জেড নিউজ, ঢাকা:
জেড নিউজ, ঢাকা। স্বজনদের কাছে ছিলেন পুতুল। পোশাকি নাম খালেদা খানম। সেসময় ক্যাপ্টেন জিয়াউর রহমানকে বিয়ে করে হন খালেদা জিয়া। হন সেনাপ্রধান ও পরে রাষ্ট্রপতির স্ত্রী। রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মৃত্যুর পর এক শূন্যতার মধ্যে তার দল বিএনপির হাল ধরেন। আট বছর স্বৈরশাসক এরশাদের বিরুদ্ধে আন্দোলনে সামনের কাতারে ছিলেন। তার হাত ধরেই বিএনপির পুনর্জন্ম ঘটে। খালেদা জিয়ার উত্তরণ হয় রাজনীতিবিদ হিসেবে।
আশির দশকে ক্ষমতাসীন এরশাদের অধীন নির্বাচনে যেতে অস্বীকার করেন খালেদা জিয়া। এজন্য তিনি কয়েকবার গ্রেপ্তার ও গৃহবন্দী হন। কিন্তু একটি নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের পরিচালনায় জাতীয় নির্বাচনের দাবিতে অটল থাকেন। জনমনে হয়ে ওঠেন আপসহীন নেত্রী। তার ওপর ভর করে ১৯৯১ সালের সংসদ নির্বাচনে দলকে জয় লাভ করে। তিনি হন দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী। এরপর তিন মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী ছিলেন।
এরপর এক রাজনৈতিক সংকট তৈরি হয়। এ পটভূমিতে সংঘটিত হয় সেনা অভ্যুত্থান, যা এক-এগারো নামে পরিচিতি। সেসময় রাজনীতি চলে যায় ব্যাকফুটে। গ্রেপ্তার হন খালেদা জিয়া। তার সন্তানেরা নির্যাতনের শিকার হন। তা সত্ত্বেও তিনি এক-এগারোর কুশীলবদের সঙ্গে কোনো সমঝোতায় যাননি। এজন্য কড়া মূল্য দিতে হয় তাকে। সম্পূর্ণ অপ্রস্তুত অবস্থায় ২০০৮ সালের নির্বাচনে তার দলের হাতে মাত্র ৩০টি আসন গছিয়ে দেয়া হয়। আওয়ামী লীগ তার মিত্রদের নিয়ে সরকার গঠন করে। খালেদা জিয়া রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হন। তুচ্ছ একটি মামলায় তাকে ফাঁসিয়ে কারাদণ্ড দেয়া হয়। একসময় মনে হয়, তিনি এ জীবনে আর হয়ত মুক্ত আলো-বাতাসে বিচরণ করতে পারবেন না।
তবে ২০২৪ সালের জুলাই আন্দোলন পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে দেয়। শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে যান। ৬ আগস্ট মুক্ত হন খালেদা জিয়া। দেন ঐক্যের ডাক। ৭ আগস্ট ঢাকায় বিএনপির এক সমাবেশে ভিডিও বার্তায় তিনি, ধ্বংস নয়, প্রতিশোধ নয়, ভালোবাসা, শান্তি ও জ্ঞানভিত্তিক সমাজ গড়ে তোলার আহবান জানান। সেসময় তিনি প্রধান রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বীকে নিয়ে একটিও নেতিবাচক মন্তব্য করেননি। তার এই সৌজন্যবোধ, পরিমিতিবোধ ও উদারতা- রাজনীতিতে একটি মানদণ্ড হয়ে থাকবে। যার মাধ্যমে ইতিহাসে অবশ্যই জায়গা করে নিয়েছেন বেগম খালেদা জিয়া।



