আমিরুল ইসলাম কাগজী
ভারত, যেখানে সবাই নারী অধিকার এবং গণতন্ত্রের কথা বলে, সেখানে আফগান তালেবান সরকারের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকির সংবাদ সম্মেলনে নারী সাংবাদিকদের ঢুকতে না দেওয়ার ঘটনা একটা বড় লজ্জার বিষয়। এই ঘটনা ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ঘটে, যেখানে ভারত সরকার সেই বৈষম্যের বিরুদ্ধে এক কথাও বলেনি।
কংগ্রেস নেত্রী প্রিয়ঙ্কা গান্ধী, তৃণমূল কংগ্রেসের মহুয়া মৈত্রসহ অনেকেই প্রতিবাদ করলেও সরকার নীরব রয়েছে। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এ বিষয়ে তাদের কোনো ভূমিকা ছিল না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, যদি না থাকে ভূমিকা, তাহলে বৈষম্যের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করা তো তাদের দায়িত্ব ছিলই!
নারী সাংবাদিকেরা বার বার প্রতিবাদ করলেও, ভারত সরকারের পক্ষ থেকে কোনো কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। এতে বোঝা যায়, নারীর মর্যাদা ভারত সরকারের কাছে কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
যেখানে ভারতে নারীরা নিজেদের সাফল্যে গর্ব করেন, সেখানে বিদেশি অতিথির কারণে নারীদের এমন অবমাননা হয়—এটা একদমই মেনে নেওয়া যায় না। পুরুষ সাংবাদিকদেরও উচিত ছিল প্রতিবাদ জানানো, কিন্তু তারা চুপ ছিল।
এই ঘটনায় শুধু আফগান তালেবান সরকারের না, ভারতের নিজস্ব সরকারেরও সমালোচনা হওয়া উচিত। কারণ তারা নারী অধিকার রক্ষায় নীরব থেকে সাময়িক রাজনীতির কাছে নিজেদের সামলিয়েছে।
ভারত কি এভাবেই নারীর অধিকারকে উপেক্ষা করবে? এটা ভাবার বিষয়।


