spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

স্পেনে দুই ট্রেনের মুখোমুখি সংঘর্ষে নিহত বেড়ে ৬৮

জেড নিউজ ডেস্ক:

স্পেনের মধ্যাঞ্চলে দুই দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৮ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও কয়েক ডজন মানুষ। বুধবার সকালে রাজধানী মাদ্রিদ থেকে সেভিলগামী একটি ট্রেন রেললাইনে দাঁড়িয়ে থাকা আরেকটি ট্রেনকে সজোরে ধাক্কা দিলে এ দুর্ঘটনা ঘটে। সংঘর্ষের তীব্রতায় কয়েকটি বগি লাইনচ্যুত হয়ে ঢাল বেয়ে নিচে পড়ে যায়।

স্পেনের পরিবহণমন্ত্রী জানিয়েছেন, কম্পিউটার ব্যবস্থায় ত্রুটি এবং পরবর্তী সময়ে মানুষের ভুলের কারণে এ দুর্ঘটনা ঘটেছে। আধুনিক ইউরোপের ইতিহাসে এটি অন্যতম ভয়াবহ ট্রেন দুর্ঘটনা। গত ১৩ বছরের মধ্যে স্পেনে এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী ট্রেন দুর্ঘটনা।

বেঁচে যাওয়া যাত্রীরা দুর্ঘটনার ভয়াবহ বর্ণনা দিয়েছেন। তারা জানান, সংঘর্ষের সময় যাত্রীরা ছিটকে পড়ে যান। অনেকে বগির ধ্বংসস্তূপে আটকা পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে কেউ কেউ জানালা ভেঙে বাইরে বেরিয়ে আসেন।

বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ৯টার কিছু পর মাদ্রিদ থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার দক্ষিণে মোরো ও অর্গাজ পৌর এলাকার মাঝামাঝি স্থানে দুর্ঘটনাটি ঘটে।

স্পেনের পরিবহণমন্ত্রী অস্কার পুয়েন্তে জানান, বেসরকারি রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ইরিওর একটি ট্রেনে ১৪৭ জন যাত্রী ছিলেন। কম্পিউটার ব্যবস্থায় ত্রুটি দেখা দেওয়ায় ট্রেনটি রেললাইনে থেমে ছিল।

তিনি বলেন, এ ধরনের ব্যবস্থাগত ত্রুটি দেখা দিলে মাদ্রিদে অবস্থিত ২৪ ঘণ্টার নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র দায়িত্ব নেয়। কিন্তু নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র থেকে কোনো ধরনের গতিসীমা নির্ধারণ না করেই ট্রেনগুলোকে আবার চলাচলের নির্দেশ দেওয়া হয়। কেন এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, তা ব্যাখ্যাতীত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

ইরিও জানিয়েছে, স্পেনের রাষ্ট্রীয় রেল পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান রেনফের একটি ট্রেন পেছন থেকে তাদের ট্রেনটিকে ধাক্কা দেয়। রেনফের ওই ট্রেনে ৩৯৭ জন যাত্রী ছিলেন।

রেনফের ট্রেনের যাত্রী ৬২ বছর বয়সি সালভাদর আরিজা সংঘর্ষের তীব্রতাকে ‘ভয়াবহ’ বলে বর্ণনা করেছেন। বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে তিনি বলেন, যাত্রীরা বের হওয়ার জন্য জানালা ভাঙতে শুরু করেন। কয়েকজন আসনের মধ্যে আটকে থাকায় নড়াচড়া করতে পারছিলেন না।

দুর্ঘটনায় একটি বগিতে আগুন ধরে যায়। যাত্রীরা জানান, ধ্বংসস্তূপের মধ্যে আটকে থাকা মানুষদের কান্না, রক্তাক্ত যাত্রী এবং চারপাশে ছড়িয়ে থাকা ধ্বংসাবশেষের দৃশ্য ছিল হৃদয়বিদারক।

স্পেনের এল পাইস পত্রিকার সাংবাদিক আন্তোনিও হিমেনেজ বারকা দুর্ঘটনার সময় রেনফের ট্রেনের খাবারের দোকানের দিকে যাচ্ছিলেন। তিনি বলেন, হঠাৎ পেছন থেকে ধাক্কা দেওয়ার মতো অনুভূতি হয়। এরপর তিনি মাটিতে ছিটকে পড়েন।

তিনি বলেন, ‘আমার মাথায় প্রচণ্ড আঘাত লাগে। আমি রক্তে ভেসে যাচ্ছিলাম। আমার ওপর অন্য মানুষ পড়ে ছিলেন। একজনের হাত এবং আরেকজনের মাথায় আঘাত লেগেছিল।’

অনেক যাত্রী জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার পর তারা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। স্থানীয় একটি টেলিভিশন চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার সময় এক যাত্রী কান্নায় ভেঙে পড়েন। তিনি জানান, এক নারী তার কোলে মারা যান।

দুর্ঘটনাস্থল পরিদর্শনে গিয়ে স্পেনের প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ বলেন, ‘পুরো স্পেন শোকাহত। বহু মানুষের জীবন তছনছ হয়ে গেছে, পরিবারগুলো ভেঙে পড়েছে। এই বেদনা অসীম।’

এ ঘটনায় শোক প্রকাশ করে স্পেনের অধিকাংশ রাজনৈতিক দল বুধবারের নির্ধারিত নির্বাচনী প্রচার কর্মসূচি বাতিল করে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়