জেড নিউজ, ঢাকা:
শিক্ষা খাতের নানা সংকট ও রাজপথের অস্থিতিশীলতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে শিক্ষার্থীদের নিজেদের শিক্ষা ও গবেষণায় মনোযোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন। তিনি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, দেশের ভঙ্গুর শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনর্গঠনের জন্য সরকার যখন নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে, তখন ঘনঘন অহেতুক আন্দোলন রাষ্ট্রকে অচল করার নামান্তর। রাজধানীর ফার্মগেটে বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বার্ক) মিলনায়তন আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন শিক্ষামন্ত্রী।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, ‘দেশে অতিরাজনীতি শুরু হয়েছে। একটি সরকারের বয়স ছয় মাস না হতেই নানা অজুহাত দিয়ে যারা রাজনীতি করে, তারা মূলত এই দেশের উন্নতি চায় না, তারা অধঃপতন চায়…শিক্ষার্থীদের বলব, আমরা দায়িত্ব নিয়েছি তোমাদের জন্য, আমরা কাজ করছি তোমাদের জন্য। ভেবেচিন্তে আন্দোলন করো।’ এরপরও কেউ আন্দোলন করতে চাইলে সরাসরি মন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আসো, আমি তোমাদের সব প্রশ্নের উত্তর দেব। তবু বিনা কারণে হইচই করে অস্বস্তিকর পরিবেশ সৃষ্টি করা যাবে না।’
গত ২০ বছরে দেশের শিক্ষা খাত অনেকটা পেছনের দিকে হেঁটেছে বলেও সেমিনারে মন্তব্য করেন শিক্ষামন্ত্রী। তিনি বলেন, এ বছর এসএসসি পরীক্ষার ফলাফল বিপর্যয় কোনো কৃত্রিম বিষয় নয়, শিক্ষার্থীদের প্রকৃত মেধা ও যোগ্যতা যাচাইয়ের জন্যই এবার বস্তুনিষ্ঠ মূল্যায়ন করা হয়েছে।
ইতিহাসে প্রথমবারের মতো শিক্ষা খাতে জিডিপির নিট ২ শতাংশ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। তবে বর্তমানে প্রাথমিকে ৫০ হাজার এবং মাধ্যমিক ও কলেজে হাজার হাজার শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। বিগত সরকারের রেখে যাওয়া আইনি জটিলতা ও ব্যাকলগ কাটিয়ে এনটিআরসিএ এবং পিএসসির মাধ্যমে দ্রুত স্বচ্ছ নিয়োগের চেষ্টা চলছে।
৩১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এবারের এসএসসি পরীক্ষায় কেউ পাস করেনি। তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার ইঙ্গিত দেন শিক্ষামন্ত্রী। পাশাপাশি জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীন কর্মসংস্থানহীন সনাতন বিষয়ে অনিয়ন্ত্রিত অনার্স কোর্স খোলা বন্ধ রাখা হয়েছে এবং উচ্চশিক্ষায় বিশ্বমানের বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার ওপর জোর দেন মন্ত্রী।





