spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

‘যুক্তরাষ্ট্রই আলোচনায় মরিয়া’: ট্রাম্পকে ইরানের পাল্টা জবাব

জেড নিউজ ডেস্ক:

ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে এখন যুক্তরাষ্ট্রই আগ্রহী বলে দাবি করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তাঁর বক্তব্য, তেহরানকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করার মার্কিন প্রচেষ্টা ব্যর্থ হওয়ার পর ওয়াশিংটনই ইরানের শর্ত মেনে আলোচনায় বসতে চাইছে। তবে ইরানও আলোচনার সম্ভাবনা পুরোপুরি নাকচ করেনি বলে জানিয়েছেন তিনি।

এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, ইরানের সঙ্গে বর্তমানে কোনো আলোচনা চলছে না এবং ভবিষ্যতে কোনো বৈঠকও নির্ধারিত হয়নি। একই সঙ্গে তিনি বলেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধ কার্যকর রয়েছে এবং হরমুজ প্রণালির মাইন সরিয়ে ফেলা হয়েছে।

ট্রাম্পের এই বক্তব্যের পাল্টা জবাবে আরাগচি বলেন, যারা শুরুতে ইরানের ‘শর্তহীন আত্মসমর্পণ’ দাবি করেছিল, তারাই এখন আলোচনার জন্য আগ্রহ দেখাচ্ছে। তবে তেহরান তার নিজস্ব শর্তের বাইরে কোনো আলোচনায় যাবে না বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর ভাষ্য, যুদ্ধ ও কূটনীতি—দুই ক্ষেত্রেই তেহরান নিজেদের অবস্থান ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। ফলে ভবিষ্যতে কোনো আলোচনা হলে তা ইরানের স্বার্থ ও নির্ধারিত শর্ত বিবেচনায় রেখেই হতে হবে।

এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের উত্তেজনার প্রভাব উপসাগরীয় অঞ্চলেও ছড়িয়ে পড়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইরান সমুদ্রপথে চলাচলকারী জাহাজকে লক্ষ্য করে দুটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। এর একটি আমিরাতের আঞ্চলিক জলসীমায় এবং অন্যটি জলসীমার বাইরে সাগরে পড়ে বলে দাবি করেছে আবুধাবি।

তবে আমিরাতের এ অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই অভিযোগটিকে ‘ভিত্তিহীন’ বলে উল্লেখ করেছেন। তাঁর দাবি, এ ধরনের অভিযোগ দুই দেশের সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্কের পরিপন্থি এবং আঞ্চলিক আস্থাকে দুর্বল করছে।

এদিকে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সামরিক উত্তেজনা, নৌ অবরোধ ও কূটনৈতিক যোগাযোগ নিয়ে ওয়াশিংটন ও তেহরানের অবস্থান আরও মুখোমুখি হয়ে উঠেছে। দুই দেশের বক্তব্যে আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে ভিন্ন অবস্থান স্পষ্ট হলেও সংঘাতের অবসানে কূটনৈতিক পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়েছে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়