২৫/০৪/২০২৬, ১৬:২৬ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    যেসব খাবার রাসুল (সা.)-এর প্রিয় ছিল

    জেড নিউজ , ঢাকা :

    একজন মুমিনের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ হলেন মহানবী (সা.)। তাঁর জীবন শুধু ইবাদতেই সীমাবদ্ধ নয়; বরং খাদ্যাভ্যাস, চলাফেরা, আচরণ—সব কিছুতে আছে পরিমিতি, ভারসাম্য ও প্রজ্ঞার অপূর্ব সমন্বয়।

    ইবনুল কাইয়্যুম (রহ.) বলেন, খাবারের ব্যাপারে মহানবী (সা.)-এর নীতি ছিল এমন—যা সহজলভ্য হতো তিনি তা কখনো প্রত্যাখ্যান করতেন না। আর যা সহজে পাওয়া যেত না, তা কখনো খোঁজাখুঁজি করতেন না। তাঁর সামনে যে উত্তম খাবারই পরিবেশন করা হতো, তিনি তা গ্রহণ করতেন। তবে যদি তিনি কোনো খাবার পছন্দ না করতেন, তাহলে কোনো কিছু না বলেই তিনি রেখে দিতেন।

    মহানবী (সা.)-এর খাদ্যাভ্যাস সম্পর্কে বেশ কিছু সহিহ হাদিসে স্পষ্ট উল্লেখ পাওয়া যায়। এসব বর্ণনা থেকে তাঁর খাদ্যরুচি, সরলতা ও পরিমিত জীবনধারার এক অনন্য চিত্র ফুটে ওঠে।

    যেমন

    . মধু : আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.) মিষ্টি ও মধু খুব পছন্দ করতেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৪৩১)

    এ থেকে বোঝা যায়, প্রাকৃতিক ও পুষ্টিকর খাদ্যের প্রতি তাঁর বিশেষ অনুরাগ ছিল।

    . খেজুর : সাদ ইবনে আবি ওয়াক্কাস (রা.) বলেন, ‘আমি আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে বলতে শুনেছি, ‘যে ব্যক্তি সকালে সাতটি আজওয়া খেজুর খাবে, সেদিন তার ওপর কোনো বিষ বা জাদুর প্রভাব পড়বে না।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২০৪৭)

    . সিরকা (ভিনেগার) : আয়েশা (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘সিরকা (ভিনেগার) একটি উত্তম তরকারি (মসলা)।’(সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২০৫১)

    . জলপাই তেল : আবু উসাইদ (রা.) থেকে বর্ণিত, মহানবী (সা.) বলেছেন, ‘তোমরা জলপাই তেল খাও এবং তা শরীরে মালিশ করো, কারণ এটি একটি বরকতময় গাছ থেকে উৎপন্ন।’ (তিরমিজি, হাদিস : ১৮৪০)

    . জবের রুটি : আয়েশা (রা.) বলেন, ‘আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর ইন্তেকাল পর্যন্ত তাঁর পরিবার টানা দুদিনও পেটভরে জবের রুটি খেতে পারেননি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ২৯৭০)

    . দুধ : দুধ ছিল মহানবী (সা.)-এর অত্যন্ত পছন্দনীয় খাবারের একটি।

    . পনির : আবদুল্লাহ ইবনে ওমর (রা) বলেন, ‘তাবুকের যুদ্ধে মহানবী (সা.)-এর সামনে পনির আনা হয়। তিনি একটি ছুরি আনতে বললেন, ‘বিসমিল্লাহ’ বলে তা কাটলেন, খেলেন।’ (আবু দাউদ, হাদিস : ৩৮১৯)

    . মাংস : আল্লাহর রাসুল (সা.) মাংস পছন্দ করতেন, বিশেষত ভেড়ার সামনের পা (কাঁধ ও আগার অংশ) তাঁর কাছে বেশি প্রিয় ছিল।

    ০৯.  খরগোশ : আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, ‘আমরা ‘মাররা আল জাহরানে’ একটি খরগোশ তাড়া করেছিলাম। সাহাবিরাও সেটির পিছু ধাওয়া করেন। আমি সেটি ধরে আবু তালহা (রা.)-এর কাছে নিয়ে যাই। তিনি সেটি জবাই করে তার পেছনের অংশ ও ঊরু আল্লাহর রাসুল (সা.)-এর কাছে পাঠান। তিনি তা গ্রহণ করেন।’ আমি জিজ্ঞেস করলাম, ‘তিনি কি তা খেয়েছেন?’ তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ, তিনি তা খেয়েছেন।’ (সহিহ বুখারি, হাদিস : ২৪৩৩)

    ১০. মুরগি : জাহদাম জারমি (রা.) বর্ণনা করেন, আমরা আবু মুসা আশআরি (রা.)-এর সঙ্গে ছিলাম। তিনি আমাদের জন্য খাবারের আয়োজন করলেন, যাতে মুরগির মাংস ছিল। এক ব্যক্তি দ্বিধাগ্রস্ত হলে তিনি বলেন, ‘এসো! আমি নিজে আল্লাহর রাসুল (সা.)-কে এ থেকে খেতে দেখেছি।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস : ১৬৪৯)

    ১১. লাউ : আনাস ইবনে মালিক (রা.) বলেন, একজন দর্জি নবী (সা.)-কে দাওয়াত দিলেন। আমি তাঁর সঙ্গে গেলাম। সেখানে জবের রুটি ও লাউ-মিশ্রিত মাংসের ঝোল পরিবেশন করা হয়। আমি লক্ষ করলাম, মহানবী (সা.) বাটির চারপাশ থেকে লাউ খুঁজে খুঁজে খাচ্ছেন। সেই দিন থেকে আমিও লাউ খাওয়া পছন্দ করতে শুরু করি।’(সহিহ বুখারি, হাদিস : ৫৪৩৬)

    মহানবী (সা.)-এর খাদ্যাভ্যাস গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করলে আমরা দেখতে পাই—এতে কোনো বিলাসিতা ছিল না; বরং ছিল সংযম, কৃতজ্ঞতা ও আল্লাহভীতি। তিনি যা পেতেন, তা-ই সন্তুষ্টচিত্তে গ্রহণ করতেন এবং অপচয় থেকে সম্পূর্ণ বিরত থাকতেন।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়