জেড নিউজ ডেস্ক :
জন্মদিন মানেই একসময় ছিল নানার সঙ্গে আনন্দের মুহূর্ত, ঘুম থেকে ডেকে কেক কাটা আর ভালোবাসায় ঘেরা একরাশ স্মৃতি। সময় বদলেছে, বদলেছে জীবনের অনেক কিছু; শুধু রয়ে গেছে প্রিয় মানুষটিকে হারানোর শূন্যতা।
৩৪তম জন্মদিনে দুই সন্তানকে নিয়ে কেক কাটলেও প্রয়াত নানার কথা মনে করে আবেগাপ্লুত ঢালিউড অভিনেত্রী পরীমনি। বললেন, ‘নানা বেঁচে থাকতে আমাকে ঘুম থেকে তুলে কেক কাটতেন। এখন তো আমার সেই মানুষটা নেই। মনে পড়লে কান্না পায়।
’
অভিনেত্রী হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে ছোটবেলায় নাচ শিখেছিলেন পরীমনি। ভর্তি হয়েছিলেন বুলবুল একাডেমি অব ফাইন আর্টসে (বাফা)। সেখানে বেশিদিন না থাকলেও নাচ শেখার সেই অভিজ্ঞতা পরবর্তী সময়ে অভিনয়জীবনে কাজে লেগেছে। এরপর টেলিভিশন নাটকে অভিনয়ের সুযোগ পান তিনি।
‘সেকেন্ড ইনিংস’ ছিল তার প্রথম নাটক। পরে অভিনয় করেন ‘এক্সক্লুসিভ’ ও ‘এক্সট্রা ব্যাচেলর’-এর মতো নাটকে। সেখান থেকে ধীরে ধীরে পা রাখেন বড়পর্দায়।
এক দশকের বেশি সময়ের অভিনয়জীবনে তারকাখ্যাতি পেয়েছেন পরীমনি। অভিনয়ের পাশাপাশি ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও তাকে ঘিরে আলোচনা কম নয়।
তবে এসব নিয়ে খুব একটা মাথা ঘামান না এই অভিনেত্রী। বরং নিজের মতো করে জীবন উপভোগ করতেই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন তিনি।
আজ পরীমনির ৩৪তম জন্মদিন। গতকাল শুক্রবার দিবাগত রাত ১২টার পর দুই সন্তানকে নিয়ে কেক কেটে জন্মদিন উদ্যাপন করেছেন তিনি। তবে বিশেষ এই মুহূর্তে বারবার মনে পড়েছে প্রয়াত নানা শামসুল হক গাজীকে। তাকে স্মরণ করে আবেগাপ্লুত হয়ে পরীমনি বলেন, ‘নানা বেঁচে থাকতে আমাকে ঘুম থেকে তুলে কেক কাটতেন। এখন তো আমার সেই মানুষটা নেই। মনে পড়লে কান্না পায়।’
১৯৯২ সালের ২৪ অক্টোবর সাতক্ষীরায় জন্ম পরীমনির। তার পুরো নাম শামসুন্নাহার স্মৃতি। বাবা মনিরুল ইসলাম ও মা সালমা সুলতানা। মাত্র তিন বছর বয়সে মাকে হারান তিনি। এরপর পিরোজপুরে নানাবাড়িতে বেড়ে ওঠেন। নানা শামসুল হক গাজী ছিলেন তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভরসা ও সাহসের জায়গা। শৈশব থেকে জীবনের নানা পর্যায়ে নানার স্নেহ ও ভালোবাসা তাকে আগলে রেখেছিল। তাই জন্মদিনের আনন্দেও সেই প্রিয় মানুষটির অভাব অনুভব করেন অভিনেত্রী।
২০১৫ সালে শাহ আলম মণ্ডল পরিচালিত ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমার মধ্য দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক হয় পরীমনির। এতে তার সহশিল্পী ছিলেন জায়েদ খান। চলচ্চিত্রে অভিষেকের আগেই একাধিক সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে আলোচনায় এসেছিলেন তিনি। একই সময়ে নজরুল ইসলাম খানের ‘রানা প্লাজা’ সিনেমায় অভিনয়ের খবরও তাকে আলোচনায় রাখে। তবে সিনেমাটির মুক্তি নিয়ে জটিলতা তৈরি হয়। পরীমনির অভিনয়জীবনের উল্লেখযোগ্য কাজ গিয়াস উদ্দিন সেলিম পরিচালিত ‘স্বপ্নজাল’। সিনেমাটিতে শুভ্রা চরিত্রে অভিনয় করে প্রশংসা পান তিনি। এ ছাড়া তার অভিনীত সিনেমার তালিকায় রয়েছে ওয়াজেদ আলী সুমনের ‘রক্ত’, চয়নিকা চৌধুরীর ‘বিশ্বসুন্দরী’, আবু রায়হান জুয়েলের ‘অ্যাডভেঞ্চার অব সুন্দরবন’, গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘গুণিন’ ও অরণ্য আনোয়ারের ‘মা’।
বড়পর্দার পাশাপাশি ওটিটি প্ল্যাটফর্মেও কাজ করেছেন পরীমনি। ‘রঙিলা কিতাব’ ওয়েব সিরিজে অভিনয়ের মাধ্যমে নতুন এই মাধ্যমে নিজের উপস্থিতি জানান দেন তিনি। অন্যদিকে, কলকাতার ‘ফেলুবক্সী’ সিনেমায় অভিনয়ের মধ্য দিয়ে টালিউডেও অভিষেক হয় তার। এসব কাজের মধ্য দিয়ে অভিনয়ের পরিধি বাড়ানোর পাশাপাশি ভিন্ন ধরনের চরিত্রে নিজেকে তুলে ধরার সুযোগ পেয়েছেন এই অভিনেত্রী।
পরীমনির জনপ্রিয়তার পেছনে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেরও বড় ভূমিকা রয়েছে। ফেসবুকে তার অনুসারীর সংখ্যা ১ কোটি ৭০ লাখের বেশি। নতুন পোশাক, ফটোশুট, ভ্রমণ, ব্যক্তিগত অনুভূতি, সন্তানদের সঙ্গে কাটানো মুহূর্ত কিংবা নতুন কাজের খবর—বিভিন্ন বিষয় নিয়মিত ভক্তদের সঙ্গে ভাগাভাগি করেন তিনি। ফলে নতুন সিনেমা মুক্তি না পেলেও তাকে ঘিরে ভক্তদের আগ্রহ থাকে।
জন্মদিনের আয়োজন থেকে শুরু করে ব্যক্তিগত জীবনের নানা ঘটনা—বিভিন্ন সময়েই সংবাদমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছেন পরীমনি। কখনো তার ব্যতিক্রমী পোশাক নিয়ে আলোচনা হয়েছে, আবার কখনো সুবিধাবঞ্চিত মানুষের সঙ্গে আনন্দ ভাগ করে নেওয়ার উদ্যোগ প্রশংসিত হয়েছে। ব্যক্তিগত সম্পর্ক ও নানা বিতর্কও তাঁকে ঘিরে তৈরি করেছে আলোচনা।
তবে জীবনের নানা প্রাপ্তি ও আলোচনার ভিড়ে জন্মদিনে নানার স্মৃতিই যেন সবচেয়ে বেশি নাড়া দেয় পরীমনিকে। একসময় নানা তাকে ঘুম থেকে তুলে জন্মদিনের কেক কাটতেন। ২০২৩ সালে নানাকে হারানোর পর সেই আনন্দের মুহূর্তগুলো এখন শুধুই স্মৃতি। তবু জন্মদিনে কাছের মানুষদের নিয়ে আয়োজন করেন তিনি। আনন্দের দিনেও তাই প্রিয় মানুষটির শূন্যতা অনুভব করতে হয় তাকে।
এদিকে, নতুন একটি সিনেমায় পরীমনিকে দেখা যেতে পারে বলে জানা গেছে। এতে তার বিপরীতে অভিনয়ের কথা রয়েছে ছোটপর্দার জনপ্রিয় অভিনেতা জিয়াউল ফারুক অপূর্বর। চলতি বছরের ডিসেম্বরে সিনেমাটির শুটিং শুরুর কথা রয়েছে।




