১৫/০৬/২০২৬, ০:০৫ পূর্বাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    জিরো কুপন বন্ডের আয়ে কর অব্যাহতি সুবিধা বাতিল

    জেড নিউজ, ঢাকা:

    ব্যাংক, বীমা, আর্থিক প্রতিষ্ঠান কিংবা অন্য কোনো কোম্পানির ইস্যুকৃত জিরো কুপন বন্ডে বিনিয়োগ থেকে অর্জিত আয়ে কর অব্যাহতি সুবিধা বাতিল করা হয়েছে। ‘আয়কর আইন, ২০২৩’-এর যষ্ঠ তফসিলের ১ অনুচ্ছেদের ২৫ নম্বর ধারায় জিরো কুপন বন্ড থেকে আয়কে কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া হয়। এ সুবিধার ফলে জিরো কুপন বন্ড থেকে অর্জিত আয়ের জন্য বিনিয়োগকারীদের কোনো ধরনের আয়কর দিতে হতো না। কিন্তু আগামী অর্থবছর থেকে এ আয়ের ওপর কর প্রদান করতে হবে। জিরো কুপন বন্ডের আওতায় জিরো কুপন ইসলামি সার্টিফিকেটও রয়েছে।

    অর্থবিল ২০২৬-এ কর অব্যাহতি সুবিধা বাতিল করতে এ সংক্রান্ত ধারাটি বিলুপ্ত করার কথা বলা হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে বিলটি উপস্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।

    জিরো কুপন বন্ড হলো একধরনের ঋণপত্র বা বন্ড, যার বিপরীতে বিনিয়োগকারীকে নিয়মিত কোনো সুদ বা ‘কুপন’ দেওয়া হয় না। সাধারণত বন্ডের বিপরীতে একটি নির্দিষ্ট হারে সুদ বা মুনাফা পাওয়া যায়, কিন্তু জিরো কুপন বন্ডে তা হয় না। এর পরিবর্তে এই বন্ডগুলো তাদের ফেসভ্যালু থেকে কম দামে (ডিসকাউন্টে) বিক্রি করা হয়। মেয়াদ শেষে বিনিয়োগকারী বন্ডের পূর্ণ অভিহিত মূল্য ফেরত পান। এই কম দামে কেনা এবং মেয়াদ শেষে পূর্ণ দাম ফেরত পাওয়ার মধ্যবর্তী ব্যবধানটিই হলো বিনিয়োগকারীর মুনাফা।

    এদিকে জিরো কুপন বন্ডে কর অব্যাহতি সুবিধা বাতিল করা হলেও কোম্পানির অর্জিত লভ্যাংশের ওপর থেকে ২০ শতাংশ কর প্রত্যাহার করা হয়েছে। একই সঙ্গে কোম্পানি ছাড়া অন্য করদাতার ক্ষেত্রে এ ধরনের লভ্যাংশ আয়ের অন্তর্ভুক্ত এবং মোট আয়ের ওপর নিয়মিত হারে করারোপের বিধানটিও বাতিল হয়েছে। ‘আয়কর আইন, ২০২৩’-এর সপ্তম তফসিলের বিশেষ কর হারের ২ নম্বর ধারায় কোম্পানির অর্জিত লভ্যাংশের ওপর ২০ শতাংশ হারে করারোপের বিধান রাখা হয়েছে। তবে অর্থবিল ২০২৬-এ ২ নম্বর ধারাটি বাতিলের প্রস্তাব করা হয়।

    বর্তমানে সরকারি সিকিউরিটিজ কিংবা কোনো (ফাইন্যান্স কোম্পানি) বা ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন অব বাংলাদেশ (আইসিবি) বা সম্পদ ব্যবস্থাপক বা ফান্ড ম্যানেজার কর্তৃক ইস্যুকৃত ইউনিট সার্টিফিকেট এবং মিউচুয়াল ফান্ড, এক্সেচেঞ্জেস ট্রেডেড ফান্ড (ইটিএফ) বা যৌথ বিনিয়োগ স্কিম সার্টিফিকিটে অনধিক ৫ লাখ টাকা বিনিয়োগের ক্ষেত্রে কর রেয়াত সুবিধা রয়েছে। আয়কর আইনের ষষ্ঠ তফসিলের ৩ অনুচ্ছেদের ৭ নম্বর ধারায় বিনিয়োগে এ কর রেয়াত সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু আগামী অর্থবছর থেকে কর রেয়াতের ক্ষেত্রে নতুন শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়েছে। নতুন সংশোধনীতে বলা হয়েছে, কর রেয়াত প্রাপ্যতার ক্ষেত্রে বিনিয়োগের পূর্ণ মেয়াদকাল বিবেচিত হবে। মেয়াদের আগে ওই বিনিয়োগ নগদায়ন করলে নগদায়ন সংশ্লিষ্ট অর্থবছরে গৃহীত রেয়াতের অংশ অতিরিক্ত কর হিসাবে পরিশোধ করতে হবে।

    সংশ্লিষ্টরা জানান, বিনিয়োগে কর রেয়াত দেওয়ার মূল উদ্দেশ্য হলো, করদাতাদের দীর্ঘমেয়াদি সঞ্চয় ও বিনিয়োগে উৎসাহিত করা। যদি বিনিয়োগকারী মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই টাকা তুলে ফেলেন, তাহলে করছাড়ের মূল উদ্দেশ্যটি ব্যাহত হয়। তাই সরকার এ সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা রেখেছে।

    আয়কর আইন অনুযায়ী, কর রেয়াত হলো সরকার কর্তৃক স্বীকৃত কিছু নির্দিষ্ট খাতে বিনিয়োগ বা দানের বিপরীতে করদাতাকে দেওয়া এক ধরনের আর্থিক সুবিধা। ধরুন, আপনার বার্ষিক আয়করের পরিমাণ নির্ধারিত হয়েছে ৫০ হাজার টাকা। আপনি কর রেয়াতযোগ্য কোনো খাতে এক লাখ টাকা বিনিয়োগ করলেন, যার ফলে সরকার আপনাকে ১০ শতাংশ কর রেয়াত বা ১০ হাজার টাকা ছাড় দিল। এখন আপনাকে মোট কর দিতে হবে ৪০ হাজার টাকা। অর্থাৎ ওই ১০ হাজার টাকাই হলো আপনার ‘কর রেয়াত’।

    সরকার এখন কর রেয়াত সুবিধার জন্য মেয়াদের সময় বেঁধে দিয়েছে। এর ফলে যদি কেউ কর রেয়াত সুবিধা নেওয়ার পর সে বিনিয়োগের মেয়াদ পূর্ণ হওয়ার আগেই তা তুলে ফেলেন (নগদায়ন করেন), তবে আইন অনুযায়ী সে বিনিয়োগটি আর ‘রেয়াত পাওয়ার যোগ্য’ থাকবে না। ফলে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে টাকা তুলে ফেললে ওই বিনিয়োগের বিপরীতে যে কর রেয়াত সুবিধা পূর্ববর্তী বছরগুলোতে গ্রহণ করা হয়েছিল, তা সে অর্থবছরের ‘অতিরিক্ত আয়কর’ হিসেবে গণ্য হবে। অর্থাৎ রিটার্ন দাখিলের সময় সে অর্থ নতুন করে পরিশোধ করতে হবে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়