী কন্যা রিমি।
এবিষয়ে জানতে চাইলে রুহুল আমিনের শ্যালক শাহজাহানের স্ত্রী বলেন, ‘আমার স্বামী বাড়িতে ছিলো না। তবুও পুলিশ তাকে ধরে নিছে। সে আমার বাপের বাড়িতে ছিলো। রুহুল আমিনকে কারা মারছে এটা আমি বলতে পারবো না। আমিও বাড়িতে ছিলাম না।’
শ্রীপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহীনুর আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে কাজ শুরু করে। শিশুকন্যার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নিহতের স্ত্রী, শ্বশুর, শ্যালকসহ পাঁচজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা হয়েছে। নিহতের শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত পদক্ষেপ প্রক্রিয়াধীন।





