১৮/০৪/২০২৬, ১৮:২৪ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    সারা দেশে মোবাইল দোকান বন্ধ, ভোগান্তিতে গ্রাহকরা

    জেড নিউজ:

    অবৈধ বা ক্লোন করা মোবাইল হ্যান্ডসেট বিক্রি বন্ধ ও মোবাইল ব্যবসা নিয়ন্ত্রণে আনতে সরকার বছরের প্রথম দিন থেকে ন্যাশনাল ইকুইপমেন্ট আইডেন্টিটি রেজিস্টার (এনইআইআর) ব্যবস্থা চালু করেছে। মোবাইল হ্যান্ডসেট ও গ্যাজেট বিক্রির ক্ষেত্রে সরকার এনইআইআরের উদ্যোগ নিলেও মোবাইল ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সেটি মেনে নেয়নি। এনইআইআর চালুর প্রতিবাদ ও বিটিআরসি ভবনে হামলার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ব্যবসায়ীদের মুক্তির দাবিতে সারা দেশে অনির্দিষ্টকালের জন্য দোকানপাট বন্ধ রেখেছেন মুঠোফোন ব্যবসায়ীরা। ফলে মোবাইল কিনতে এসে ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে গ্রাহকদের।

    জানা যায়, দেশে ব্যবহৃত মোবাইল হ্যান্ডসেটের ৬০ শতাংশ আন-অফিশিয়াল। এসব হ্যান্ডসেট ব্যবহার করে একটি অসাধু চক্র প্রতারণা করছে। ফলে অবৈধ ফোন বন্ধ করতে ও নিয়ন্ত্রণে নিয়ে আসতে এনইআইআর সিস্টেম চালু করেছে সরকার। তবে মোবাইল ব্যবসায়ীরা বলছেন, এর ফলে দেশের কয়েক লাখ মোবাইল ফোন বন্ধ হয়ে যেতে পারে। তাদের দাবি, এনইআইআর সংশোধন, মোবাইল আমদানিতে করহার কমানো, এনওসি প্রক্রিয়া সহজ করা, মোবাইল ব্যবসা সিন্ডিকেটমুক্ত করা।

    এসব দাবিতে দুই মাস ধরে বিটিআরসি ঘেরাও, সড়ক অবরোধ, মানববন্ধনসহ নানা আন্দোলন করে আসছেন ব্যবসায়ীরা। তাদের নেতৃত্ব দিচ্ছে মোবাইল হ্যান্ডসেট ও গ্যাজেট ব্যবসায়ীদের সংগঠন মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশ (এমবিসিবি)। ব্যবসায়ীদের আন্দোলনের মুখে গত ১০ ডিসেম্বর আইসিটি মন্ত্রণালয়, বিটিআরসি, এনবিআরসহ অন্যান্য সংস্থা ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে। সভায় আন-অফিশিয়াল ফোন বিক্রির জন্য বিক্রেতারা মার্চ পর্যন্ত সময় পাবেন বলে জানানো হয়। এর মধ্যে গ্রাহক আন-অফিশিয়াল ফোন কিনলে স্বয়ংক্রিয়ভাবে নিবন্ধিত হবে বলেও জানানো হয়।

    পূর্ব ঘোষণা মোতাবেক ১ জানুয়ারি এনইআইআর চালু করে বিটিআরসি। এর প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার বিকালে বিটিআরসি ভাংচুর করেন মোবাইল ব্যবসায়ীরা। এ সময় পুলিশ ও সেনাবাহিনী তাদের সরিয়ে দেয় এবং অভিযান চালিয়ে অর্ধশতাধিক ব্যবসায়ীকে আটক করা হয়। এ ঘটনায় বিটিআরসির লিগ্যাল অ্যান্ড লাইসেন্সিং বিভাগের সহকারী পরিচালক মুহাম্মদ আশরাফুজ্জামান জাহেদ বাদী হয়ে ৫৫ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত ৫০০-৬০০ জনকে আসামি করে শেরেবাংলা নগর থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।

    জানতে চাইলে মোবাইল বিজনেস কমিউনিটি বাংলাদেশের (এমবিসিবি) নেতৃবৃন্দ বলেন, দেশের ৬০ শতাংশ মোবাইল সরবরাহ করেন এসব মোবাইল ব্যবসায়ী। সরকার একটি নির্দিষ্ট গ্রুপকে সুবিধা দিতে এনইআইআর চালু করছে। আমরাও একটা নিয়ন্ত্রিত ব্যবসা করতে চাই। তবে সেটি করার আগে ব্যবসা করহার কমাতে হবে, আমদানির এনওসি সহজ করতে হবে। সরকার ব্যবসায়ীদের সঙ্গে আলোচনায় বসে মার্চ পর্যন্ত স্টকে থাকা অন-অফিশিয়াল ফোন বিক্রির সিদ্ধান্ত দেয় কিন্তু তার আগেই এনইআইআর চালু করলে অনেক ফোন বন্ধ হয়ে যাবে। এতে লোকসানে পড়বেন ব্যবসায়ীরা। আমাদের দাবি ছিল মোবাইল আমদানিতে করহার কমানো, এনওসি প্রক্রিয়া সহজ করা। সেখানে সরকার ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে মামলা করল, আটক করল। আগের দাবির সঙ্গে গ্রেফতারকৃতদের মুক্তিও যুক্ত হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মুক্তি না দেয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।

    কর্মসূচির প্রথমদিন রাজধানীর বসুন্ধরা সিটি শপিং মল, মোতালেব প্লাজাসহ প্রায় সব মার্কেটে মোবাইল দোকান বন্ধ ছিল। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রামে বৃহস্পতিবার থেকে সিংহভাগ মোবাইল বিক্রির ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ রয়েছে। তবে বিভিন্ন ব্র্যান্ডের নিজস্ব মোবাইল শোরুমগুলো যথারীতি খোলা ছিল। সরকারি সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে মোবাইল ব্যবসায়ীদের সংগঠনের নেয়া সিদ্ধান্তের পরিপ্রেক্ষিতে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ কর্মসূচি দেয়া হয়েছে। আজ থেকে সমিতির সদস্যরা ঢাকায় জমায়েতের ঘোষণা দিয়েছে

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়