জেড নিউজ ডেস্ক:
কয়েক হাজার কর্মী ছাঁটাই করতে যাচ্ছে মেটা। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, আগামী মাসের মধ্যে প্রায় ৮ হাজার কর্মী ছাঁটাই করার পরিকল্পনা করা হচ্ছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এনডিটিভির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
সূত্রের বরাতে রয়টার্স জানিয়েছে, প্রতিষ্ঠানটি চলতি বছরের প্রথম ধাপের বড় আকারের ছাঁটাই ২০ মে থেকে শুরু করতে যাচ্ছে। পরবর্তীতে আরও কর্মীদের ছাঁটাই করতে পারে। একটি সূত্র জানিয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের মালিকানায় থাকা প্রতিষ্ঠানটি প্রথম ধাপে তাদের বৈশ্বিক কর্মীবাহিনীর প্রায় ১০ শতাংশ অর্থাৎ প্রায় ৮,০০০ কর্মী ছাঁটাই করবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের দ্বিতীয়ার্ধে আরও ছাঁটাই হতে পারে। যদিও এর তারিখ ও পরিমাণ এখনো নির্ধারিত হয়নি। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) অগ্রগতির ওপর ভিত্তি করে পরিকল্পনায় পরিবর্তন আসতে পারে। এর আগে রয়টার্স জানিয়েছিল, মেটা তাদের মোট কর্মীর ২০ শতাংশ বা তারও বেশি ছাঁটাই করতে পারে।
এনডিটিভি জানিয়েছে, এই বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হয়নি মেটা।
কোম্পানির কার্যক্রমকে নতুনভাবে সাজাতে প্রতিষ্ঠানটির সিইও মার্ক জাকারবার্গ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় ব্যাপক বিনিয়োগ করছেন। প্রযুক্তি খাতে যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বড় কোম্পানিগুলোর মধ্যেও একই প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
উদাহরণ হিসেবে, অ্যামাজন সম্প্রতি প্রায় ৩০ হাজার করপোরেট কর্মী ছাঁটাই করেছে। এছাড়া ফেব্রুয়ারিতে ফিনটেক কোম্পানি ব্লক, আইএনসি তাদের প্রায় অর্ধেক কর্মী ছাঁটাই করেছে। এই দুই ক্ষেত্রেই এআইনির্ভর দক্ষতা বৃদ্ধিকে কারণ হিসেবে দেখানো হয়েছে।
চাকরি ছাঁটাই পর্যবেক্ষণকারী ওয়েবসাইট লেঅফ.এওয়াইআই জানিয়েছে, চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ৭৩ হাজার ২১২ কর্মী চাকরি হারিয়েছেন। ২০২৪ সালে এই সংখ্যা ছিল ১ লাখ ৫৩ হাজার। ২০২২ সালের শেষে ইয়ার অব ইফিশিয়েন্সি পুনর্গঠনের পর এটিই সবচেয়ে বড় ছাঁটাই হতে যাচ্ছে। ওই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২১ হাজার কর্মী ছাঁটাই করেছিল। বর্তমানে কোম্পানির আর্থিক অবস্থা আগের তুলনায় ভালো হলেও, ব্যবস্থাপনা স্তর কমানো এবং এআইনির্ভর দক্ষতা বাড়ানোর লক্ষ্যেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
ক্যালিফোর্নিয়ার মেনলো পার্ক-ভিত্তিক এই কোম্পানিতে সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী প্রায় ৭৯,০০০ কর্মী কাজ করছেন। সম্প্রতি মেটা তাদের রিয়েলিটি ল্যাবস বিভাগে পুনর্গঠন করেছে এবং বিভিন্ন দল থেকে ইঞ্জিনিয়ারদের নিয়ে ‘অ্যাপ্লায়েড এআই’ নামে নতুন একটি ইউনিট গঠন করেছে। এটি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কোড লিখতে ও জটিল কাজ সম্পন্ন করতে সক্ষম এআই এজেন্ট তৈরিতে কাজ করবে।



