জেড নিউজ, ঢাকা:
গ্রীষ্মকালে প্রখর রোদ, তীব্র তাপ আর অতিবেগুনি রশ্মি আমাদের ত্বকের জন্য বড় একটি হুমকি হয়ে দাঁড়ায়। রোদের কারণে শুধু ট্যান পড়া নয়, ধীরে ধীরে ত্বকের গভীর স্তরেও ক্ষতি হতে পারে, যা বয়সের ছাপ, শুষ্কতা ও ত্বকের নানা সমস্যা তৈরি করে।
এই কারণেই অনেকেই সানস্ক্রিন, ফেস জেল ও বিভিন্ন স্কিনকেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহার করেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু বাহ্যিক যত্নই যথেষ্ট নয়, ভেতর থেকে ত্বককে সুরক্ষিত রাখতে সঠিক খাদ্যাভ্যাসও সমান গুরুত্বপূর্ণ।
কিছু নির্দিষ্ট খাবার রয়েছে, যেগুলো প্রাকৃতিকভাবে ত্বককে সূর্যের ক্ষতিকর প্রভাবের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। এগুলোকে অনেক সময় প্রাকৃতিক সানস্ক্রিন ফুড বলা হয়।
লেবুর রসে রয়েছে ভিটামিন সি
গরমে শরীর ঠান্ডা রাখার পাশাপাশি লেবুর রস ত্বকের জন্যও অত্যন্ত উপকারী। এতে থাকা ভিটামিন সি ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে জমে থাকা ফ্রি র্যাডিক্যাল কমাতে সাহায্য করে। এই ফ্রি র্যাডিক্যালই সূর্যের ক্ষতির অন্যতম কারণ।
লেবুর রস নিয়মিত গ্রহণ করলে ত্বক ভেতর থেকে উজ্জ্বল থাকে এবং ইউভি রশ্মির ক্ষতিকর প্রভাব কিছুটা হলেও প্রতিরোধ করা যায়। একই সঙ্গে এটি শরীরকে হাইড্রেটেড রাখতেও সাহায্য করে।
গ্রিন টিতে রয়েছে অ্যান্টিঅক্সিডেন্টের শক্তি
গ্রিন টি শুধু ওজন নিয়ন্ত্রণ বা হজমের জন্যই নয়, ত্বক সুরক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এতে থাকা পলিফেনল অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সূর্যের কারণে হওয়া ট্যানিং ও সেল ড্যামেজ কমাতে সাহায্য করে। গ্রিন টি নিয়মিত পান করলে ত্বকের স্থিতিস্থাপকতা বজায় থাকে এবং বয়সের ছাপ ধীরে আসে। এটি ভেতর থেকে ত্বককে ডিটক্স করে, ফলে ত্বক আরও স্বাস্থ্যকর দেখায়।
টমেটো সানবার্ন থেকে সুরক্ষা দেয়
টমেটোতে থাকা লাইকোপিন একটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা সূর্যের ক্ষতিকর রশ্মি থেকে ত্বককে রক্ষা করতে সাহায্য করে। এটি ত্বকের কোষকে সানবার্ন থেকে সুরক্ষা দেয় এবং ট্যানিং কমাতে সহায়ক ভূমিকা রাখে।
রান্না করা টমেটো বা টমেটো যুক্ত খাবার আরও বেশি কার্যকর বলে মনে করা হয়, কারণ এতে লাইকোপিন সহজে শোষিত হয়।
ডাবের পানি কাজ করে প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার হিসেবে
গরমে ডাবের পানির কোনো বিকল্প নেই। এটি শরীরকে দ্রুত হাইড্রেট করে এবং ত্বকের আর্দ্রতা বজায় রাখতে সাহায্য করে।
ডাবের পানিতে থাকা ইলেকট্রোলাইট শরীরের পানির ভারসাম্য ঠিক রাখে, ফলে সূর্যের কারণে হওয়া ডিহাইড্রেশন ও ক্লান্তি কমে যায়। ত্বক নরম ও সতেজ রাখতেও এটি খুব কার্যকর।
অন্যান্য উপকারী খাবার
এছাড়াও গাজর, পালং শাক, আখরোট, চিয়া সিড ও ফ্ল্যাক্স সিড ত্বকের জন্য অত্যন্ত উপকারী বলে ধরা হয়। এসব খাবারে থাকা বিটা-ক্যারোটিন, ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড এবং পলিফেনল ত্বকের কোষকে শক্তিশালী করে। এসব পুষ্টি উপাদান সূর্যের কারণে হওয়া ক্ষতি কমায় এবং ত্বকের প্রাকৃতিক প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়।
ত্বককে সূর্যের ক্ষতি থেকে বাঁচাতে শুধু বাহ্যিক সানস্ক্রিনই নয়, ভেতরের যত্নও সমান গুরুত্বপূর্ণ। সঠিক খাবার নির্বাচন করলে শরীর ভেতর থেকেই একটি প্রাকৃতিক সুরক্ষা ঢাল তৈরি করতে পারে।



