spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

সন্তান হারানোর শোকে ধৈর্য ধরলে জান্নাতে মিলবে যে  ঘর

জেড নিউজ , ঢাকা :

বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবু মুসা আশআরি (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, যখন কোনো আল্লাহর বান্দার সন্তান মারা যায়, তখন আল্লাহ ফেরেশতাদের বলেন, তুমি কি আমার বান্দার কোনো সন্তান নিয়ে এসেছ? তাঁরা বলেন, জি-হ্যাঁ। তিনি বলেন, তোমরা তার কলিজার টুকরাকে নিয়ে এসেছ? তাঁরা বলেন, হ্যাঁ।

আল্লাহ জিজ্ঞেস করেন, তখন আমার বান্দা কী বলছে? তারা বলে, আপনার প্রশংসা করেছে এবং ইন্নালিল্লাহ পাঠ করেছে। তখন আল্লাহ বলেন, তোমরা আমার সেই বান্দার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করে তার নাম রেখে দাও- ‘বায়তুল হামদ।’ (তিরমিজি, হাদিস নং : ১০২১)

শিক্ষা ও বিধান

১. সন্তান হারানোর কষ্ট অত্যন্ত কঠিন পরীক্ষা। সন্তান বাবা-মায়ের কলিজার টুকরা। তাই সন্তান হারানো মানুষের জন্য অত্যন্ত বড় পরীক্ষা। এই কঠিন পরীক্ষায় মুমিনের ঈমান ও ধৈর্যের পরিচয় প্রকাশ পায়।

২. বিপদের সময় কান্না বা দুঃখ প্রকাশ স্বাভাবিক। তবে আল্লাহর সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অভিযোগ না করে ধৈর্য ধারণ করা মুমিনের গুণ।

৩. ‘ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন’ শুধু মৃত্যুর সময় নয়। এর অর্থ—‘নিশ্চয়ই আমরা আল্লাহরই এবং নিশ্চয়ই আমরা তাঁর কাছেই ফিরে যাব।’ অর্থাৎ মানুষ ও তার প্রিয় সবকিছু আল্লাহর মালিকানাধীন। তাই কোনো প্রিয়জনকে হারালেও মুমিন আল্লাহর সিদ্ধান্ত মেনে নেয়।

৪. আল্লাহ মুমিনের কষ্ট ও প্রতিক্রিয়া সম্পর্কে অবগত।ফেরেশতাদের মাধ্যমে বান্দার অবস্থা সম্পর্কে জিজ্ঞাসা করার বিষয়টি আল্লাহর সর্বজ্ঞতার কোনো সীমাবদ্ধতা বোঝায় না; বরং এটি বান্দার মর্যাদা ও তার আমলের গুরুত্ব প্রকাশের একটি পদ্ধতি।

৫. দুনিয়ায় সন্তান হারানোর বেদনা অসহনীয় মনে হলেও একজন মুমিনের জন্য আখিরাতে এর বিনিময়ে আল্লাহর পক্ষ থেকে এমন পুরস্কার রয়েছে, যা দুনিয়ার সব কষ্টকে অর্থবহ করে দেয়।

৬. জান্নাতে আল্লাহ যে পুরস্কার নিজে নির্ধারণ করেছেন, তার নামই ‘বায়তুল হামদ’—প্রশংসার ঘর।

এর মাধ্যমে বোঝা যায়, বিপদের সময় আল্লাহর প্রশংসা করা কতটা গুরুত্বপূর্ণ ও মহৎ আমল।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়