spot_img

এ সপ্তাহের সেরা

সম্পর্কিত পোস্ট

যে ভালোবাসা ত্যাগ শেখায়

জেড নিউজ , ঢাকা :

 বিশিষ্ট সাহাবি হজরত আবদুল্লাহ ইবনে মুগাফফাল (রা.) থেকে বর্ণিত, তিনি বলেন, একবার এক লোক মহানবী (সা.)-এর কাছে এসে বলল, ইয়া রাসুলাল্লাহ, ওয়াল্লাহি! আমি আপনাকে ভালোবাসি। মহানবী (সা.) বললেন, তুমি যা বলছ, তা একটু ভেবে-চিন্তে বলো।

সে বলল, ওয়াল্লাহি! আমি আপনাকে ভালোবাসি। এমনটা সে তিনবার বলল। তিনি বললেন, যদি তুমি আমাকে ভালোবাসো, তাহলে দারিদ্র্যের জন্য বর্ম তৈরি করে রেখো। কেননা, যে আমাকে ভালোবাসবে, পানির স্রোত তার শেষ প্রান্তের দিকে যাওয়ার চেয়েও অতি দ্রুত দরিদ্রতা তার কাছে চলে আসবে।

‘ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৫০)

শিক্ষা ও বিধান

১. মহানবী (সা.)-এর প্রতি ভালোবাসা ঈমানের অপরিহার্য অংশ। মুমিনের হৃদয়ে আল্লাহর পর সর্বাধিক ভালোবাসার অধিকারী হলেন মহানবী (সা.)। তবে এই ভালোবাসা শুধু মুখের দাবি নয়; তাঁর সুন্নাহ অনুসরণের মাধ্যমে তা প্রমাণ করতে হয়।

২. ভালোবাসার দাবির সঙ্গে ত্যাগের প্রস্তুতিও থাকতে হবে। মহানবী (সা.) লোকটিকে বললেন, ‘ভেবে-চিন্তে বলো।’ অর্থাৎ প্রকৃত ভালোবাসা মানে তাঁর পথের কষ্ট, ত্যাগ ও পরীক্ষাকে গ্রহণ করার মানসিকতা রাখা।

৩. আল্লাহর পথে চললে পরীক্ষা আসবেই। নবী-রাসুল, সাহাবায়ে কেরাম এবং নেককারদের জীবন ছিল দুঃখ-কষ্ট, অভাব ও নির্যাতনে পরিপূর্ণ। তাই মুমিনের জীবনও পরীক্ষা থেকে মুক্ত নয়।

৪. দারিদ্র্য এখানে একটি পরীক্ষার স্বরূপ। হাদিসে দারিদ্র্যের কথা বলা হলেও এর উদ্দেশ্য হলো—দ্বিনের পথে চললে দুনিয়ার আরাম-আয়েশ কমে যেতে পারে, মানুষ বিভিন্ন ধরনের কষ্টের সম্মুখীন হতে পারে। তাই ধৈর্য ধারণ করতে হবে।

৫. সুন্নাহ অনুসরণে দুনিয়ার স্বার্থের চেয়ে আখিরাতকে প্রাধান্য দিতে হবে। যে ব্যক্তি রাসুল (সা.)-এর আদর্শ আঁকড়ে ধরে, সে অনেক সময় দুনিয়াবি লাভ-লোকসানকে উপেক্ষা করে আল্লাহর সন্তুষ্টিকে অগ্রাধিকার দেয়।

৬. পরীক্ষার সময় ধৈর্যই মুমিনের অলংকার। আল্লাহ তাআলা বলেন, ‘নিশ্চয়ই ধৈর্যশীলদেরই তাদের প্রতিদান অগণিতভাবে দেওয়া হবে।’ (সুরা : জুমার, আয়াত : ১০)

৭. নবীদের জীবন ছিল কষ্টময়। রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘মানুষের মধ্যে সবচেয়ে কঠিন পরীক্ষার সম্মুখীন হন নবীগণ; তারপর যারা তাদের অধিক সাদৃশ্যপূর্ণ।’ (তিরমিজি, হাদিস : ২৩৯৮)

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জনপ্রিয়