১৪/০৬/২০২৬, ২৩:৫৬ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    পৃথিবীতে ফিরে আসছে ব্লুবাক অ্যান্টিলোপ!

    জেড নিউজ ডেস্ক :

    ইউরোপীয় উপনিবেশবাদীদের অতিরিক্ত শিকারের কারণে প্রায় ২০০ বছর আগে পৃথিবী থেকে চিরতরে হারিয়ে যাওয়া একটি অনন্য বন্যপ্রাণী ‘ব্লুবাক অ্যান্টিলোপ’ বা নীলহরিণ। এবার জিন প্রকৌশল বা জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের মাধ্যমে বিলুপ্ত হয়ে যাওয়া এ বিশেষ প্রজাতির হরিণকে পৃথিবীতে আবার ফিরিয়ে আনার এক ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের একটি বায়োটেকনোলজি প্রতিষ্ঠান।

    যুক্তরাষ্ট্রের ডালাসভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘কলোসাল বায়োসায়েন্সেস’ সম্প্রতি আনুষ্ঠানিকভাবে এ ঘোষণা দিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের বিলুপ্ত প্রাণী ফিরিয়ে আনার (ডি-এক্সটিংকশন) তালিকায় ষষ্ঠ প্রাণী হিসেবে যুক্ত হয়েছে এই নীলহরিণ। এর আগে তারা আইস এজ বা বরফ যুগের বিখ্যাত উলি ম্যামথ, ডোডো পাখি, তাসমানিয়ান টাইগার, মোয়া পাখি এবং প্রাচীন শিকারি প্রাণী ডায়ার উলফ বা নেকড়ে ফিরিয়ে আনার কাজ শুরু করেছে।

    প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) বেন ল্যাম্ব আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম রয়টার্সকে জানিয়েছেন, তারা দুই বছর ধরে নীলহরিণ প্রকল্পের কাজ পরিচালনা করছেন এবং বেশ কিছু প্রাথমিক ও গুরুত্বপূর্ণ ধাপ সফলভাবে সম্পন্ন করেছেন। এ প্রকল্পের মূল লক্ষ্য হলো অত্যাধুনিক জিন প্রযুক্তির সাহায্য নিয়ে হারিয়ে যাওয়া প্রাণীটির অবিকল রূপ তৈরি করা এবং একসময় তাদের আদি প্রাকৃতিক পরিবেশে ফিরিয়ে দেয়া।

    ইতিহাস থেকে জানা যায়, নীলহরিণ বা ব্লুবাক অ্যান্টিলোপগুলো দেখতে অত্যন্ত সুন্দর ও আকর্ষণীয় ছিল। এদের শরীরের চামড়া বা পশম ছিল রূপালি ও স্লেট পাথরের মতো নীলচে রঙের। মাথার ওপর ছিল পেছনের দিকে বাঁকানো বড় রিং আকৃতির শিং। দক্ষিণ আফ্রিকার দক্ষিণ-পশ্চিম কেপ অঞ্চলের উপকূলীয় তৃণভূমিতে দল বেঁধে বাস করত এ প্রাণীটি। ১৭৬৬ সালে বিজ্ঞানীরা প্রথম এই প্রাণীর সন্ধান পান এবং নথিবদ্ধ করেন। কিন্তু দুঃখজনক বিষয় হলো, ইউরোপীয় শিকারিরা এদের সুন্দর চামড়ার লোভে এতটাই নির্বিচারে শিকার শুরু করে যে আবিষ্কারের মাত্র ৩৪ বছরের মাথায় অর্থাৎ ১৮০০ সালের মধ্যেই এ পুরো প্রজাতিটি পৃথিবী থেকে সম্পূর্ণ বিলুপ্ত হয়ে যায়।

    কলোসাল বায়োসায়েন্সেসের প্রধান বেন ল্যাম্ব বলেন, ‘মানুষের কারণেই এ সুন্দর প্রাণীটি পৃথিবী থেকে হারিয়ে গেছে। ইউরোপীয় বসতি স্থাপনকারীরা মাত্র ৩৪ বছরের মধ্যে কেপ অঞ্চল থেকে নীলহরিণদের গুলি করে মেরে শেষ করে দিয়েছে।

    বিজ্ঞানীরা জানিয়েছেন, এই নীলহরিণকে পুনরুজ্জীবিত করার জন্য তারা সুইডেনের স্টকহোমে অবস্থিত ‘সুইডিশ মিউজিয়াম অব ন্যাচারাল হিস্ট্রি’তে সংরক্ষিত একটি তরুণ পুরুষ নীলহরিণের চামড়া থেকে প্রাচীন ডিএনএ বা জিনগত উপাদান সংগ্রহ করেছেন। এরপর এই প্রাচীন ডিএনএর সঙ্গে নীলহরিণের সবচেয়ে নিকটবর্তী ও বর্তমানে জীবিত প্রজাতি ‘রোন অ্যান্টিলোপ’ বা রোন হরিণের ডিএনএ তুলনা করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা গেছে, এই দুই প্রজাতির জিনগত বৈশিষ্ট্যের মধ্যে ৯৮ শতাংশেরও বেশি মিল রয়েছে।

    তবে কৃত্রিমভাবে বিলুপ্ত প্রাণী ফিরিয়ে আনার এই বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নিয়ে বিশ্বজুড়ে বিজ্ঞানী এবং নীতিবিদদের মধ্যে তীব্র বিতর্ক চলছে। অনেক বিজ্ঞানী ও বন্যপ্রাণী বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে জন্ম নেয়া প্রাণীগুলো কখনোই হুবহু আদি বিলুপ্ত প্রাণী হবে না। এগুলো আসলে বর্তমানে বেঁচে থাকা প্রাণীদের একটি জিনগতভাবে পরিবর্তিত বা মডিফাইড রূপ মাত্র। এ ছাড়া এই ধরনের কৃত্রিম প্রাণীকে হঠাৎ করে আবার বনে ছেড়ে দিলে তা প্রকৃতির স্বাভাবিক ভারসাম্য নষ্ট করবে কিনা, তা নিয়েও অনেকে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়