spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা কমানোর ঘরোয়া উপায়

জেড নিউজ, ঢাকা:

অনিয়মিত সময়ে খাওয়া, অতিরিক্ত তেল-মসলাযুক্ত খাবার, দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা, ধূমপান, অতিরিক্ত চা-কফি কিংবা মানসিক চাপের কারণে অনেকেরই অ্যাসিডিটি বা বুকজ্বালার সমস্যা দেখা দেয়।
এমন পরিস্থিতিতে অনেকেই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই নিজের মতো করে অ্যান্টাসিড বা গ্যাসের ওষুধ খেতে শুরু করেন। এতে করে দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। তবে প্রতিনিয়ত ওষুধের ওপর নির্ভর না করে রান্নাঘরে থাকা কিছু সহজ উপাদান ও স্বাস্থ্যকর অভ্যাসের মাধ্যমে গ্যাস্ট্রিক বা অ্যাসিডিটির অস্বস্তি কিছুটা কমানো যেতে পারে।

আদা ও লবঙ্গ
আদা দীর্ঘদিন ধরেই হজমের অস্বস্তি কমাতে ঘরোয়া উপাদান হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আদায় থাকা অ্যান্টি-ইনফ্লেমেটরি উপাদান পাকস্থলীর প্রদাহ ও গ্যাস দূর করতে সাহায্য করে। গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা বা বুক জ্বালা অনুভব হলে এক টুকরো কাঁচা আদায় সামান্য লবণ দিয়ে চিবিয়ে খেতে পারেন। এছাড়া ১-২টি লবঙ্গ মুখে রেখে রস চুষে খেলে লবঙ্গের প্রাকৃতিক তেল দ্রুত এসিড প্রশমিত করে ব্যথা কমায়। তবে কাঁচা আদা বেশি পরিমাণে খেলে বুকজ্বালা বাড়তে পারে। তাই নিজের শরীরের প্রতিক্রিয়া বুঝে পরিমাণ ঠিক করা ভালো।

জোয়ান-মৌরিতে মিলতে পারে আরাম
পেট ফাঁপা বা হজমের অস্বস্তিতে জোয়ান ও মৌরি অনেকের কাছে পরিচিত ঘরোয়া উপাদান।জিরায় প্রাকৃতিক এনজাইম থাকে, যা পাকস্থলীর অতিরিক্ত এসিড নিরাময়ে সাহায্য করে। মৌরির পানি খেলে হজম দ্রুত হয় এবং এসিড রিফ্লাক্স রোধ হয়। ১ গ্লাস পানিতে অল্প জিরা ফুটিয়ে হালকা গরম অবস্থায় পান করা যেতে পারে। এটি হজমে স্বস্তি দিতে পারে। তবে পানীয়টি অতিরিক্ত ঘন করে খাওয়ার প্রয়োজন নেই।

ঠান্ডা দুধ ও টক দই
ঠান্ডা দুধে থাকা ক্যালসিয়াম সাময়িকভাবে পাকস্থলীর অ্যাসিডকে প্রশমিত করতে সাহায্য করতে পারে। গ্যাস্ট্রিকের কারণে বুকে তীব্র জ্বালাপোড়া হলে চিনি ছাড়া ১ কাপ দুধ ধীরে ধীরে পান করুন। এছাড়া টক দইয়ে থাকা ‘প্রোবায়োটিক’ বা ভালো ব্যাকটেরিয়া হজমশক্তি বাড়ায় এবং অন্ত্রের স্বাস্থ্য ভালো রাখে। তবে সবার ক্ষেত্রে দুধ অ্যাসিডিটির উপসর্গ কমায় না, কারো কারো ক্ষেত্রে বরং বুক জ্বালা বাড়তে পারে।

ডাবের পানি
ডাবের পানি হলো ইলেকট্রোলাইটের চমৎকার উৎস, যা শরীরের পিএইচ ভারসাম্য রক্ষা করে পাকস্থলীর এসিড দূর করতে সাহায্য করে। তাই হঠাৎ তীব্র পেটে ব্যথা হলে একটি ডাবের পানি পান করুন।

বেকিং সোডা
খুব জরুরি পরিস্থিতিতে আধা গ্লাস পানি আধা চা চামচ বেকিং সোডা মিশিয়ে পান করলে তা তাৎক্ষণিক প্রাকৃতিক অ্যান্টাসিড হিসেবে কাজ করে গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা কমায়। কিন্তু অতিরিক্ত বেকিং সোডা শরীরে সোডিয়ামের পরিমাণ বাড়াতে পারে এবং কিছু মানুষের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ হতে পারে।

তবে গ্যাস্ট্রিকের ব্যথা এড়াতে যা করবেন-
খাওয়ার সময়ের দিকে নজর দিন
অ্যাসিডিটির সমস্যা কমাতে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো নিয়মিত খাবার খাওয়ার অভ্যাস। দীর্ঘ সময় খালি পেটে থাকা এড়িয়ে চলুন। অতিরিক্ত ঝাল, তেলেভাজা ও খুব ভারী খাবার খাওয়ার পরিমাণ কমান। কোন খাবার খেলে আপনার বুকজ্বালা বাড়ে, সেটিও খেয়াল রাখুন।

খাওয়ার পরপরই শুয়ে পড়বেন না
খাবার খাওয়ার পর সঙ্গে সঙ্গে শুয়ে পড়লে অ্যাসিড ওপরে উঠে আসার প্রবণতা বাড়তে পারে। বিশেষ করে রাতে ঘুমানোর অন্তত দুই-তিন ঘণ্টা আগে খাবার শেষ করার চেষ্টা করুন। নিয়মিত হালকা হাঁটাহাঁটিও হজমে সহায়ক হতে পারে।

চা-কফি ও ধূমপানে সতর্কতা
অতিরিক্ত চা, কফি, কোমল পানীয় বা ধূমপান অনেকের অ্যাসিডিটির সমস্যা বাড়িয়ে দিতে পারে। তাই এসবের পরিমাণ কমিয়ে নিজের উপসর্গের পরিবর্তন লক্ষ্য করা ভালো।

বুকজ্বালা বা পেটের সমস্যা হলে এর পেছনে গ্যাস্ট্রাইটিস, আলসার, রিফ্লাক্সসহ বিভিন্ন কারণ থাকতে পারে। দীর্ঘদিন সমস্যা চললে, পায়খানায় রক্ত, রক্তবমি, অনিচ্ছাকৃত ওজন কমে যাওয়া, বারবার বমি বা তীব্র পেটব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া জরুরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়