জেড নিউজ ডেস্ক:
বৃহস্পতির বরফঢাকা চাঁদ ‘ইউরোপা’ দেখতে প্রাণহীন মনে হলেও, সৌরজগতের বাইরে প্রাণের অস্তিত্ব খোঁজার ক্ষেত্রে এটি বিজ্ঞানীদের কাছে সবচেয়ে সম্ভাবনাময় জায়গা। চাঁদটি প্রায় ৩০ কিলোমিটার পুরু কঠিন বরফের স্তরে ঢাকা। বৃহস্পতির তীব্র বিকিরণের মুখে থাকা উপগ্রহটির পৃষ্ঠের তাপমাত্রা -১৬০ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে থাকে। এত বিরূপ পরিবেশের পরও বিজ্ঞানীদের ধারণা, এই বরফের আবরণের নিচেই রয়েছে তরল জলের এক বিশাল মহাসাগর।
গবেষকদের মতে, পৃথিবীর সব মহাসাগর মিলিয়ে যত জল রয়েছে, ইউরোপার এই গুপ্ত মহাসাগরে তার দ্বিগুণেরও বেশি জলের মজুত আছে। বৃহস্পতির মহাকর্ষীয় টান ও ‘টাইডাল হিটিং’ (জোয়ার-ভাটা জনিত উত্তাপ)-এর কারণে এই মহাসাগর উষ্ণ থাকে। বিজ্ঞানীদের বিশ্বাস, ভূগর্ভস্থ এই মহাসাগরে প্রাণের জন্য প্রয়োজনীয় তিনটি মূল উপাদান—তরল জল, রাসায়নিক উপাদান এবং শক্তির উৎস থাকতে পারে।
প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার ব্যাসার্ধের ইউরোপা বৃহস্পতির অন্যান্য বড় চাঁদের তুলনায় ছোট ও হালকা। খালি চোখে দেখা না গেলেও, টেলিস্কোপ বা দূরবীনে এটি দৃশ্যমান।
পৃষ্ঠভাগ পুরোপুরি বরফে ঢাকা থাকায় এটি প্রচুর আলো প্রতিফলিত করে। পৃথিবীর মতো পাথুরে ভূত্বকের বদলে ইউরোপায় রয়েছে বরফের স্তর, যার নিচে রয়েছে মহাসাগর, সিলিকেট পাথরের ম্যাগমা ও লোহার কেন্দ্র। পৃথিবীর মতো এখানেও বরফের বিশাল ‘টেকটোনিক প্লেট’ একে অপরের ওপর দিয়ে বা নিচ দিয়ে পিছলে যায় বলে প্রমাণ মিলেছে।
ইউরোপার বয়স প্রায় ৪৫০ কোটি বছর হলেও, গর্তহীন মসৃণ পৃষ্ঠটির বয়স মাত্র ২ থেকে ১৮ কোটি বছর। মাত্র ৩.৫৫ দিনে বৃহস্পতিকে প্রদক্ষিণ করা এই উপগ্রহের শক্তির মূল উৎস টাইডাল হিটিং। এছাড়া এর পৃষ্ঠ থেকে ১৯০ কিলোমিটার ওপর পর্যন্ত একটি পাতলা বায়ুমণ্ডল রয়েছে। বৃহস্পতির বিকিরণে বরফ ভেঙে তৈরি হওয়া আণবিক অক্সিজেন সেখানে থাকলেও, তা মানুষের শ্বাস নেওয়ার জন্য যথেষ্ট নয়।





