জেড নিউজ , ঢাকা :
আল্লাহর একনিষ্ঠ বান্দা হওয়ার জন্য গোপন ইবাদতে অভ্যস্ত হওয়া অবশ্যক। গোপনে ইবাদত বা নেক আমল হলো লোকচক্ষুর আড়ালে, একমাত্র আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য নিভৃতে সম্পন্ন করা নফল ও পুণ্যকর্ম, যা ইখলাস (বিশুদ্ধতা) বৃদ্ধি করে এবং কবুল হওয়ার প্রবল সম্ভাবনা রাখে।
গোপনে করা যায় এমন কিছু নেক আমল হলো—
রাতের ইবাদত : তাহাজ্জুদ নামাজ, গভীর রাতে কোরআন তিলাওয়াত বা কান্নাভরা হৃদয়ে আল্লাহর কাছে ক্ষমা (ইস্তিগফার) চাওয়া।
গোপন দান : অভাবগ্রস্তকে গোপনে সহায়তা করা, যাতে বাঁ হাত জানলে ডান হাত না জানে।
নফল রোজা : পরিবার বা মানুষকে না জানিয়ে নফল রোজা রাখা।
অন্যের সাহায্য : গোপনে কারো বিপদ উদ্ধার করা, এতিম বা বিধবার দেখাশোনা করা।
জিকির–আজকার : লোকচক্ষুর আড়ালে আল্লাহর নাম স্মরণ করা।
কারো গোপন নেক আমল যখন বেড়ে যায়, তখন তিনি ঈমানের সর্বোচ্চ স্তরে উপনীত হতে পারেন।
আর ঈমানের সর্বোচ্চ স্তর হচ্ছে ‘ইহসান’। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘ইহসান হচ্ছে তুমি এমনভাবে আল্লাহর ইবাদত করবে, যেন তুমি তাঁকে দেখতে পাচ্ছ; যদি তাঁকে দেখতে না পাও তবে বিশ্বাস রাখবে তিনি তোমাকে দেখছেন।’ (বুখারি, হাদিস : ৫০)
যার গোপন ইবাদত যত সুন্দর হয়, তার বাহ্যিক আমলগুলো তত পরিপাটি হয়। এ জন্য মহান আল্লাহ গোপন ইবাদত অত্যধিক পছন্দ করেন।
তিনি বান্দাকে সঙ্গোপনে দোয়া করার নির্দেশ দিয়ে বলেন, ‘তোমরা তোমাদের রবকে ডাকো বিনীতভাবে ও চুপে চুপে। নিশ্চয়ই তিনি সীমা লঙ্ঘনকারীদের ভালোবাসেন না।’
(সুরা : আরাফ, আয়াত : ৫৫)
বান্দা যখন আল্লাহর নির্দেশ লঙ্ঘন করে, তখন আল্লাহ সেই বান্দার প্রতি ভীষণ রাগান্বিত হন। আর আল্লাহর রাগ ও ক্রোধকে ঠাণ্ডা করার একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলো গোপন ইবাদত, বিশেষ করে গোপনে দান করা। আল্লাহ বলেন, ‘যারা তাদের ধন-সম্পদ ব্যয় করে রাতে ও দিনে, গোপনে ও প্রকাশ্যে, তাদের জন্য উত্তম পারিতোষিক আছে তাদের রবের কাছে।
তাদের কোনো ভয় নেই এবং তারা চিন্তান্বিত হবে না।’ (সুরা : বাকারাহ, আয়াত : ২৭৪)
বিভিন্ন ধরনের বিপদ-আপদে আল্লাহর সাহায্য ও অনুগ্রহ লাভের একটি শক্তিশালী মাধ্যম হলো গোপন আমল।



