জেড নিউজ, ঢাকা:
অনেকেই সকালে বা দিনে গরম পানিতে লেবুর রস মিশিয়ে পান করেন। লেবুপানি যে শরীরের জন্য উপকারী এ নিয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তবে পানির তাপমাত্রা ঠিক না হলে এই পানীয়ের পুষ্টিগুণ অনেকটাই কমে যেতে পারে।
মূল বিষয়টি নির্ভর করে পানি কতটা গরম তার ওপর। আমরা সাধারণত যেটাকে গরম পানি বলি, সেই তাপমাত্রায় লেবুর রস মেশালে এর ভিটামিন সি দ্রুত নষ্ট হয়ে যেতে পারে। ফলে লেবুপানির আসল উপকারটাই আর পুরোপুরি পাওয়া যায় না।
তাই লেবুপানি তৈরি করার সময় খুব বেশি গরম পানি ব্যবহার না করাই ভালো। হালকা কুসুম গরম পানি ব্যবহার করতে পারেন, তবে সবচেয়ে ভালো ফল পেতে স্বাভাবিক তাপমাত্রার পানিতেই লেবুর রস মিশিয়ে নেওয়া উচিত।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো-লেবুর খোসাতেও প্রচুর ভিটামিন সি থাকে, অনেক ক্ষেত্রে রসের চেয়েও বেশি। তাই চাইলে লেবুর রস মেশানোর পর খোসাটিও পানিতে কয়েক মিনিট ভিজিয়ে রাখতে পারেন। এতে পানীয়ের পুষ্টিগুণ বাড়বে। ৫ মিনিট পর খোসা তুলে ফেলে পানীয়টি পান করুন।
নিয়ম মেনে খেলে মিলবে পুরো উপকার
সঠিকভাবে তৈরি করা লেবুপানি শরীরের জন্য বেশ উপকারী। এতে থাকা ভিটামিন সি দেহের রোগ প্রতিরোধক্ষমতা বাড়াতে সাহায্য করে এবং দীর্ঘমেয়াদি নানা রোগের ঝুঁকি কমাতে ভূমিকা রাখে।
ঠান্ডা-কাশি কমাতে ও শরীরের ক্ষত দ্রুত সারাতে এই ভিটামিন কার্যকর। পাশাপাশি ত্বকের কোলাজেন তৈরিতে ভিটামিন সি গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নিয়মিত লেবুপানি খেলে ত্বক মসৃণ থাকে এবং বয়সের ছাপ দেরিতে পড়ে।
এছাড়া খাবার থেকে আয়রন শোষণেও ভিটামিন সি সহায়ক ভূমিকা রাখে, যা শরীরের জন্য অত্যন্ত জরুরি।
যেসব বিষয় মনে রাখা জরুরি
লেবুর খোসা পানিতে দিলে হালকা তিতকুটে স্বাদ আসতে পারে। অনেকেই এই স্বাদ ঢাকতে চিনি মেশান, যা মোটেই ভালো অভ্যাস নয়। এতে পানীয়ের স্বাস্থ্যগুণ নষ্ট হয়ে যায়। কৃত্রিম চিনিও এড়িয়ে চলা উচিত। স্বাদ ঠিক রাখতে চাইলে অল্প পরিমাণ মধু ব্যবহার করতে পারেন।
লেবুপানি হজমে সহায়ক হলেও খালি পেটে সবার জন্য উপযোগী নাও হতে পারে। কারও কারও ক্ষেত্রে এতে অ্যাসিডিটির সমস্যা দেখা দিতে পারে। এমন হলে খাবার খাওয়ার প্রায় ২০ মিনিট পর লেবুপানি পান করা ভালো।
লেবুপানি ধীরে ধীরে দীর্ঘ সময় ধরে না খেয়ে একবারেই পান করে ফেলা উচিত। পান করার পর ভালোভাবে কুলকুচি করা জরুরি, কারণ লেবুর অম্ল দাঁতের ক্ষতি করতে পারে। চাইলে স্ট্র ব্যবহার করে পান করা যেতে পারে, তবে প্লাস্টিকের পরিবর্তে ধাতু, কাচ বা বাঁশের স্ট্র ব্যবহার করাই বেশি নিরাপদ ও পরিবেশবান্ধব।



