০৫/০৫/২০২৬, ১৭:২১ অপরাহ্ণ
    spot_img

    এ সপ্তাহের সেরা

    সম্পর্কিত পোস্ট

    জামিনের প্রলোভনে অর্থ হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে ভুয়া আইনজীবী আটক

    মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি:
    হত্যা মামলার আসামীকে জামিন পাইয়ে দেয়ার প্রলোভনে লক্ষাধিক টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগে মানিকগঞ্জে এক ভুয়া আইনজীবীকে আটক করা হয়েছে।রবিবার বেলা তিনটার দিকে মানিকগঞ্জ আদালত চত্বর থেকে তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করেছে জেলা আইনজীবী সমিতির কয়েকজন সদস্য ও ভুক্তভোগীর স্বজনরা।

    আটককৃত স্বপন মিয়া মানিকগঞ্জের দৌলতপুরের মীর হাটাইল গ্রামের নাজিমুদ্দিনের ছেলে।

    বগুড়া জেলার ধনুট উপজেলার ভান্ডারবাড়ী গ্রামের শাকিল হাসান নামের এক আসামি দীর্ঘদিন যাবৎ একটি হত্যা মামলায় মানিকগঞ্জ কারাগারে রয়েছে। শাকিল হাসানের মাকে নানাভাবে ভুল বুঝিয়ে ভুয়া আইনজীবী স্বপন এ পর্যন্ত প্রায় এক লক্ষ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয়। বিনিময়ে হাইকোর্ট থেকে শাকিলের জামিনের ব্যবস্থা করার আশ্বাস দেয়। এরইমধ্যে কয়েকবার শাকিল এর জামিন হয়ে গেছে বলে পরিবারের সদস্যদের থেকে অতিরিক্ত টাকা নিয়ে জেলগেটে গিয়ে অপেক্ষা করতে বলে।

    স্বপনের কথামতো শাকিল এর মা জেল গেটে অপেক্ষা করে যখন জানতে পারে শাকিলের জামিন হয়নি তখন তিনি অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান। কিছুদিন পূর্বে আবারো শাকিল এর জামিনের কথা বলে তার মা ও খালার কাছে ২৫ হাজার টাকা চায় প্রতারক স্বপন মিয়া।

    গতকাল দুপুরে শাকিল এর খালা মর্জিনা বেগম ২৫ হাজার টাকা দেয়ার কথা বলে স্বপনের সাথে দেখা করতে চায়। এ সময় স্বপন বলে, শাকিল এর জামিনের ব্যবস্থা হয়ে গেছে অলরেডি হাইকোর্ট থেকে বেলবনের কাগজ চলে এসেছে। আপনারা এখন টাকা দিলেই শাকিল এর জামিন হয়ে যাবে। কিন্তু শাকিল এর খালা টাকা না দিয়ে ওই কাগজের সত্যতা যাচাই করার জন্য ভুয়া আইনজীবী স্বপন মিয়াকে সাথে নিয়ে মানিকগঞ্জ জেলা জজ কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুবের চেম্বারে গেলে আইনজীবী কাগজপত্র চেক করে জানায় এই কাগজ সম্পূর্ণ ভুয়া। এতে শাকিল এর পরিবারের সদস্যরা হাইকোর্টের আইনজীবী পরিচয় দেয়া স্বপন মিয়ার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠে এবং অবিলম্বে সকল টাকা ফেরত দেয়ার দাবি জানায়।

    এক পর্যায়ে আইনজীবী ও গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে নিজের অপরাধের কথা স্বীকার করেন হাইকোর্টের আইনজীবী পরিচয় দেয়া প্রতারক স্বপন মিয়া।

    মানিকগঞ্জ জেলা জজকোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মাহবুব বলেন, হাইকোর্টের ভুয়া ডকুমেন্ট তৈরি করে স্বপন মিয়া অপরাধ করেছে এবং প্রতারণা করেছে যা একটি ফৌজদারি অপরাধ। পরে পরিবারের সদস্যরা স্থানীয় থানায় ফোন দিয়ে স্বপন মিয়াকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করে।

    LEAVE A REPLY

    Please enter your comment!
    Please enter your name here

    জনপ্রিয়