জেড নিউজ, ঢাকা:
এই সময় বাতাস ও অতিরিক্ত আর্দ্রতার কারণে এ সময়ে শরীরে অস্বস্তি বাড়তে পারে। অনেকেরই গলাব্যথা, সর্দি-কাশি, শরীর ম্যাজম্যাজ করা কিংবা দুর্বল লাগার মতো সমস্যা দেখা দেয়। আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে দৈনন্দিন খাদ্যাভ্যাসেও কিছুটা পরিবর্তন আনা প্রয়োজন।
পুষ্টিবিদদের পরামর্শ অনুযায়ী, পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার খাওয়া ও বিশ্রামের পাশাপাশি কিছু ঘরোয়া পানীয় শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতে এবং গলার অস্বস্তি কমাতে সহায়ক হতে পারে। তবে এগুলো কোনো রোগের চিকিৎসা বা ওষুধের বিকল্প নয়। জ্বর বেশি হলে, শ্বাসকষ্ট বা গুরুতর উপসর্গ দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।
সকালে তুলসি-আমলকির পানীয়
দিনের শুরুতে হালকা ও সতেজ পানীয় হিসেবে তুলসি আমলকি ও আদার মিশ্রণ খেতে পারেন। আমলকিতে ভিটামিন সি রয়েছে। অন্যদিকে তুলসি ও আদা দীর্ঘদিন ধরেই বিভিন্ন ঘরোয়া পানীয়তে ব্যবহার হয়ে আসছে।
একটি ব্লেন্ডারে ৪ থেকে ৬টি তুলসীপাতা নিন। চাইলে কয়েকটি পুদিনাপাতাও যোগ করতে পারেন। এবার অর্ধেক আমলকি অথবা ১ চা চামচ লেবুর রস দিন। এর সঙ্গে এক টুকরো আদা বা সামান্য কাঁচা হলুদ যোগ করুন।
সবশেষে এক চিমটি বিট লবণ ও দেড় কাপ পানি অথবা ডাবের পানি দিয়ে সব উপকরণ ভালোভাবে ব্লেন্ড করে নিন। এরপর ছেঁকে পান করতে পারেন। সকালে খালি পেটে পান করার কথা বলা হলেও যাদের গ্যাস্ট্রিক বা অম্লতার সমস্যা রয়েছে, তারা খালি পেটে না খেয়ে খাবারের পর পান করতে পারেন। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত তরল পান করুন শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী পর্যাপ্ত তরল পান করুন
সন্ধ্যায় হলুদ-দুধ
সন্ধ্যায় গরম দুধের সঙ্গে হলুদ মিশিয়ে তৈরি করতে পারেন আরেকটি উষ্ণ পানীয়। গরম তরল গলার অস্বস্তিতে আরামদায়ক অনুভূতি দিতে পারে। হলুদের সঙ্গে সামান্য গোলমরিচ যোগ করলে স্বাদেও ভিন্নতা আসে। এক গ্লাস গরম দুধে সামান্য কাঁচা হলুদ গ্রেট করে মিশিয়ে নিন। এরপর এক চিমটি দারুচিনি গুঁড়া ও এক চিমটি গোলমরিচ যোগ করুন। ভালোভাবে নেড়ে হালকা গরম অবস্থায় পান করুন। তবে দুধে অ্যালার্জি বা দুধ হজমে সমস্যা থাকলে এই পানীয় এড়িয়ে চলাই ভালো।
হলুদের উষ্ণ পানীয়
গলা খুসখুস বা অস্বস্তি হলে উষ্ণ আদা-হলুদের পানীয় চুমুক দিয়ে খেতে পারেন। এটি দিনে ২ থেকে ৩ বার পান করার জন্য আগে থেকেই তৈরি করে রাখা যায়। ব্লেন্ডারে আদা, কাঁচা হলুদ ও সামান্য গোলমরিচ দিয়ে ভালোভাবে বেটে নিন। তৈরি হওয়া মিশ্রণটি একটি বরফের ট্রেতে ঢেলে ফ্রিজারে রেখে দিন। জমে গেলে ছোট ছোট কিউব তৈরি হবে।
গলায় অস্বস্তি হলে একটি কিউব কাপে নিয়ে তার ওপর গরম পানি ঢেলে দিন। কিছুক্ষণ অপেক্ষা করে কুসুম গরম অবস্থায় ধীরে ধীরে চুমুক দিয়ে পান করুন।
শুধু পানীয় নয়, বিশ্রামও জরুরি
সর্দি-কাশি বা গলাব্যথার সময়ে শুধু কোনো বিশেষ পানীয় খেলেই দ্রুত সুস্থ হয়ে যাওয়ার নিশ্চয়তা নেই। পর্যাপ্ত পানি পান, পুষ্টিকর খাবার, ভালো ঘুম ও পর্যাপ্ত বিশ্রামও গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের প্রয়োজন অনুযায়ী উষ্ণ তরল পান করলে গলার অস্বস্তিতে সাময়িক আরাম মিলতে পারে।
তবে জ্বর কয়েকদিন ধরে থাকলে, জ্বরের মাত্রা বেশি হলে, গিলতে খুব কষ্ট হলে, শ্বাসকষ্ট দেখা দিলে বা দুর্বলতা অস্বাভাবিক বেড়ে গেলে ঘরোয়া পানীয়ের ওপর নির্ভর না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত।





