জেড নিউজ, ঢাকা :
ইসলামি শরিয়তে নতুন বছর বা সময়ের মাঝে আলাদা করে কল্যাণ বা অকল্যাণের কিছু নেই।কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে পহেলা বৈশাখের দিন মঙ্গল-শোভাযাত্রার নামে বিভিন্ন শিরকি কার্যকলাপের মাধ্যমে বর্ষবরণ করা হচ্ছে, যা সম্পূর্ণভাবে ইসলামবিরোধী কালচার। তাই কোনো মুসলিম নিজেকে ইসলামের অনুসারী দাবি করার পর এসব কাজের সাথে যুক্ত হওয়া কিংবা সমর্থন যোগাতে পারে না।
কারণ, হাদিসে রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি অন্য জাতির সঙ্গে আচার-আচরণে, সভ্যতা-সংস্কৃতিতে সামঞ্জস্য গ্রহণ করবে সে তাদের দলভুক্ত বলে বিবেচিত হবে।’ (আবু দাউদ : ৪০৩১)
অন্য হাদিসে এসেছে, রাসুল (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি এমন কোনো আমল (বিশ্বাস পোষণ) করবে, যে বিষয়ে আমার অনুমোদন নেই, তা প্রত্যাখ্যাত হবে।
আল্লাহ তায়ালা বলেন ,‘যে ব্যক্তি ইসলাম (ইসলামী রীতিনীতি) ছাড়া অন্যকোনো ধর্মের অনুসরণ করবে, কখনো তার সেই আমল গ্রহণ করা হবে না। আর পরকালে সে ক্ষতিগ্রস্তদের অন্তর্ভুক্ত হবে।’
অন্য আয়াতে ইরশাদ হয়েছে, ‘প্রত্যেক জাতির জন্য আমি একটি নির্দিষ্ট বিধান এবং সুস্পষ্ট পথ নির্ধারণ করেছি।’ (সুরা মায়েদা : ৪৮)
নববর্ষে ইসলামবিরোধী কিছু কাজ
১. আকিদাগত বিচ্যুতি
পহেলা বৈশাখের প্রধান আকর্ষণ হিসেবে বর্তমানে ‘মঙ্গল শোভাযাত্রা’ বা ‘বৈশাখী শোভাযাত্রা’-কে প্রচার করা হয়। এখানে বিভিন্ন পশুপাখির প্রতিকৃতি ও মূর্তির প্রদর্শন করা হয় এবং বিশ্বাস করা হয় যে, এগুলো অমঙ্গল দূর করবে। অথচ ইসলামি আকিদা অনুযায়ী, একমাত্র আল্লাহ তায়ালা ব্যতীত অন্য কোনো বস্তু বা মূর্তি কল্যাণ বা অকল্যাণ (মঙ্গল বা অমঙ্গল) বয়ে আনার ক্ষমতা রাখে না। এ ধরনের বিশ্বাস সরাসরি শিরকের অন্তর্ভুক্ত।
২. অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা
পহেলা বৈশাখে খুব ভোরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাইন্স ইনস্টিটিউট থেকে শুরু করে রমনা পার্কে গিয়ে সূর্যের প্রথম প্রহর উপভোগ করে। এবং বিশ্বাস করা হয় ‘মুছে যাক গ্লানি, ঘুচে যাক জরা/অগ্নিস্নানে শুচি হোক ধরা’, অর্থাৎসূর্যের প্রখর আলোয় বা আগুনে স্নান প্রকৃতির জীর্ণতা, পুরোনো বছরের সব ব্যর্থতা ও ক্লান্তি দূর করে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর প্রতীক। নাউজুবিল্লাহ। যা হিন্দু সম্প্রদায়ের একটি বিশ্বাস
৩. বৈজ্ঞানিক যুক্তি বনাম অন্ধবিশ্বাস
যারা আধুনিকতা ও বিজ্ঞানের দোহাই দিয়ে ইসলামকে পুরনো প্রথা বলে মনে করেন, তারাই আবার নির্জীব প্রতিকৃতির পেছনে মঙ্গল কামনায় মিছিল করছেন, এটি একটি চরম বৈপরীত্য। ইসলাম আমাদের অযৌক্তিক কুসংস্কার ত্যাগ করে একমাত্র সৃষ্টিকর্তার ওপর ভরসা করতে শেখায়।
৪.পর্দা লঙ্ঘন
পহেলা বৈশাখকে কেন্দ্র করে মেলা ও র্যালিতে নারী-পুরুষের অবাধ মেলামেশা (ফ্রি মিক্সিং) চরম আকার ধারণ করে। ইসলামি শরিয়তে যা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।



