জেড নিউজ, ঢাকা:
সুস্বাস্থ্য বজায় রাখা, পেশি গঠন কিংবা দৈনন্দিন কাজের জন্য প্রয়োজনীয় শক্তি ধরে রাখতে প্রোটিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শরীরের পেশি, হাড়, ত্বক ও বিভিন্ন কোষের গঠন ও মেরামতের সঙ্গে প্রোটিনের সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। তাই নিয়মিত খাদ্যতালিকায় ভালো মানের প্রোটিন রাখা জরুরি।
প্রোটিনের কথা উঠলেই আমাদের খাবারের তালিকায় সবচেয়ে পরিচিত দুটি নাম হলো ডিম ও চিকেন। জিম করেন এমন মানুষ থেকে শুরু করে সাধারণ খাদ্যাভ্যাসে থাকা ব্যক্তিরাও এই দুটি খাবারের ওপর নির্ভর করেন। কিন্তু প্রশ্ন হলো- প্রোটিনের পরিমাণ, গুণমান ও অন্যান্য পুষ্টিগুণ বিবেচনায় ডিম নাকি চিকেন, কোনটি বেশি উপকারী? ডিম ও চিকেনের পুষ্টিগুণ এবং ব্যবহারের সুবিধা একেবারেই আলাদা।
প্রোটিনের পরিমাণে এগিয়ে চিকেন
প্রোটিনের পরিমাণের দিক থেকে চিকেন ব্রেস্ট ডিমের তুলনায় অনেক এগিয়ে। ১০০ গ্রাম রান্না করা, চামড়া ছাড়া চিকেন ব্রেস্টে প্রায় ৩০ গ্রামের কাছাকাছি প্রোটিন থাকতে পারে। অন্যদিকে একটি মাঝারি আকারের ডিমে সাধারণত প্রায় ৬–৭ গ্রাম প্রোটিন পাওয়া যায়। অর্থাৎ একই ওজনের খাবার তুলনা করলে চিকেন থেকে বেশি পরিমাণ প্রোটিন পাওয়া সম্ভব। যারা নিয়মিত শরীরচর্চা করেন এবং খাবার থেকে বেশি প্রোটিন নিতে চান, তাদের জন্য এটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা।
প্রোটিনের গুণমানেও ডিম ভালো উৎস
ডিমকে উচ্চমানের প্রোটিনের অন্যতম উৎস বলা হয়। এতে শরীরের প্রয়োজনীয় বিভিন্ন অ্যামিনো অ্যাসিড রয়েছে। অর্থাৎ এটি একটি ‘কমপ্লিট প্রোটিন’। চিকেন প্রোটিনের ভালো উৎস। তাই ডিমের প্রোটিন শরীর শোষণ করতে পারে বা সহজে বা হজম করতে পারে। প্রোটিনের গুণমান বিচার করতে শুধু ‘বায়োলজিক্যাল ভ্যালু’ দিয়ে।
ডিম শুধু প্রোটিন নয়
ডিমের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এটি শুধু প্রোটিনের উৎস নয়, এর কুসুমে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ পুষ্টি উপাদানও রয়েছে। ডিমে ভিটামিন এ, ডি, বি১২, সেলেনিয়াম ও কোলিন পাওয়া যায়। কোলিন মস্তিষ্ক ও স্নায়ুতন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। তবে কুসুমে ফ্যাট ও কোলেস্টেরলও থাকে। তাই ব্যক্তিগত স্বাস্থ্য পরিস্থিতি অনুযায়ী ডিমের পরিমাণ ঠিক করা ভালো।
চিকেন কেন মাসল বিল্ডিংয়ে জনপ্রিয়?
চামড়া ছাড়া চিকেন ব্রেস্টে প্রোটিনের ঘনত্ব বেশি এবং তুলনামূলকভাবে ফ্যাট কম। এ কারণে যারা মাসল বিল্ডিং, রেজিস্ট্যান্স ট্রেনিং বা ওজন নিয়ন্ত্রণের দিকে নজর দিচ্ছেন, তাদের খাদ্যতালিকায় চিকেন রাখতে পারেন। চিকেনে ভিটামিন বি৬, নিয়াসিন, ফসফরাস ও জিঙ্কের মতো পুষ্টি উপাদানও রয়েছে। তবে রান্নার ধরন খুব গুরুত্বপূর্ণ। অতিরিক্ত তেল দিয়ে ভাজা চিকেনের ক্যালরি ও ফ্যাট অনেক বেড়ে যেতে পারে।
ওজন কমাতে কোনটি ভালো
ওজন কমানোর ক্ষেত্রে শুধু ডিম বা চিকেন দুটি জনপ্রিয়। তবে মূল বিষয় হলো মোট ক্যালরি, পর্যাপ্ত প্রোটিন এবং সুষম খাদ্যাভ্যাস। চামড়া ছাড়া গ্রিল, সেদ্ধ বা কম তেলে রান্না করা চিকেন অল্প পরিমাণ খাবারেই বেশি প্রোটিন দিতে পারে। অন্যদিকে সেদ্ধ ডিম সহজে খাবারের সঙ্গে যোগ করা যায় এবং এতে প্রোটিনের পাশাপাশি বেশ কিছু মাইক্রোনিউট্রিয়েন্টও পাওয়া যায়।
ডিম নাকি চিকেন?
ডিমে প্রোটিনের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ ভিটামিন ও খনিজ রয়েছে, আর চিকেন তুলনামূলকভাবে বেশি পরিমাণ লিন প্রোটিনের উৎস। তাই নিজের বয়স, শারীরিক পরিশ্রম, ব্যায়ামের ধরন, মোট খাদ্যাভ্যাস ও স্বাস্থ্যের প্রয়োজন অনুযায়ী দুটিকেই খাদ্যতালিকায় রাখা যেতে পারে। যারা কম খরচে, সহজে রান্নাযোগ্য এবং দ্রুত হজম হয় এমন প্রোটিনের উৎস খুঁজছেন, তাদের জন্য ডিম ভালো। এটি শিশু থেকে প্রবীণসবার জন্যই নিরাপদ।
শুধু বেশি প্রোটিন খেলেই পেশি তৈরি হবে না-এর সঙ্গে পর্যাপ্ত ক্যালরি, অন্যান্য পুষ্টি, ঘুম এবং নিয়মিত ব্যায়ামও প্রয়োজন।ডিম ও চিকেনের সুষম খাদ্যতালিকায় দুটির সঠিক ব্যবহারই সুস্বাস্থ্যের জন্য বেশি গুরুত্বপূর্ণ।





